৯ ঘণ্টা ঘুরেও চিকিৎসা পেলেন না প্রসব বেদনায় কাতরানো তরুণী!

প্রকাশিত: ১১:১০ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২৫, ২০২০

রাজধানীতে তিন হাসপাতালে ৯ ঘণ্টা ঘুরেও চিকিৎসা পেলেন না প্রসব বেদনায় কাতরাতে থাকা ১৯-২০ বছরের অন্তঃসত্ত্বা এক তরুণী। করোনাভাইরাসের আতঙ্কে সবাই তাকে ফিরিয়ে দেন। পরে সন্ধ্যার পর তানিয়া নামের ওই তরুণীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

গতকাল শুক্রবার সকালে হঠাৎ করেই প্রসব বেদনা উঠলে তাকে প্রথমে মোহাম্মদপুরের সরকারি মাতৃসদন ও শিশু স্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু করোনার কারণে সেখানে ডেলিভারি সেবা আপাতত বন্ধ রয়েছে। পরে তাকে ইস্কাটনের আদ-দ্বীন হাসপাতালে নেয়া হয়। গায়ে হালকা জ্বর থাকায় সেখানকার চিকিৎসকরাও ফিরিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত আজিমপুর মাতৃসদন ও শিশু স্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে নিয়ে আসলে তারাও চিকিৎসা দিতে অস্বীকৃতি জানায়।

এ সময় তানিয়ার সঙ্গে ছিলেন তার স্বামী শিপন ও একজন ফুফু। তারা দুজনই সারাদিন অন্তঃসত্ত্বা এই তরুণীকে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। কিন্তু কোথাও চিকিৎসা পাননি। সব জায়গা থেকেই ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে।

গতকাল পেশায় প্রাইভেটকার চালক শিপন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তাদের বাসা ধানমণ্ডিতে। স্ত্রীর ডেলিভারি ও চেকআপের জন্য দুই মাস আগেই মোহাম্মদপুরের সরকারি মাতৃসদন ও শিশু স্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে চিকিৎসা করাবেন বলে কার্ড করে রেখেছিলেন। ডেলিভারির ডেট দেয়া ছিল আগামী ৩ মে। কিন্তু আজ সকাল ৯টার দিকে হঠাৎ করেই প্রসব বেদনা শুরু হয়। তাই সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়।

কিন্তু করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে সেখানে ডেলিভারি সেবা আপাতত বন্ধ। পরে স্ত্রীকে প্রসব বেদনায় কাতরাতে দেখে দ্রুত তাকে ইস্কাটনের বেসরকারি আদ-দ্বীন হাসপাতালে নিয়ে যান। টিকেট কেটে যাওয়ার পর চিকিৎসকরা তানিয়ার শরীরে জ্বর দেখে ফিরিয়ে দেন। তখন ওই হাসপাতালের এক নিরাপত্তারক্ষীর পরামর্শে স্ত্রীকে আজিমপুর মাতৃসদনে নিয়ে আসেন।

তিনি বলেন, এখানকার জরুরি বিভাগ টিকিট পর্যন্ত কাটতে দেয়নি। তারা চিকিৎসা দেবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয়। একই সঙ্গে এটাও বলে দেয় যে, যেখানে কার্ড করেছিলেন সেখানে নিয়ে চিকিৎসা করাতে।

এদিকে স্ত্রীর যন্ত্রণাও বেড়ে যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত ফুফুকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দিকে ছুটে যান এই অসহায় স্বামী।

এমএম/পাবলিকভয়েস

মন্তব্য করুন