সরকারি ক্রয় বিধিমালায় সংশোধন চায় ঠিকাদারেরা

প্রকাশিত: ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২৫, ২০২০

সারাবিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের জন্য ২০১৯-২০ অর্থবছরের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড ব্যাহত হচ্ছে। এমতাবস্থায়, সরকারি উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করতে এবং করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট ক্ষতি মোকাবেলায়, সরকারি কাজে অংশগ্রহণকারী ঠিকাদারদের সংগঠন, বাংলাদেশ গভর্নমেন্ট টেন্ডারার্স ফোরাম (বিজিটিএফ) সরকারি ক্রয় বিধিমালা-২০০৮ (পিপিআর-২০০৮)-এ কিছু সংশোধন দাবী করেছে।

সংগঠনটি জানান, করোনা ভাইরাসের কারণে অডিটর জেনারেলের কার্যালয় থেকে অর্থ ছাড় না পাওয়ায় অনেক ঠিকাদার অর্থ সংকটে ভূগছে। এর প্রেক্ষিতে বিজিটিএফ সম্পাদিত কাজের বিল অতিদ্রুত দেওয়া জন্য আহ্বান জনান। তদুপরি চলমান কাজগুলো বন্ধ থাকার কারণে ঠিকাদারদের নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ সব ঠিকাদারদের মধ্যে অনেকে উচ্চহারে ব্যাংক সুদ গুনতে হচ্ছে। অধিকিন্তু, ব্যাংকগুলো স্বল্পপরিসরে তাদের কার্যক্রম পরিচালনার কারণে অনেক ঠিকাদার সাম্প্রতিক আহ্বানকৃত দরপত্রে অংশগ্রহণ করতে পারছেনা।

যার কারণে নির্মাণ খাতে নিয়োজিত প্রায় ২০ লাখ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে এবং মজুরি না পেয়ে তাঁরা তাদের পরিবারের সাথে অত্যন্ত দুরবীসহ জীবন কাটাচ্ছে। একই সাথে, ঠিকাদারেরা আর্থিক সংকটে থাকার কারণে বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা সহ অন্যান্য সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। এমনকি, নির্মাণ ও ক্রয় কার্যক্রম বন্ধ থাকার কারণে সরকার ঘোষিত ৭২,০০০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে তাঁরা কাঙ্খিত সুবিধা নিতে পারবে না। উপরোক্ত বিষয়গুলো বিবেচনা করে, সমস্যাগুলো সমাধানের দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিজিটিএফ বৃহস্পতিবার সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিট (সিপিটিইউ)-এর সাথে একটি ভার্চুায়াল সভায় সিপিটিইউ-কে এই আহ্বান জানান।

উক্ত সভায়, সিপিটিইউ-এর মহাপরিচালক মোহাম্মদ শোহেলের রহমান চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সিপিটিইউ পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও সমন্বয়) শীষ হায়দার চৌধুরী, ডিআইএমএপিপি-এর প্রধান প্রকল্প ব্যবস্থাপনা পরামর্শক মোস্তা গাউসুল হক, সিপিটিইউ-এর সিনিয়র কমিউনিকেশন্স কনসালটেন্ট মোঃ শফিউল আলম, বিজিটিএফ-এর আহ্বায়ক ও এলজিইডি-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আবদুস সাত্তার এবং বিজিটিএফ সদস্য সচিব ও মোজাহার এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মোজাহারুল হক উক্ত সভা বক্তব্য রাখেন।

বাংলাদেশ সেন্টার ফর কমিউনিকেশন পোগ্রাম্স (বিসিসিপি) সভাটি আয়োজন করেন। শোহেলের রহমান জানান বিশ্বব্যাপী, কোভিড ১৯-এর জন্য পিপিআর ২০০৮-এ প্রয়োজনীয় সংশোধন করার পদক্ষেপ গ্রহণ করছে এবং আমাদের সরকারও তা বিবেচনা করবে। কোভিড-১৯ মহামারীর জন্য দীর্ঘ সরকারি ছুটি অনুধাবন করে, প্রাথমিক পর্যায়ে সিপিটিইউ কিছু অগ্রিম পদক্ষেপ নিয়েছিল। এই পদক্ষেপগুলোর মধ্যে ই-জিপি হেল্প ডেস্ক টিমের সদস্যদের যেকোন সমস্যা জরুরি ভিত্তিতে সমাধানের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘বিজিটিএফ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম, যেখানে সহজেই সমস্যার সমাধানের জন্য ক্রয়কারী সংস্থা এবং দরপত্রদাতাদের মধ্যকার সম্পর্ককে আরও সহজ করবে এবং সিপিটিইউ এই বিষয়ে সবধরনের সয়হতা দিচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও দিবে।

কোভিড -১৯ এর জন্য সাধারণ ছুটির কারণে সারাদেশে অনেক অবকাঠামো নির্মাণ কাজ অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে যা গুরুতর সমস্যা সৃষ্টি করেছে। “আমরা এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহন করবো।’ অন্যান্যের মধ্যে উক্ত সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, বিল্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস আরা বেগম এবং বেসিস এর সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবির।

এমএম/পাবলিকভয়েস

মন্তব্য করুন