রমযানে করোনা থেকে দুর্ভিক্ষেই বেশি ভয় খেটে খাওয়া মানুষের

প্রকাশিত: ৪:১১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৩, ২০২০

বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম ভিন্ন এক রমযানকে স্বাগত জানাবে মুসলমানরা। করোনা মহামারীতে বিশ্ব যখন বিপর্যস্ত, তখনই দরজায় কড়া নাড়লো রহমত, বরকত ও নাজাতের মাস রমযানুল মোবারক। যে মাসকে ঘিরে মুসলমানের মাঝে আনন্দের আমেজ সৃষ্টি হয়, সেই মাস হতে চলেছে বিষাদের মাস। অসংখ্য মানুষ হয়ত শুধু পানি খেয়েই সাহরী ও ইফতার করবে এবার।

সারাবিশ্বে একই দৃশ্য। একদিকে করোনা প্রতিরক্ষা অন্যদিকে দুর্ভিক্ষের ছোবল। বাংলাদেশের অবস্থা বলার অপেক্ষা রাখে না। করোনা থেকে দুর্ভিক্ষেই বেশি ভয় খেটে খাওয়া মানুষের। বলার মতো ত্রাণ পাচ্ছে না তারা। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা যেভাবে চুরির মহাউৎসব পালন করছেন তাতে গরীবরা আরও ভয়াবহ পরণতির মুখোমুখি দাঁড়াবার শঙ্কা আছে।

অপরদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য হুহু করে বাড়াচ্ছে সিন্ডিকেটধারী অসাধু ব্যবসায়ীরা। কঠিন এই মুহূর্তেও যেন তাদের মানবিক হতে নেই!

মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন, “তোমাদের ওপর রোযা ফরজ করা হয়েছে, যেভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর করা হয়েছিল, যাতে তোমরা মুত্তাকী হতে পারো” রমযানের রোযার মাধ্যমে মানুষ পাপকে পূণ্যতে পরিণত করার মহাসুযোগ পায়। মুত্তাকী হওয়ার মাস এই রমযান মাস। কিন্তু আমরা রমযানের শিক্ষা নিতে পারছি না। মুত্তাকী হওয়ার সুযোগকে অধিক মুনাফা আদায়ে বরণ করছি!

রোযাদারের খেদমত করাও ইবাদাত। কিন্তু এই দেশে রোযাদারকে চিপতে চিপতে মেরে ফেলতে চায় ব্যবসায়ীরা। সারাবছর গুদামজাত করে রমযানে বাজারমূল্য চড়া করে ফেলে। বিশ্বের মুসলিম রাষ্ট্রগুলো রমযান এলে পাল্লা দিয়ে দ্রব্যমূল্য কমায় রোযাদারের খেদমতের জন্য, আর বাংলাদেশে পাল্লা দিয়ে বাজারমূল্য বাড়ানো হয়।

সব জিনিসের দাম রমযানে বাড়তি থাকে। দুই নাম্বারী আর পঁচা দ্রব্যও হজম করতে হয় রোযাদারদের। সরকার এ ব্যাপারে আন্তরিক হয়ে পদক্ষেপ নিলে প্রশংসিত হবেন।

প্রতিবছরের কথা বাদ দিলেও এবার চুপ থাকার সুযোগ নাই। করোনার এই মহাসঙ্কটে ব্যবসায়ীরা যদি মানবিক না হতে পারে, তাহলে এদেশে করোনা আসার প্রয়োজন নেই, জাতির দুর্দশায় অসাধু ব্যবসায়ীরাই যথেষ্ট। রমযানের বাকি দুই/তিনদিন, এখনই রমযানের বাজারে যাওয়া যাচ্ছে না৷ সব জিনেসের কয়েকগুণ বাড়িয়ে দাম হাঁকা হচ্ছে! সরকার কঠোর পদক্ষেপ না নিলে রমযানেই মহাদুর্ভিক্ষের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

করোনা ও লকডাউনের এই বিপদকালীন সময়ে খেটে খাওয়া মানুষের স্বার্থে সরকারকে কার্যকরী ভূমিকা নিতে হবে। ওলামায়ে কেরাম ও বিভিন্ন সেবাসংস্থা দান-অনুদানে এগিয়ে এলেও চোখে পড়ার মতো সরকারী কোনো অনুদান দেখা যায়নি এখনও। অন্তত রমযানে প্রত্যেক গরীব-অসহায় পরিবারে হাসি লেগে থাকুক। সরকার চাইলে কোনো পরিবারই না খেয়ে থাকবে না ইনশাআল্লাহ।

সম্পাদকীয়/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন