বাংলা নববর্ষকে অশুভ শক্তির হাত থেকে রক্ষা করতে হবে

প্রকাশিত: ১০:৪১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৩, ২০২০

শেখ ফজলুল করীম মারুফ :

(এক) কোন দেশের সংস্কৃতি ব্যাখ্যা করতে “আইসবার্গ থিওরি” বলে একটি চমৎকার থিওরি আছে। আইসবার্গ বা হিমবাহের বড় একটি অংশ পানির নিচে থাকে আর তুলনামূলক অনেক ছোট একটি অংশ উপরে দৃশ্যমান থাকে। তেমনি মানব জীবনে সংস্কৃতি হলো হিমবাহের উপরের অংশ। আর সেই সংস্কৃতির নিচে বিশাল কিছু লুকায়িত থাকে।

সংস্কৃতি হলো, মানুষের আচার সমষ্টি। এটা হলো হিমবাহের ওপরের অংশ। এর নিচে আড়ালে থাকে সমাজ সম্পর্কে, মানুষ সম্পর্কে, জীবন সম্পর্কে ব্যক্তির দৃষ্টিভঙ্গি। একই সাথে মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক, প্রকৃতির সাথে সম্পর্ক, উৎপাদন ব্যবস্থা ও প্রাকৃতিক পরিবেশও আচার-প্রথা নির্ধারনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটা হিমবাহের দ্বিতীয় স্তর যা Surface Level এর সাথেই তবে নিচে থাকে।

এরও নিচে তৃতীয় আরেকটি অংশ আছে। সেটাই দ্বিতীয় স্তর নির্ধারণ করে দেয়। সেই তৃতীয় অংশ হলো, মূল্যবোধ বা ঔচিত্যবোধ। কোনটা করা উচিৎ, কোনটা উচিৎ না। জীবন সম্পর্কে, জগৎ সম্পর্কে ধারনা ও পারস্পরিক সম্পর্ক, প্রকৃতির সাথে সম্পর্ক ইত্যাদি সকল কিছু এই মূল্যবোধের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হয়।

এই মূল্যবোধের ভিত্তিতে কেউ জীবনকে দেখে বস্তুবাদী দৃষ্টিতে আরেকজন দেখে ক্ষণস্থায়ী আবাস হিসেবে। ফলে তাদের দুইজনের আচার-আচরণ ও প্রথা দুই রকম হয় এটা একটা সত্য তথ্য। এই মূল্যবোধের ভিত্তিতেই কেউ সমাজকে দেখে  Individualistic বা ব্যক্তিবাদী দৃষ্টিতে আবার কেউ দেখে Collectivism এর দৃষ্টিতে। ফলে তাদের সংস্কৃতির মাঝে আকাশ-পাতাল পার্থক্য হতে বাধ্য।

আর চতুর্থ বা মুল অংশ হলো, ধর্ম। যা মানুষের মূল্যবোধ তৈরী করে দেয়। আইসবার্গ থিওরির এই অংশ কেউ কেউ মানতে চাইবে না। তারা তৃতীয় স্তরে এসেই শেষ করবে। কিন্তু মূল্যবোধ কি করে তৈরী হয় সেই প্রশ্ন হয় তারা হয় এড়িয়ে যাবে অথবা অযৌক্তিক উত্তর দেবে। সত্য হলো, জীবনবোধ, সমাজবোধ ও পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণের ক্ষেত্রে মূল্যবোধ তৈরীর একমাত্র উৎস হলো ধর্ম। হ্যা! প্রকৃতির সাথে সম্পর্ক, প্রাকৃতিক অবস্থা, উৎপাদন ব্যবস্থা ও আরো কিছু ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা ও চেষ্টা-ভ্রান্তি-পুনঃচেষ্টা পদ্ধতি মূল্যবোধ তৈরী করতে পারলেও জীবনবোধ সম্পর্কে, খাদ্যাভাস সম্পর্কে এবং পারস্পারিক সম্পর্ক নির্ধারণে ধর্মই একমাত্র মূল্যবোধ তৈরী করে। শুকর খাওয়া হবে কি হবে না, কাকে বিয়ে করা যাবে বা যাবে না এবং পুনরুত্থান হবে কি হবে না এই সম্পর্কিত ধারনা ও মূল্যবোধ তৈরীতে ধর্মই একমাত্র উপাদান।

সাংস্কৃতিক বৈচিত্র ও ভিন্নতা ব্যাখ্যা করতে এই আইসবার্গ থিওরিই সবচেয়ে কার্যকর। এছাড়া ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতি ও তার কারণ ব্যাখ্যা করা যায় না। আইসবার্গ থিওরির প্রতিটি স্তরের সামঞ্জস্য থাকা অপরিহার্য। কোথাও অসামঞ্জস্য দেখা গেলে বুঝতে হবে, নিশ্চই এই সংস্কৃতিতে বহিরাগত মতলবি হস্তক্ষেপ ঘটেছে।

এখন এই তত্ত্ব অনুসারে যদি আমরা বাঙ্গালী সংস্কৃতি নির্ধারণ করতে যাই তাহলে স্পষ্টতই এই সময়ের কথিত অনেক আচার-অনুষ্ঠান ও প্রথাকেই বাঙ্গালী সংস্কৃতি বলা যায় না। আদতেও সেগুলো বাঙ্গালী সংস্কৃতি না।

কারণ, ইতিহাস একমত যে,সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ-ই প্রথম (১৩৪২-১৩৫৭)  বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলকে ঐক্যবদ্ধ করেন এবং তিনি এই ঐক্যবদ্ধ রাজ্যকে “বাঙ্গালা” হিসেবে নতুন নামকরণও করেছিলেন। তিনি নিজে  শাহ-ই-বাঙ্গাল উপাধি ধারণ করেন। এর আগে বাংলা বলে কোন রাজনৈতিক বাস্তবতা ছিলো না।

তারমানে হলো, যবে থেকে বাংলা একটি রাজনৈতিক বাস্তবতা তখন থেকে বাংলার শাসন ক্ষমতায় মুসলমানগন। এবং তারও প্রায় ২০০ বছর আগে থেকেই বাংলার মানুষ মুসলমান। অর্থাৎ বাংলা একটি রাজনৈতিক একক ও জাতিগত একক হয়ে দাড়িয়েছে ইসলামের হাত ধরেই। হ্যাঁ, এর আগেও এখানে মানুষ ছিলো, তাদের সংস্কৃতিও ছিলো। কিন্তু সেটা বাঙ্গালী সংস্কৃতি নয়।

(দুই) ইসলাম বাংলাকে একটি রাজনৈতিক বাস্তবতা হিসেবে দাড় করানো পাশাপাশি বাংলা ভাষাকে পৃষ্ঠপোষকতা করেছে, বাংলা সনের প্রবর্তন করেছে এবং বাঙ্গালীর মধ্যে জাতিত্ববোধ তৈরী করেছে। বাংলার মুসলমান তার জাতিত্ববোধে এতোটাই সচেতন ছিলো যে, নিত্য ব্যবহার্য বহু ক্ষেত্রে তারা শব্দও ভিন্ন প্রয়োগ করেছে। পানি ও জলের মধ্যে পার্থক্য কেবলই জাতিত্ববোধের।

সেই বাঙ্গালীর সংস্কৃতিতে তার ধর্মীয় চেতনার বাহিরে কিছু থাকার কথা না। আর ধর্মের সাথে সাংঘর্ষিক কিছু থাকা তো অসম্ভব। এটা তত্ত্ব, যুক্তি ও তথ্য দ্বারা প্রমানিত। সাম্প্রতিক যারা হিন্দুয়ানী ছাঁচে নানা উৎসব আয়োজন করে সেগুলোকে বাঙ্গালীর সার্বজনীন সংস্কৃতি বলে চালানোর চেষ্টা করছে তারা সংস্কৃতি, বাঙ্গালীর ইতিহাস, তত্ত্ব, যুক্তি ও তথ্যের বিরুদ্ধে দাড়িয়ে ১৮ শতকের হিন্দুত্ববাদী রেঁনেসার অন্ধ দাসত্ব করছে।

সাম্রাজ্যবাদী ইংরেজ আগ্রাসনে বাংলার ভাগ্যাকাশে পরাধীনতার অভিশাপ নেমে আসার পরে ১৮ শতকে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রমুখের নেতৃত্বে বাংলায় একটি হিন্দুত্ববাদী জাগরণ হয়। সেই জাগরণে সচেতনভাবে ইতিহাস বিকৃত করা হয় এবং হানাদার ইংরেজ সাম্রাজ্যবাদের পদলেহন করে পাওয়া জমিদারী ব্যবহার করে বাংলার কৃষকদের নিষ্পেষণ করে গড়ে তোলা সম্পদ দিয়ে তৈরী করা হয় কলকাতাকেন্দ্রিক একটি কৃত্রিম বাঙ্গালী সংস্কৃতি।

সাম্রাজ্যবাদী ইংরেজদের সহায়তা নিয়ে গড়ে তোলা সেই কৃত্রিম বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির সাথে বাংলার হাজার বছরের সাহিত্য ও সংস্কৃতির কোন সংস্পর্শ নেই এবং তার সাথে বাংলার মানুষের কোন সংযোগ নেই।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভাষার বিবেচনায় বাংলার শ্রেষ্ঠ কবি হলেও বাঙ্গালীর সাথে তার প্রাণের সম্পর্কতো ছিলোই না বরং ছিলো শোষক আর শোষিতের সম্পর্ক। একজন জমিদার হিসেবে তিনি পূর্ববাংলাকে ও পূর্ববাংলার মানুষকে শোষন করেছেন।সেজন্যই রবীন্দ্রনাথের কবিতায় বাংলার প্রকৃতির কথা থাকলেও নেই বাংলার মানুষের কথা। এমনকি আমার সোনার বাংলা কবিতাতে নেই বাংলার মানুষের কথা।

সেই রবীন্দ্রনাথ ও তার শান্তিনিকেতনের কৃত্রিম সংস্কৃতিকে যারা বাঙ্গালীর সংস্কৃতি বলে প্রচার করেন তারা হয়তো নিরেট মুর্খ অথবা তারা সাম্রাজ্যবাদের একনিষ্ঠ দালাল। সাম্প্রতিক পয়লা বৈশাখ নিয়ে যে মিথ্যাচার হয় তার নজীর মেলা দুরূহ।

ইতিহাসের সকল সূত্র একমত যে, ১৯৮৫ সালে যশোরে প্রথম বৈশাখী শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রা ঢাকায় প্রথম হয় ১৯৮৯ সালে। যার নাম ছিলো আনন্দ শোভাযাত্রা। পরে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এর নামকরণ করা হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা। মঙ্গল শোভাযাত্রার পেছনে যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিলো সেটা আয়োজকরা বিবিসি বাংলার সাথে সাক্ষাৎকারে গর্বের সাথে স্বীকারও করেছে।

সেই মঙ্গল শোভাযাত্রায় মুর্তি ও দেব-দেবীর বাহন ইত্যাদি নিয়ে পশ্চিমা ও আফ্রিকান বন্যদের মতো নেচে-কুঁদে সড়ক প্রদিক্ষণ করে সুর্য ও বৈশাখের কাছে মঙ্গল কামনা করে। এবং তত্ত্ব, তথ্য ও যুক্তির মাথা খেয়ে নির্লজ্জের মতো এটাকে বাঙ্গালীর সংস্কৃতি বলে দাবী করে। কোন কোন মুর্খ এটাকে হাজার বছরের বাঙ্গালী সংস্কৃতি বলেও আখ্যায়িত করে।

যে বাঙ্গালী দশম শতকেই মহান আল্লাহকে ” ওয়া ক্বদরিহি ও শার্রিহি মিনাল্লাহি তায়ালা” তথা ভালো-মন্দ, মঙ্গল-অমঙ্গল একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকেই হয় মেনে নিয়ে জীবন যাপন করছে সেই বাঙ্গালী ১৯৮৯ সালে প্রবর্তিত ভুত-পেঁচা নিয়ে মিছিল করে মঙ্গল কামনা করছে এবং এটাকে বাঙ্গালীর হাজার বছরের সংস্কৃতি বলা যে কতবড় মিথ্যাচার তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

শালীনতা, সতিত্ব ও কৌমার্য যে বাঙ্গালীর হাজার বছরের গৌরব, পয়লা বৈশাখে নর্তকির বেশে প্রকাশ্য দিবালোকে অবাধ মেলামেশাকে সেই বাঙ্গালীর সংস্কৃতি বলা বাঙ্গালী সভ্যতার প্রতি মিথ্যা অপবাদ দেয়ার মতো জঘন্য অপরাধ। বাঙ্গালী পান্তা খেয়েছে প্রয়োজনে। সুখে বাঙ্গালী খেয়েছে হরেক রকম পিঠাপুলি আর মিষ্টান্ন। বাঙ্গালী বর্ষায় ইলিশ ধরেছে এবং খেয়েছে। কোনদিন তা সংরক্ষণ করেনি। কারণ বাঙ্গালীর খাল-বিল এতোটাই সমৃদ্ধ ছিলো যে, বাঁসি মাছ তাকে খেতে হতো না। ফলে বৈশাখে বাঙ্গালী কখনো ইলিশ খায় নাই।

এখন একদল নরাধম “পান্তার সাথে ইলিশ মিশিয়ে বিকৃত স্বাধ চরিতার্থ করছে আর বেহায়ার মতো এটাকে বাঙ্গালীর সংস্কৃতি বলে চেঁচাচ্ছে। এর চেয়ে বড় ফাইজলামি আর কি হতে পারে?

শত শত বছর ধরে বাঙ্গালী আল্লাহর কাছেই সব কিছু চাইছে। বিপদাপদ থেকে মুক্তি বা কল্যাণ কামনা সব আল্লাহর কাছে করেছে, এখনো তাই করে। সাম্প্রতিক কোথা থেকে কোন পাপিষ্ঠ এসে, “এসো হে বৈশাখ এসো এসো, ব্লা ব্লা”, বলে বৈশাখের কাছে জরামুক্তি চাইছে এবং এটাকেই বাঙ্গালী সংস্কৃতি বলছে। এর মতো দাঙ্গাবাজী আর কি হতে পারে?

আসলে এখানে একটি বড় ধরনের চক্রান্ত চলছে। সচেতন ব্যক্তি মাত্রই জানেন, ১৯০৫ সালে বিশাল বাংলা পরিচালনা করা কঠিন বিবেচনা করে ঢাকাকে রাজধানী করে বঙ্গভঙ্গ করা হয়েছিলো। এর ফলে ঢাকা ও পূর্ববাংলা আলাদা একটি মর্যাদা লাভ করেছিলো এবং ঢাকাকে কেন্দ্র করে গোটা পূর্ববাংলায় একটি জাগরণ তৈরী হয়েছিলো। শিক্ষা, সংস্কৃতি,  রাজনীতি ও অর্থনৈতিকভাবেও পূর্ববাংলা তথা আজকের বাংলাদেশে উন্নয়নের একটি ধারা তৈরী হয়েছিলো।

তখন কলকাতা কেন্দ্রিক কায়েমি স্বার্থবাদী গোষ্টি এর বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লেগেছিলো। আন্দোলন, মিছিল, মিটিং, গান, কবিতা লেখা থেকে শুরু করে সন্ত্রাস করে তারা এই বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। তাদের মুল ভয় ছিলো, ঢাকা যদি প্রদেশিক রাজধানী হয় তাহলে ঢাকায় হাইকোর্ট হবে। তাতে কলকাতা হাইকোর্টের উকিলদের মামলা কমে যাবে। ঢাকা কেন্দ্রিক সাহিত্য, সংস্কৃতি গড়ে উঠবে। তাতে করে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে তাদের এতোদিনের কৃত্রিম মাদবরি ছুটে যাবে। তাদের সবচেয়ে বড় ভয় ছিলো, ঢাকা প্রদেশিক রাজধানী হলে পূর্ববাংলায় জমিদারীর টাকা কলকাতায় পাচার করা বন্ধ হয়ে যাবে। এসব কারণে তারা মরিয়া হয়ে বঙ্গভঙ্গ রদ করায়।

কিন্তু ১৯৪৭ এ যখন ভারত পাকিস্তান স্বাধীন হলো, তখন বাংলার নেতৃবৃন্দ বিশেষত আবুল হাশিম, সোহরাওয়ার্দী, শেরে বাংলা এবং বঙ্গবন্ধু প্রমুখ নেতৃবৃন্দ চেয়েছিলেন বাংলা অখন্ড থাকুক। তখন কলকাতা কেন্দ্রিক স্বার্থান্বেষী মহল বাংলাকে ভাগ করতে উঠেপড়ে লেগেছিলো এবং বাংলাকে ভাগ করেই ছেড়েছে।

১৯৭১ যখন আমরা বাংলাদেশি বাঙ্গালীরা নিজেরা একক স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে গৌরবের সাথে আত্ম প্রকাশ করলাম তখন সেই অশুভ শক্তি আবারো নড়েচড়ে বসেছে। তারা ভেবে দেখেছে, স্বাধীন বাংলাদেশই হবে আগামী বাংলা ভাষা ও বাংলা সংস্কৃতির প্রধান কেন্দ্র। ঢাকাই হবে আগামী বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির রাজধানী।  কলকাতা তার মর্যাদা হারাবে। তাই তারা চক্রান্ত করেছে যে, বাংলাদেশ ও বাঙ্গালীর সংস্কৃতিতে কলকাতা ও শান্তিনিকেতনের সেই কৃত্রিম ও সাম্রাজ্যবাদী সংস্কৃতির প্রভাব ফেলতে হবে। যাতে করে বাঙ্গালী সংস্কৃতির ওপরে কলকাতা ও শান্তিনিকেতনের আধিপত্য বজায়ে থাকে।

সেই অশুভ পরিকল্পনা থেকেই ওরা এই কাজগুলো করে। আমরা বাঙ্গালীরা ও বাংলাদেশিরা ওদের এই অশুভ পরিকল্পনা সফল হতে দিতে পারি না। ওদের অশুভ পরিকল্পনাকে আমাদের তত্ত্ব দিয়ে, তথ্য দিয়ে ও যুক্তি দিয়ে প্রতিহত করতে হবে। সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে হবে।

আমি বাঙ্গালী।  বাংলা আমার। বাংলা ভাষা আমার। বাঙ্গালী সংস্কৃতি আমার সংস্কৃতি। বাঙ্গালীর উৎসব আমার উৎসব। এগুলো হাজার বছর ধরে যেভাবে চলে এসেছে আমরা সেই দ্যোতনা ঠিক রেখে তাকে সমকালীন করবো। কিন্তু কোন অবস্থাতেই শান্তিনিকেতনি কৃত্রিমতা তাতে স্থান দেবো না ইনশাআল্লাহ।

এবারের পয়লা বৈশাখে এটাই হোক প্রতিজ্ঞা। 

লেখক : কলামিস্ট, রাজনৈতিক, বিশ্লেষক

[পাবলিক ভয়েসের মতামত কলামে প্রকাশিত যে কোন লেখা ও তথ্যের দায় লেখকের। পাবলিক ভয়েস এই লেখার কোন দায় বহন করে না।]

মন্তব্য করুন