ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যু কার্যকর করা হলো মাজেদের

প্রকাশিত: ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১২, ২০২০

শেষ পর্যন্ত ফাঁসিতেই ঝুলতে হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আবদুল মাজেদের। ফাঁসিতে ঝুলিয়ে তাঁর মৃত্যু কার্যকর করা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু খুন হওয়ার দীর্ঘ ৪৫ বছর পর আজ শনিবার (১১ এপ্রিল) রাত ১২ টা ১ মিনিটে কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়। কারা জল্লাদ শাজাহানের নেতৃত্বে একদল জল্লাদ তাঁর ফাঁসি কার্যকর করেন।

কারা কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল সূত্র গণমাধ্যমকে ফাঁসি কার্যকরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছন। ফাঁসি কার্যকরের সময় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ঢাকা জেলা প্রশাসক, সিনিয়র জেল সুপার, জেল সুপার, ডেপুটি জেলার, সিভিল সার্জনসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে রাত ১০ টা ৫৫ মিনিটে ফাঁসির প্রস্তুতি দেখতে কারাগারে যান আইজি প্রিজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মোস্তফা কামাল পাশা। ফাঁসি কার্যকরের বিষয়টি আগে থেকে নিশ্চিত ছিল। তাই রাত ১০টার পর কারা মসজিদের ইমাম আবদুল মাজেদকে তার সেলে গিয়ে তওবা পড়িয়েছেন। কারা সূত্র জানায়, তওবা পড়ানোর সময় চিৎকার করে কেঁদে তওবা পড়েছেন ক্যাপ্টেন মাজেদ।

এদিকে মাজেদের লাশ নেয়ার জন্য ইতিমধ্যে তিনটি অ্যাম্বুলেন্স রাখা হয়েছে। মাজেদের মৃত্যু নিশ্চিতের পর তাকে যেকোনো একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে যাওয়া হবে। ফাঁসি কার্যকরকে কেন্দ্র করে কেরানীগঞ্জের কারাগারের চারপাশে পুলিশি নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।

এদিকে, আব্দুল মাজেদের লাশ ভোলায় দাফন করা হবে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর কারা ছাড়পত্র পেলে তাঁর লাশ ভোলায় নিয়ে যাওয়া হবে। তবে ভোলা থেকে দাবি উঠেছে তার লাশ সেখানে দাফন করতে দেবে না এলাকাবাসী। এ নিয়ে কিছুটা বিপাকে রয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। তবে বিশেষ ব্যবস্থায় মৃতদেহ পাঠানো হবে ও সেখানে দাফনের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে স্থানীয় প্রশাসনকে।

প্রসঙ্গত: বঙ্গবন্ধু হত্যায় জড়িত মাজেদ ২৩ বছর ধরে পলাতক থাকলেও ৬ এপ্রিল মধ্যরাতে রিকশায় ঘোরাঘুরির সময় তাকে মিরপুর থেকে গ্রেফতার করে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।

পরে তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করে সিটিটিসি। এরপর মাজেদকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। ৮ এপ্রিল মৃত্যুর পরোয়ানা পড়ে শোনানোর পর সব দোষ স্বীকার করে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চান আবদুল মাজেদ। প্রাণভিক্ষার আবেদনটি নাকচ করে দেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

এরপর থেকেই শুরু হয় তার ফাঁসি কার্যকরের প্রক্রিয়া। কারাবিধি অনুযায়ী শুক্রবার তার পরিবারের ৫ জন সদস্য শেষ সাক্ষাৎ করেন। সূত্র : জাগো নিউজ।

আরআর/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন