ভোলায় বাধা, মাজেদের লাশ দাফন হলো নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে

প্রকাশিত: ৮:৪৩ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১২, ২০২০

ফাঁসি কার্যকরের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত খুনী আব্দুল মাজেদের লাশ ভোলায় দাফন করতে না পেরে নারায়ণগঞ্জে তার শশুর বাড়ি এলাকায় দাফন করা হয়েছে।

ফাঁসি কার্যকরের পর কারা আনুষ্ঠানিকতা শেষে মাজেদের চাচা শ্বশুরের তত্ত্বাবধানে পরিবারের সদস্যরা কেরাণীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তার মরদেহ নিয়ে যায়।

শনিবার (১১ এপ্রিল) দিবাগত রাত (রোববার প্রথম প্রহরে) ১২টা ১ মিনিটে আবদুল মাজেদের ফাঁসির কার্যকর করা হয়। এরপর রাত আড়াইটার দিকে তার মরদেহ হস্তান্তর করা হয় পরিবারের সদস্যদের কাছে। রাত সোয়া ৩টার পর তারা মরদেহ নিয়ে রওনা হন নারায়ণগঞ্জের পথে।

এর আগে পরিবারিক সিদ্ধান্ত ছিলো আব্দুল মাজেদের লাশ নিজ বাড়ি  ভোলার বোরহানউদ্দিন থানার বাটামার গ্রামে। সেই আলোকে স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলে কারা কর্তৃপক্ষ। কিন্তু স্থানীয় জনগণের বাধার মুখে স্থানীয় প্রশাসন আপত্তি জানায়। স্থানীয়দের আপত্তির কারণে প্রশাসন কোনো ধরণের ঝুঁকি নিতে রাজী হয়নি। এজন্য পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে মাজেদের শশুরবাড়ি এলাকায় লাশ দাফনের সিদ্ধান্ত হয়।

জেল সুপার মাহবুবুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ফাঁসি কার্যকরের পর কিছু আনুষ্ঠানিকতা থাকে। সে আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে আবদুল মাজেদের পরিবারের কাছে তার লাশ হস্তান্তর করা হয়। তবে লাশ দাফনে স্থানীয়দের কঠোর আপত্তি থাকায় ভোলার প্রশাসন কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে রাজি হয়নি। সে কারণে সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হয়েছে। পরে সিদ্ধান্ত হয়েছে, মাজেদের লাশ শশুরবাড়ি সোনারগাঁওয়ে দাফন করা হবে।

এর আগে, রাত দেড়টার কিছু পর একটি লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশ করে কেন্দ্রীয় কারাগারে। তবে রাত পৌঁনে ৩টার দিকে অন্য একটি অ্যাম্বুলেন্সকে ঢুকতে দেখা যায়। ওই অ্যাম্বুলেন্সের চালক জানান, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও গন্তব্যের জন্য ভাড়া করা হয়েছে অ্যাম্বুলেন্সটি। পরে রাত সোয়া ৩টার পর আবদুল মাজেদের লাশ নিয়ে ওই অ্যাম্বুলেন্সটিই কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বেরিয়ে আসে।

প্রসঙ্গত: বঙ্গবন্ধু হত্যায় জড়িত মাজেদ ২৩ বছর ধরে পলাতক থাকলেও ৬ এপ্রিল মধ্যরাতে রিকশায় ঘোরাঘুরির সময় তাকে মিরপুর থেকে গ্রেফতার করে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।

পরে তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করে সিটিটিসি। এরপর মাজেদকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। ৮ এপ্রিল মৃত্যুর পরোয়ানা পড়ে শোনানোর পর সব দোষ স্বীকার করে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চান আবদুল মাজেদ। প্রাণভিক্ষার আবেদনটি নাকচ করে দেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

এরপর থেকেই শুরু হয় তার ফাঁসি কার্যকরের প্রক্রিয়া। কারাবিধি অনুযায়ী শুক্রবার তার পরিবারের ৫ জন সদস্য শেষ সাক্ষাৎ করেন। পরে কারা কর্তৃপক্ষ পুরোপুরি প্রস্তুতি না নেওয়ায় নির্দেশনা থাকা সত্ত্বে শুক্রবার ফাঁসি কার্যকর করেনি। অবশেষে গতকাল শনিবার রাতে (রোববার প্রথম প্রহরে) ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মাজেদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার দায়ে এর আগে ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি দিবাগত রাতে সৈয়দ ফারুক রহমান, বজলুল হুদা, এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান ও মুহিউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যু কার্যকর করা হলো মাজেদের

/এসএস

মন্তব্য করুন