এমন শবে বরাত ভেবেছে কেউ !

প্রকাশিত: ৭:২৫ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৯, ২০২০
শবে বরাত। ছবি : পাবলিক ভয়েস

আজ পবিত্র শবে বরাত। একই সাথে যেভাবে এ রাতটি আল্লাহর ইবাদাত করার রাত সেই সাথে শিশু কিশোর বয়সে হইহই করে বড়দের সাথে সবাই মিলে দলে দলে মসজিদে যাওয়ার এক বাঙালি ঐতিহ্যের রাত। এ ঐতিহ্যে আছে পবিত্রতা আর প্রভুপ্রেম। আছে এক নিখাঁদ ধর্মীয় উদযাপন।

আজকের বরাতের রাত আমার জীবনের ২৭ তম শবে বরাত। পাঁচ বছর বয়স থেকেই মসজিদে যাই। কখনও বাবার সাথে, কখনও একা একা। কৈশরের দুরন্তপনায় পা দেওয়ার পর শবে বরাত একটি অন্যতম অনুসঙ্গ জীবনের। সন্ধ্যা হলেই গোছল, পরিপাটি জামা আর আতর মেখে মায়ের কাছে বলে মসজিদে দৌড়। কিছুক্ষণ মসজিদে, কিছুক্ষণ বাইরে। হেটে বেড়ানো সবার সাথে। এ এক পবিত্রতম মোহনীয় আবেশের রাত ছিলো।

পূর্ণিমা থাকে এ রাতে। চাঁদের মোহনীয় আলোতে এক ভিন্ন উদযাপনের রাত হয় এটি। সারারাত বাইরে বাইরে ঘুরে বেড়ানো। মসজিদে কিছু সময় কাঁটানো। মুনাজাতে আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করা। ভোর রাতে গিয়ে সাহরী খেয়ে রোজা রাখা। এ যেন এক রুটিন উৎসবের রাত। এভাবে চলে এসেছে জীবনের বিগত ২৭টি বরাতের রাত।

কিন্তু সম্পূর্ণ ব্যাতিক্রম হয়ে ধরা দিলো এ বছরের শবে বরাত। মসজিদে যাওয়া নিষেধ! শব্দটা উচ্চারণ করতেই কলিজা কেঁপে উঠে। মসজিদে যাওয়া যাবে না। এরচেয়ে দুঃখের কিছু থাকতে পারে না। কিন্তু করারও কিছু নেই। পুরো পৃথিবীর একই চিত্র। যেই প্রভুর মত্ত হয়ে মসজিদে যেতাম তিনিই আমাদের পাপ আর অপরাধের শাস্তিস্বরুপ বা আমাদের জন্য পরীক্ষাস্বরুপ এ ব্যবস্থা করেছেন।

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে মসজিদে যেতে পারবে না কেউ। এটি একটি সংক্রামক ব্যাধি। যে কোন স্থান থেকে ছড়াতে পারে। তাই সতর্কতাস্বরুপ বুকে পাথর বেঁধে দেশের ওলামায়ে কেরাম বলেছেন, ‘মসজিদে জড়ো হয়ো না, ঘরে বসে ইবাদাত করো’। আল্লাহকে ডাকো আর বলো, প্রভু আমাদের ক্ষমা করো।

স্বপ্নেও ভাবিনি এমন কোন শবেবরাত জীবনে আসবে। যেখানে থাকবে রাজ্যের নিস্তব্ধতা আর বুকে থাকবে গুমোট জমানো কান্না। ঘরে বসে কাটিয়ে দিতে হবে রাতটি। মসজিদে ইমামের আওয়াজ শোনা যাবে না। থাকবে না কোন গমগমে পরিবেশ।

আমি বিশ্বাস করি আজকে বাংলাদেশের প্রতিটি মুসলমানের বুকে কান্না। জমানো অভিমান। মসজিদের দিকে তাঁকিয়ে থাকবে তাদের হৃদয় চক্ষু। কিন্তু কিছুই করার নেই কারও। তাই বলতেই হয়-এমন শবে বরাত ভেবেছে কেউ।

আমরা প্রভুর দরবারে ফরিয়াদ করি এ রাতে তিনি যেন করোনা ভাইরাসের মত মহামারি থেকে আমাদের রক্ষা করেন। মসজিদগুলো যেন আবার গমগমে হয়ে উঠে। হাসি ফোঁটে সবার মুখে। একই সাথে দোয়া করি এমন শবে বরাত আমাদের জীবনে আর না আসুক। ইবাদাতের উৎসব আর আনন্দের এই রাতটি যেন তার জৌলুস নিয়ে আবার ফেরে আমাদের কাছে। এ কামনাই মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে।

লেখক : নির্বাহী সম্পাদক। পাবলিক ভয়েস। 

মন্তব্য করুন