নামাজ নিয়ে শীর্ষ আলেমদের পরামর্শ মেনে চলার আহ্বান চরমোনাই পীরের

করোনাভাইরাস পরিস্থিতি

প্রকাশিত: ১০:১৮ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ৭, ২০২০

বিশেষ সংবাদ-

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করতে থাকায় সরকারের ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে এক নির্দেশিকায় সকল ধর্মীয় গণমজায়েত বন্ধ করতে অনুরোধ করা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে মুসলমানদের জন্য মসজিদে জামায়াতে নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে বিশেষ নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

মসজিদে নামাজ বিষয়ে ধর্ম মন্ত্রনালয়ের বিশেষ নির্দেশনা

মসজিদে নয় ঘরে বসে ইবাদাত করুন 

এ বিষয়টি নিয়ে পাবলিক ভয়েসের অফিসে বেশ কিছু ফোনকল এবং মেইল ও ফেসবুক ইনবক্সে অনেকেই প্রশ্ন করেছেন বাংলাদেশের বৃহত একটি দল ও ধর্মীয় জনগোষ্ঠি ‘চরমোনাই পীর’ ও তার রাজনৈতিক সংগঠন ‘ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’ এ বিষয়ে কী ভাবছে। পাবলিক ভয়েস থেকে বিষয়টি নিয়ে দলের বেশ কয়েকজনের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে।

এ নির্দেশনা আলেমদের সাথে বৈঠক করেই দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে দলের আমীর চরমোনাই পীর মুফতী সৈয়দ রেজাউল করীমের পক্ষ থেকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান জানিয়েছেন, ‘আলেমদের এই সিদ্ধান্তের সাথে পীর সাহেব চরমোনাইর কোনো দ্বিমত নাই’। সাথে সাথে তিনি অনুরোধ করে বলেছেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা সবাই ধর্ম মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় থাকবো’।

তিনি জানান, বিষয়টি কোনো রাজনৈতিক ইস্যু না। এটি একটি জাতীয় জনস্বার্থ ইস্যু। সাড়া বিশ্বব্যাপী এর ক্ষতিকর প্রভাব প্রবলভাবে দৃশ্যমান। এর থেকে বাঁচার প্রধান এবং প্রথম কৌশলই হলো সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, আলাদা থাকা। আমরা মুসলমান হিসেবে মসজিদে গিয়ে জামায়াতের সাথে নামাজ আদায় করি। এখন জামায়াতে সামাজিক দূরত্ব রাখা সম্ভব হয় না। সেজন্য সরকার মসজিদে যেতে নিষেধ করেছে। এখানে ধর্মীয় একটা বিষয় সম্পর্ক রাখে। সেক্ষেত্রে আলেম-ওলামাদের একটা মতামত এবং পরামর্শ থাকে।

সরকার বিষয়টি দেশের শীর্ষ আলেম ওলামাদের সাথে পরামর্শ করেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর পীর সাহেব চরমোনাই তো আর আলেম-ওলামাদের বাইরের কেউ নন। শীর্ষ আলেমদেরই একজন প্রতিনিধি তিনি। তাছাড়া বৈঠকে পীর সাহেব হুজুরের প্রতিনিধি হিসেবে আমিও উপস্থিত ছিলাম। পীর সাহেব চরমোনাই দেশের এই দূর্যোগ মূহুর্তে ওলামায়ে কেরামের পরামর্শ মোতাবেক গৃহীত সরকারের এ সিদ্ধান্ত মেনে সবাই সতর্কতার সাথে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, ইসলামী শরীয়তে দূর্যোগকালীন সময়ে মুসুল্লিদের জন্য মসজিদে জামায়াতে না যাওয়ার অবকাশ আছে। তবে মসজিদে নামাজের জামায়াত চালু রাখতে হবে। সেক্ষেত্রে ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও অন্যান্যরা মিলে নিয়মিত আজান ও নামাজ চালু রাখবে। নয়তো সবাইকে গোনাহগার হতে হবে। সুতরাং এখানে আলেম ওলামাদের সর্বসম্মত পরামর্শ সকলেরেই মেনে চলা জরুরি।

বিষয়টি নিয়ে পাবলিক ভয়েস অফিস থেকে আরও যোগাযোগ করা হয়েছিলো দলের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতী সৈয়দ ফয়জুল করীম-এর সাথে। তিনি এ বিষয়ে তেমন কোন আলাদা মতামত না দিয়ে দেশের শীর্ষ আলেমদের মতামতকে নিজের মত বলে উল্লেখ্য করেছেন এবং দলের আমীরের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেছেন, ‘এ বিষয়ে দেশের শীর্ষ আলেমরা যা সিদ্ধান্ত দেবেন সেটাই মেনে নেওয়া উচিত হবে সকলের’। সাথে সাথে তিনি করোনাভাইরাসের এই মহামারীর সময়ে বেশি বেশি তওবা ইস্তেগফার ও গরীব অসহায়দের প্রতি সাধ্যমত সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহবান জানিয়েছেন।

মসজিদে জামাতে নামাজ সম্পর্কে ধর্ম মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনা বিষয়ে দেশের শীর্ষ আলেমদের মতামত

মসজিদ বিষয়ে সরকারের নির্দেশনা ইসলামী শরিয়তে সঠিক : আল্লামা শফি

এছাড়াও দলের আরও একাধিক নেতাকর্মীরাও বিষয়টিকে পজিটিভভাবে নিয়েছেন ও আলেমদের সিদ্ধান্তই যথার্থ বলে মতামত দিয়েছেন।

এটিও পড়ুন: ঘরে নামাজ পড়া সম্পর্কে শীর্ষ ওলামায়ে কেরামের মতামত

এ বিষয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে জারী করা জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিলো, শুধু মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমরা মসজিদে নামাজ আদায় করবেন। বাকি মুসুল্লিরা নিজ নিজ ঘরে নামাজ আদায় করবেন।

বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে একটি ফেসবুক পোস্ট লিখেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান। তাঁর ফেসবুক পোস্টটি পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো।

দেশের মসজিদগুলোতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জামায়াত এবং জুমার নামাজের জামায়াতের বিষয়ে আজ ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবং ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে একটি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ওয়াক্তিয়া নামাজে সর্বোচ্চ পাঁচজন এবং জুমার নামাজে সর্বোচ্চ ১০ জনকে নিয়ে জামায়াত সম্পন্ন করার জন্য। সাধারণ মুসল্লিগণ কে মসজিদের জামায়াতে শরিক না হওয়ার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এই নির্দেশনার বিষয়ে আমাদের করণীয় কি, তা অনেকেই জানতে চাচ্ছেন। মসজিদে জামায়াতের বিষয়ে করণীয় নিয়ে গত ২৯ মার্চ ঢাকায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে দেশের শীর্ষ আলেমদের নিয়ে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। উক্ত সভায় হযরত পীর সাহেব হুজুর চরমোনাই -এর প্রতিনিধি হিসাবে আমিও উপস্থিত ছিলাম।

“আমাকে হযরত পীর সাহেব হুজুরের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেয়া হয়েছিল, বাস্তব পরিস্থিতির আলোকে দেশের শীর্ষ ওলামা হযরত যদি কএনা বিষয়ে একমত হন তাহলে সে ক্ষেত্রে পীর সাহেব হুজুরের কোন দ্বিমত থাকবে না।”

সেদিন ওলামায়ে কেরাম ঐক্যবদ্ধ ভাবে একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ২৯ মার্চের পরবর্তী সপ্তাহে দেশের পরিস্থিতি আরো অবনতি হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নতুন সিদ্ধান্তকেও দেশের শীর্ষ ওলামায়ে কেরাম কোরআন হাদিসের আলোকে যথাযথ বলে মত দিয়েছেন।

ইতিমধ্যে দেশের শীর্ষ ও নির্ভরযোগ্য দুই জন মুফতি; আল্লামা মুফতি মিযানুর রহমান সাঈদ এবং আল্লামা মুফতি দেলোয়ার হোসাইন ভিডিও বার্তায় ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার বিষয়ে তাদের সমর্থনের বিষয়টি ব্যক্ত করেছেন।

অতএব এ ব্যাপারে আমাদের সকলের প্রতি বিনীত অনুরোধ হলো, বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা সবাই ধর্ম মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় থাকবো। নিজ ঘরেই পরিবারের সদস্যদেরকে নিয়ে জামায়াতে নামাজ আদায় করব। বেশি বেশি জিকির-আজকার, নফল রোজা, নফল নামাজ পড়বো এবং বালা-মুসিবত থেকে মুক্তির জন্য মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে কান্নাকাটি করবো।
আল্লাহ সুবহা’নাহু তাআ’লা বিশ্ববাসীকে এই ভয়াবহ বিপর্যয় থেকে নাজাত দান করুন।

প্রসঙ্গত : গত ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে দেখা যাওয়ার পর থেকে করোনাভাইরাস কমপক্ষে ১৮৩ টি দেশ এবং অঞ্চলগুলিতে ছড়িয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক সংকলিত তথ্য অনুসারে এ পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা ১৩ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫৬৬ জনের বেশি। ভাইরাস সংক্রমণের পরে মৃত্যু হয়েছে ৭৪,৬৯৭ জন জনেরও বেশি লোকের। এবং সুস্থ হয়ে ফিরেছেন ২,৭৮,৬৯৫ জনেরও বেশি লোক।

এইচআরআর/পাবলিক ভয়েস/এসএস

মন্তব্য করুন