আইসিইউতে করোনা আক্রান্ত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন

প্রকাশিত: ৮:৩০ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ৭, ২০২০

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে আইসিইউতে (intensive care unit) নেওয়া হয়েছে।

বাকিংহাম প্যালেস ও ইংল্যান্ডের সরকারী দফতর সূত্রে এ সংবাদ দিয়েছে বিবিসি ইংরেজি, আনাদুলুসহ এজেন্সিসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

সরকারী বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন করোনাভাইরাসতে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে ধিরে ধিরে তাঁর অবস্থার অবনতি হওয়ায় সোমবার (৬ এপ্রিল) তাকে নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।

বিবিসি ইংরেজির প্রতিবেদনে বিবিসির রাজনৈতিক সংবাদদাতা ক্রিস ম্যাসনের বরাতে বলা হয়েছে, নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে নেওয়ার আগে সোমবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীকে অক্সিজেন দেওয়া হয়েছিল। তবে তাকে এখনও ভেন্টিলেটর লাগানো হয়নি।

হাসপাতালের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, করনোভাইরাসের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরে প্রধানমন্ত্রী লন্ডনের সেন্ট থমাস হাসপাতালে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে ছিলেন। এরপর সোমবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে এবং তার মেডিকেল টিমের পরামর্শে তাকে হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। সেখানে তারা “প্রধানমন্ত্রীর প্রতিটি পদক্ষেপ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করছেন এবং যত্ন নিচ্ছেন।

ডাইনিং স্ট্রিটের এক বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বরিস জনসন তার প্রধান সচিব ডমিনিক র‍্যাবকে যে কোন প্রয়োজনে বরিস জনসনের বিকল্প হিসেবে নিয়োগ দিতে বলেছেন।

বরিস জনসন গত প্রায় ১১ দিন আগে (২৭ মার্চ) করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার খবর প্রকাশ হয়েছিলো। এরপর থেকে তিনি প্রায় আটদিন কোয়ারেন্টিনে এবং দুইদিন আইসোলেশনে থাকার পর গত পরশু রবিবার সন্ধ্যায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। একটি সরকারী বিবৃতিতে বলা হয়েছিল যে আরও চেকের জন্য তাকে সেন্ট থমাস ’হাসপাতালে’ ভর্তি করা হয়েছে।

বরিস জনসনের অনুপস্থিতি ও অসুস্থতার কারণে আজ মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার একটি বৈঠক ও আরও কিছু কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছিল। ডাইনিং স্ট্রিটের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জনসন তাঁর জ্বর এবং কাশি অব্যাহত থাকায় দ্বিতীয় সপ্তাহে হাসপাতালে ভর্তি থাকবেন।

ব্রিটিনের রাজনৈতিক নেতা কেয়ার স্টারমার এটিকে “ভয়াবহ দুঃখজনক সংবাদ” হিসাবে বর্ণনা করেছিলেন।
“এই কঠিন সময়ে প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর পরিবারের পাশে দেশের সকল মানুষের প্রার্থনা রয়েছে’ বলেও জানান তিনি।

অপরদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন আমেরিকানরা সবাই তাঁর সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছে।
তিনি মিঃ জনসনকে “আমার খুব ভাল বন্ধু এবং আমাদের জাতির বন্ধু” হিসাবে বর্ণনা করে বলেছেন, যারা “শক্তিশালী তারা হাল ছাড়েন না”।

জনসন আগে টুইটারে লিখেছিলেন, “গত রাতে আমার চিকিতসকের পরামর্শে, আমি কিছু রুটিন পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে গিয়েছিলাম কারণ এখনও আমি করোনাভাইরাসের লক্ষণগুলি অনুভব করছি। আমি এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এবং সবাইকে সুরক্ষিত রাখতে একসাথে কাজ করার আহবান জানাই।”

ব্রিটেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের সর্বশেষ তথ্যমতে, ব্রিটেনে করোনা ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা দাড়িয়েছে ৫১, ৬০৮ জনে এবং মৃত্যুর সংখ্যা দাড়িয়েছে ৫, ৩৭৩ জনে। এবং ১৩১ জন সুস্থ হয়ে ফিরেছেন।

প্রসঙ্গত : গত ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে দেখা যাওয়ার পর থেকে করোনাভাইরাস কমপক্ষে ১৮৩ টি দেশ এবং অঞ্চলগুলিতে ছড়িয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক সংকলিত তথ্য অনুসারে এ পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা ১৩ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫৬৬ জনের বেশি। ভাইরাস সংক্রমণের পরে মৃত্যু হয়েছে ৭৪,৬৯৭ জন জনেরও বেশি লোকের। এবং সুস্থ হয়ে ফিরেছেন ২,৭৮,৬৯৫ জনেরও বেশি লোক।

সূত্র : বিবিসি ইংররেজি, আনাদুলু এজেন্সি। ভাষান্তর : হাছিব আর রহমান

এইচআরআর/পাবলিক ভয়েস

করোনা বিষয়ে সকল সংবাদ পড়তে ক্লিক করুন

মন্তব্য করুন