সারাদেশে কারফিউ জারি করুন : আল্লামা মাসঊদ

প্রকাশিত: ৯:৪৮ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ৪, ২০২০

করোনা ভাইরাস থেকে জনগণকে বাঁচাতে সরকারের কাছে সারাদেশে কারফিউ জারী করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, শাইখুল হাদীস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ তো বটেই, বিশ্ব মুসলিমদের ধর্মীয় আবেগের জায়গা মক্কা ও মদিনায় কারফিউ জারি করা হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশে সরকার কেন এখনো কারফিউ জারি করতে দ্বিধা করছেন?

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাত ৮ টায় নিউজ টোয়েন্টিফোর আয়োজিত একটি লাইভ টকশো-তে ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ এ আহ্বান জানান।

সরকারকে উদ্দেশ্য করে আল্লামা মাসঊদ বলেন, ইনকিউবেশন পিরিয়ড শেষে বিশেষজ্ঞরা যে সময়টুকুতে ভাইরাস ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার আশংকা প্রকাশ করছেন, অন্তত এই সময়টুকু কার্ফিউ জারী রাখুন। সেই সাথে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর খাদ্য ও আর্থিক নিরাপত্তার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিতেও সরকারের প্রতি তিনি অনুরোধ জানান। জনসাধারণকে ঘরে আটকে রাখা উলামায়ে কেরামের দ্বারা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মহামারির সময় ঘরে থাকা ও সতর্কবস্থা অবলম্বনে ইসলামের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে জানিয়ে শাইখুল হাদীস আল্লামা মাসঊদ বলেন, হযরত আয়শা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে মহামারির সময় কেউ যদি ধৈর্য্য ধারণ করে এবং আল্লাহ উপর ভরসা রেখে ঘরে অবস্থান করে, তারপরও সে মহামারিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করে, তাহলে সে শহীদের মর্যাদা লাভ করবে।

জনগণকে পরস্পর বিচ্ছিন্নতা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে এক্ষেত্রে সাহাবায়ে কেরামের সিদ্ধান্ত ও আমল তুলে ধরেন আল্লামা মাসঊদ।

তিনি বলেন, শামে যখন প্লেগ মহামারী রূপে ছড়িয়ে পড়লো, তখন শামের গভর্নর প্রসিদ্ধ সাহাবী হযরত আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ (রা.) মহামারীতে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেন। তারপর গভর্নর নিযুক্ত হন আরেক প্রসিদ্ধ সাহাবী হযরত মু’আজ ইবনে জাবাল (রা.), তিনিও একই ভাবে ইন্তেকাল করেন। তারপর গভর্নর নিযুক্ত হন আরো একজন প্রসিদ্ধ সাহাবী হযরত আমর ইবনুল আস (রা.)। তিনি গভর্নর হয়ে দেশবাসীর প্রতি পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে পাহাড়ে গিয়ে আশ্রয় নিতে কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন। তারপর একসময় আল্লাহ তা’আলা শাম থেকে মহামারীকে বিলুপ্ত করে দেন। ইসলামকে তো সাহাবায়ে কেরামের চেয়ে ভাল আর কেউ বুঝতে পারবেন না। তাই জনসাধারণকে বলছি, আপনার ঘরে থাকুন। কেউ বের হবেন না। পরস্পর বিচ্ছিন্ন থাকুন। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন।

এই করোনা ভাইরাস মহামারী থেকে বাঁচার উপায় কি জানতে চাইলে আল্লামা মাসঊদ বলেন, এই ব্যাপারে ইসলামের ৩ টি দিকনির্দেশনা রয়েছে।

প্রথমত: আমাদেরকে আল্লাহ তা’আলার প্রতি সমর্পিত হতে হবে। নিজ নিজ গোনাহের তওবা করতে হবে। আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করে মাফ চাইতে হবে।

দ্বিতীয়ত: আমাদেরকে যথাযত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। সমস্ত সতর্কতা অবলম্বন করেই আমরা আল্লাহর উপর ভরসা করব। এক হাদীসে এসেছে, একবার এক সাহাবীকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উটের দড়ি বেঁধে তারপর আল্লাহর উপর ভরসা করতে নির্দেশ নিয়েছিলেন। আমাদেরকেও তাই যথাযথ সতর্কতা মেনে চলতে হবে।

তৃতীয়ত: সদকা করা। আমাদেরকে সামর্থ্যানুযায়ী দানখয়রাত করতে হবে। হাদীসে এসেছে যে, সদকা তথা দানখয়রাত করার দ্বারা আল্লাহ তা’আলা মানুষের উপর থেকে বিপদকে সরিয়ে দেন। শুধু যে ধনী ব্যক্তিরাই দান করবে তা নয়। প্রত্যেকেরই সামর্থ্য অনুসারে দান করা উচিৎ। যদি কারো তিনটা রুটি থাকে, তবে সে যেন একটা রুটি দান করে দেয়। একজন ধনী ব্যক্তির লাখ টাকা দানের চেয়ে এই সামান্য দানের মূল্য ও মর্যাদা বেশি। এই মহামারী থেকে মুক্তি পেতে তাই আমাদের প্রত্যেকের দানখয়রাত করতে হবে। সহমর্মিতা ও মহানুভবতা নিয়ে আমাদেরকে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।

সরকারকে কারফিউ জারীর পাশাপাশি জনসাধারণের প্রতি আল্লামা মাসঊদের আহবান, আপনারা বেশি বেশি তওবা-ইস্তেগফার করুন। যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করুন। ঘরে থাকুন, বাইরে বের হবেন না। সামর্থ্য অনুসারে দান-খয়রাত করুন। ইনশাআল্লাহ আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে এই মহামারী থেকে মুক্তিদান করবেন।

মন্তব্য করুন