প্রেসিডেন্টের নির্দেশ : ‘লকডাউন’ ভাংলেই সরাসরি গুলি

প্রকাশিত: ৭:৫৭ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২, ২০২০

ফিলিপাইনের রাষ্ট্রপতি রদ্রিগো দূতের্তে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, লকডাউন আরোপ করা অঞ্চলে কেউ নিয়ম না মানলে তাকে সরিসরি গুলি করা হবে।

তিনি বলেছেন, করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া বন্ধ করতে ফিলিপাইনের লুজন দ্বীপে এক মাসব্যাপী লকডাউন চলাকালীন “যারা সমস্যা সৃষ্টি করবে” তাদের যে কাউকে গুলি করার জন্য দেশটির পুলিশ এবং সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দেবেন তিনি।

বুধবার গভীর রাতে টেলিভিশনের জাতীয় ভাষণে তিনি বলেন, “এটি সবার জন্য একটি সতর্কবার্তা হয়ে উঠুক। এই সময়ে সরকারের নির্দেশনা মানুন এবং সরকার যা বলে তা করার চেষ্টা করুন।

ফিলিপাইনের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সূত্রে জানা যায়, সে দেশে করোনভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২,৩১১ জন। যাদের মধ্যে কমপক্ষে ৯৯ জন মারা গেছেন।

দূতের্তে ইতেমধ্যে পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়ে বলেছেন,, যদি কেউ লকডাউন বাস্তবায়নে সমস্যা সৃষ্টি করে এবং তাদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ে: তাদের গুলি করে হত্যা করুন।” অন্যদের বাঁচাতে এটা করা জরুরী বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তবে দূতের্তের এই ঘোষণার বিপরিতে ফিলিপাইনে প্রতিবাদ এবং মিছিল হয়েছে। বিশেষ করে ম্যানিলার কুইজন সিটির বস্তির বাসিন্দারা তাদের বাড়ির কাছে একটি মহাসড়কের পাশে বিক্ষোভ করেছে, এবং তারা দাবি করেছে যে, দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে শুরু হওয়া লকডাউনের পর থেকে কোনও খাবারের প্যাক এবং অন্যান্য ত্রাণ সামগ্রি পায়নি তারা।

এদিকে একটি পুলিশ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রাম সুরক্ষা কর্মকর্তা ও পুলিশ বাসিন্দাদের তাদের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল তারা, কিন্তু গ্রামবাসী তা প্রত্যাখ্যান করে পুলিশের উপর চড়াও হয়েছে। এরপর পুলিশ প্রায় ২০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

তবে বিক্ষোভকারী পুলিশের সাথে ঝামেলা হওয়া লোকজন দাবি করে বলেছেন, লকডাউনের কারণে তাদের কোনও খাবার না থাকায় তারা বিক্ষোভ করতে বাধ্য হয়েছিল।

বিক্ষোভকারী একজন গ্রেফতারের আগে বলছিলেন, “ক্ষুধার তাড়নায় আমরা সাহায্যের জন্য এখানে এসেছি। আমাদেরকে খাবার, চাল, বা নগদ অর্থ দেওয়া হয়নি। আমাদের কোন কাজ নেই। আমরা কার দিকে ফিরব।

অপরদিকে ফিলিপাইনের বিভিন্ন অ্যাক্টিভিস্ট গ্রুপগুলি এই গ্রেপ্তারের নিন্দা করেছে এবং দরিদ্র পরিবার এবং লকডাউনের মধ্যে যারা কাজ হারিয়েছে তাদের সহায়তার জন্য ২২ মিলিয়ন পেসো (৪ মিলিয়ন ডলার) বরাদ্দ দিতে সরকারকে অনুরোধ করেছে।

“অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন এবং জনগনকে আটকানোর ফলে ফিলিপিনোদের খালি পেট ভরবে না” বলেছিলেন নারী অধিকার কর্মী গ্যাব্রিয়েলা। একই সাথে গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি দাবি করে অন্য বাসিন্দারা তাঁর সহায়তায় একটি সমাবেশ করেছে।

ফিলিপাইনের মূল উত্তরের অঞ্চল লুজনে পাঁচ কোটিরও বেশি লোক বাস করছে এবং এক মাস ব্যাপী সেখানে লকডাউন চলছে। লকডাউনের কারনে ওই অঞ্চলে মানবতার বিপর্যয় হচ্ছে বলেও জানা গেছে।

প্রসঙ্গত : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকলিত তথ্য অনুযায়ী, গতবছরের ডিসেম্বরে চীনে হুবেই প্রবেশের উহান শহরে করোনাভাইরাস সংক্রামনের পর ভাইরাসটি কমপক্ষে ১৮০ টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে।

ইউনিভার্সিটির তথ্য অনুসারে, করোনাভাইস সংক্রামন থেকে বিশ্বব্যাপী মৃতের সংখ্যা ৪৭,১৯২ জন। বিশ্বব্যাপী আক্রান্তের সংখ্যা ৯,৩৫,১৮৯ জন। তবে আক্রান্ত থেকে সুস্থ হয়ে ফিরেছেন ১,৯৩,২৮৯ জন। যার মধ্যে আইইডিসিআরের দাবি অনুসারে বাংলাদেশে আক্রান্তের সংখ্যা ৫৪ মৃত্যুর সংখ্যা ৬ এবং সুস্থ হয়ে ফেরার সংখ্যা ২৬ জন।

আল জাজিরা থেকে হাছিব আর রহমানের অনুবাদ

এইচআরআর/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন