সবচেয়ে কম সক্ষমতা নিয়ে করোনা প্রতিরক্ষা করছে ফিলিস্তিন

প্রকাশিত: ৬:৫৮ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২, ২০২০

হাছিব আর রহমান

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সবচেয়ে কম সক্ষমতা নিয়ে করোনা প্রতিরক্ষা করার চেষ্টা করছে মজলুম দেশ ফিলিস্তিন এবং বিশেষ করে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা।

ইহুদিবাদী ইসরাইলের ১৩ বছরের ধারাবাহিক অবরোধ এবং নির্যাতন নিস্পেষনের ফলে ফিলিস্তিন ও গাজা উপত্যকায় চিকিৎসা সরঞ্জামের মারাত্মক ঘাটতি রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের একটি সূত্র।

আরও পড়ুন : করোনার এই বিপদেও গাজা উপত্যকার অবরোধ শিথিল করেনি ইহুদীবাদী ইসরাইল

ফিলিস্তিন স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় ও রাষ্ট্রের সূত্রমতে জানা গেছ, ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ১২ টি এবং পশ্চিম তীরে ১২২ টি সহ মোট ১৩৪ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন তারা।

কিন্তু করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসা সহায়তা তাদেরকে কোয়ারেন্টাইনে রাখাসহ নিবিড় পর্যবেক্ষণের বেশ অপ্রতূলতা এবং সক্ষমতার বিশাল ঘাটতি রয়েছে ফিলিস্তিনে। এমনটাই জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের মুখপাত্র এসেরেফ আল-কূদ্রা বলেছেন যে তারা কোভিড-19 মেকাবেলায় খুবই সীমিত সক্ষমতা নিয়ে কাজ করছেন যা প্রতিদিন হ্রাস পাচ্ছে এবং যে কোন সময় তাদের চিকিৎসা সরঞ্জামে ঘাটতি তৈরি হবে এবং সর্বিক প্রস্তুতি নিতে সমস্যা হয়ে দাড়াবে।

কুদ্রা বলেছিলেন যে ইতিমধ্যে ৪৩% ওষুধ, ২৫% চিকিতসা সহায়তা ফান্ড, ৬৫% পরীক্ণা সরবরাহ প্রচেষ্টা এবং রক্ত সংগ্রহের বড় একটি অংশ শেষ হয়ে যাচ্ছে।

কুদ্রা বলেছিলেন, এছাড়াও ডাক্তারদের সুরক্ষা ও ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক সরঞ্জামের (PPE) বিশাল সংকট তাদের সামনে চিকিৎসা চ্যালেঞ্জকে আরও জটিল করে তুলছে।

তিনি ফিলিস্তিনে জরুরী চিকিৎসা সরঞ্জামসহ সুরক্ষাব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্থানীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, ফিলিস্তিনে কেবলমাত্র ৬৩ টি ভেন্টিলেটর এবং ৭৮ টি নিবিড় পরিচর্যা ইউনিট (আইসিইউ) রয়েছে যা রোগীদের প্রতিদিনের চাহিদা পূরণে মোটেও পরিপূর্ণ নয়। এছাড়াও চিকিৎসা প্রদানের জন্য ডাক্তারদের অভাব রয়েছে। বর্তমানে ৭২ শতাংশ রোগী ঠিকমত পেশাগত চিকিৎসক পান না বলেও জানান তিনি। তিনি বিশ্ব সম্প্রদায় ও জাতীসংঘের কাছে ১০০ টি ভেন্টিলেটর এবং ১৪০ টি আইসিইউ বেডের জন্য জরুরি আবেদন করেছেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকলিত তথ্য অনুযায়ী, গতবছরের ডিসেম্বরে চীনে হুবেই প্রবেশের উহান শহরে করোনাভাইরাস সংক্রামনের পর ভাইরাসটি কমপক্ষে ১৮০ টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে।

ইউনিভার্সিটির তথ্য অনুসারে, করোনাভাইস সংক্রামন থেকে বিশ্বব্যাপী মৃতের সংখ্যা ৪৭,১৯২ জন। বিশ্বব্যাপী আক্রান্তের সংখ্যা ৯,৩৫,১৮৯ জন। তবে আক্রান্ত থেকে সুস্থ হয়ে ফিরেছেন ১,৯৩,২৮৯ জন। যার মধ্যে আইইডিসিআরের দাবি অনুসারে বাংলাদেশে আক্রান্তের সংখ্যা ৫৪ মৃত্যুর সংখ্যা ৬ এবং সুস্থ হয়ে ফেরার সংখ্যা ২৬ জন।

এইচআরআর/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন