করোনা এড়াতে ভুল মাস্কে ক্ষতির আশঙ্কা

প্রকাশিত: ১২:০১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১, ২০২০

চীন থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর মাস্কের চাহিদা অস্বাভাবিক বেড়ে যায় বিশ্বজুড়ে। বাংলাদেশে প্রথম দিকে খুব বেশি সচেতন নাগরিক ছাড়া অন্যদের এটা নিয়ে খুব একটা আগ্রহ ছিল না। কিন্তু দেশে করোনা রোগী শনাক্তের পর সাধারণ মানুষের মধ্যে মাস্কের ব্যবহার বাড়তে শুরু করে। এরপর দেশে অঘোষিত ‘লকডাউন’ শুরু হলে বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়াকড়িতে গত কয়েক দিনে বহুগুণে বেড়ে যায় মাস্কের ব্যবহার।

কিন্তু যে উদ্দেশ্যে ব্যবহার বেড়েছে, নিম্নমানের মাস্কের কারণে সেটা খুব একটা কাজে আসছে না বলে অভিমত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের। তারা বলছেন, দেশে বর্তমানে প্রচলিত মাস্কগুলোর বেশির ভাগই অস্বাস্থ্যকর এবং করোনাভাইরাস প্রোটেকটিভ নয়। দূষণ ও ধুলাবালি থেকে রক্ষা ছাড়া আর কোনো কাজেই আসছে না এসব মাস্ক। বরং ক্ষতির আশঙ্কা আছে।

  • মূলত করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষা পেতে এন-৯৫ মাস্কের বিকল্প নেই। তবে এই বিশেষ মাস্কটি ব্যয়বহুল ও সহজলভ্য নয় বলে পাতলা সার্জিক্যাল মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

মঙ্গলবার সরেজমিনে রাজধানীর গ্রিন রোড ও কলাবাগান এলাকার বেশ কয়েকটি ফার্মেসি ঘুরে সার্জিক্যাল মাস্কের সংকট দেখা যায়। কয়েকটি ফার্মেসিতে সার্জিক্যাল মাস্কের দেখা মিললেও সেগুলো বেশি দামে বিক্রি হতে দেখা যায়। একবার ব্যবহারযোগ্য মাস্ক আগে প্রতিটি এক থেকে পাঁচ টাকা বিক্রি হতো, সেগুলো এখন ১৫ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

জানা যায়, দেশে মোট আমদানি করা ও উৎপাদিত মাস্কের বেশির ভাগই হচ্ছে প্রচলিত নন-উভেন থার্মোপ্লাস্টিক শপিং ব্যাগের কাপড় দিয়ে তৈরি। আর এসব নন-উভেন থার্মোপ্লাস্টিক কাপড় খুব সস্তা মানের প্লাস্টিক।

  • পর্যবেক্ষণ বলছে, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি মেনে ঢাকায় ১০ থেকে ১২টির মতো মাস্ক তৈরির কারখানা চলে আসছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মাস্কের সংকট তৈরির পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অতি মুনাফার আশায় ব্যক্তি উদ্যোগে মাস্ক তৈরির ধুম লেগে যায়। আর এসব মাস্কের বেশির ভাগই তৈরি হচ্ছে নন-উভেন থার্মোপ্লাস্টিক প্লাস্টিক কাপড় দিয়ে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ব্যক্তি উদ্যোগে কয়েকটি মেশিন বসিয়ে মাস্ক তৈরি করছেন একজন উদ্যোক্তা। নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে তিনি বলেন, ‘দেশে মাস্ক সংকটের পর আমি কয়েকটা মেশিন বসিয়ে মাস্ক তৈরি করা শুরু করি। আমার তৈরি মাস্ক খুব সস্তাতেই বাজারে দিচ্ছি। যেসব মাস্ক তৈরি করছি এগুলো খুব সস্তা কাপড় দিয়েই। কিন্তু প্রচুর চাহিদা রয়েছে।’

ঢাকা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সহকারী পরিচালক ড. আরমান হোসেন  বলেন, ‘করোনাভাইরাসের একটা বৈশিষ্ট হলো এটা বাতাসের মাধ্যমে খুব একটা ছড়ায় না। তবে আশপাশে করোনা সংক্রমিত কারও হাঁচি-কাশি বিপদের কারণ হতে পারে। তাই মাস্ক পরে থাকলে ভালো। কিন্তু বাজারে যে মাস্ক পাওয়া যাচ্ছে সেগুলো উপকারী না্। এসব সুদৃশ্য মাস্ক কেবল ধুলাবালি থেকে রক্ষা করে আমাদের।’

ড. আরমান হোসেন আরও বলেন, ‘করোনাভাইরাস থেকে প্রটেকশনের জন্য দরকার এন-৯৫ মাস্ক। কিন্তু খুব ব্যয়বহুল হওয়ায় এটা ব্যবহার করা সবার পক্ষে সম্ভব নয়। কার‌্যকর ও সাশ্রয়ী হলো সার্জিক্যাল মাস্ক। এটা সাইয়েন্টিফিক এবং করোনা সুরক্ষায় সক্ষম।’

দেশের বজারে সরবরাহ বাড়াতে গত ৩০ জানুয়ারি এক জরুরি নোটিশে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ভবন দোকান মালিক সমিতি সার্জিক্যাল মাস্ক রপ্তানি বন্ধ করে। বিএমএ এক বিজ্ঞপ্তিতে দেশের মাস্ক তৈরির কারখানাগুলোকে কোনো অবস্থায় মাস্ক মজুত এবং বেশি মূল্যে বিক্রি না করার বিষয়ে নির্দেশনা দেয়।

বস্ত্র প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন  বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে দেশে মাস্কের চাহিদা বেড়ে যায়। এতে যেসব কারখানা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি মেনে মাস্ক তৈরি করে, তারা প্রয়োজনীয় মাস্ক বাজারে সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়। এই সুযোগে একশ্রেণির মুনাফালোভী সস্তা প্লাস্টিকের কাপড় দিয়ে মাস্ক বিক্রি শুরু করে, যেগুলো মোটেই স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এগুলো ব্যবহারে মানুষের উপকারের বদলে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।’

বাংলাদেশে গত ৮ মার্চ প্রথম তিনজনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্তের সংবাদ আসে। মঙ্গলবার পর্যন্ত দেশে মোট ৫১ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। আর মারা গেছেন পাঁচজন। (ঢাকা টাইমস এর সৌজন্যে)

এমএম/পাবলিকভয়েস

মন্তব্য করুন