মসজিদ কমিটিকে যে ৮ পরামর্শ দিলো ইফা

প্রকাশিত: ৮:১১ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ৩১, ২০২০
ফাইল ছবি

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। এ অবস্থায় দেশের মসজিদগুলোতে জমুা দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বিষয়ে কী করা যায় তা নিয়ে দেশের শীর্ষ আলেমদের সঙ্গে বৈঠক করে ইসলামিক ফাউন্টেশন (ইফা)। গতকাল রোববার আগারগাঁওয়ে ইফা ভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত নিয়ে আজ সোমবার গণমাধ্যমে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠায় ইফা। এতে বলা হয়, মসজিদে নিয়মিত আজান, ইকামত, জামাত ও জুমার নামাজ অব্যাহত থাকবে। তবে জুমা ও জামাতে মুসল্লিদের অংশগ্রহণ সীমিত থাকবে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মসজিদের খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও মসজিদ কমিটিকে করণীয় সম্পর্কে ৮টি পরামর্শ দেওয়া হয়। পরামর্শগুলো হলো-

১. পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আগে সম্পূর্ণ মসজিদকে জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা এবং কার্পেট-কাপড় সরিয়ে ফেলা।

২. জামাত সংক্ষিপ্ত করা।

৩. জুমার বয়ান, খুতবা ও দোয়া সংক্ষিপ্ত করা।

৪. বর্তমান সংকটকালে দরসে হাদিস, তাফসির ও তালিম স্থগিত রাখা।

৫. ওজুখানায় অবশ্যই সাবান ও পর্যাপ্ত টিস্যু রাখা।

৬. বর্তমান পরিস্থিতিতে জামাতের কাতারে ফাঁক ফাঁক হয়ে দাঁড়ানো।

৭. ইশরাক, তিলাওয়াত, জিকির ও অন্যান্য আমল ঘরে করা।

৮. ঢাকাসহ দেশের কোনো মসজিদে যদি কোনো বিদেশি অবস্থান করেন, তাদের বিষয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ করে সত্ত্বর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।

এ ছাড়া বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আট ধরনের মুসল্লিকে মসজিদে না যাওয়ার পরামর্শ দেয় ইফা। তারা হলেন-

১. যারা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত।

২. যাদের সর্দি, জ্বর, কাশি, গলা ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট আছে।

৩. যারা আক্রান্ত দেশ ও অঞ্চল থেকে এসেছেন।

৪. যারা উক্তরূপ মানুষের সংস্পর্শে গেছেন।

৫. যারা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত।

৬. বয়োবৃদ্ধ, দুর্বল, মহিলা ও শিশু।

৭. যারা অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত।

৮. যারা মসজিদে গিয়ে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা করেন- তাদেরও মসজিদে না আসার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ইফার বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, যারা জুমা ও জামাতে যাবেন তারা যাবতীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা অবলম্বন করবেন। ওজু করে নিজ নিজ ঘরে সুন্নত ও নফল আদায় করবেন। শুধু জামাতের সময় মসজিদে যাবেন এবং ফরজ নামাজ শেষে দ্রুত ঘরে ফিরে যাবেন। সাবান দিয়ে বার বার হাত ধোয়া, মাস্ক পরা, জীবাণুনাশক দ্বারা মসজিদ ও ঘরের মেঝে পরিষ্কার রাখাসহ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সব নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। আইইডিসিআরের তথ্যানুযায়ী সোমবার পর্যন্ত দেশে মোট ৪৯ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের। এ ছাড়া সুস্থ হয়েছেন ১৯ জন।

এমএম/পাবলিকভয়েস

মন্তব্য করুন