তাবলীগের মারকাজ ‘নিজামউদ্দিন মসজিদ’ বন্ধ ও কর্তৃপক্ষের নামে মামলার নির্দেশ

প্রকাশিত: ৪:০১ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩১, ২০২০

দিল্লির নিজামউদ্দিন তাবলীগের মারকাযে মাওলানা সা’দ কান্ধলভী নিয়ন্ত্রিত তাবলীগের কার্যক্রমে যোগ দিয়ে ফেরার পর অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এবং প্রায় ২৪ জনের করোনাভাইরাস পজিটিভ পাওয়া গেছে। খবর আনন্দবাজার, এনডিটিভি, ইন্ডিয়া টুডে।

এর জের ধরে এরপরই গতকাল সোমবার দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ওই মসজিদ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং মসজিদ সম্পূর্ণরুপে বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ জারী করেছেন।

জানা যায় গত ১ থেকে ১৫ মার্চের মধ্যে দিল্লির ওই মসজিদে অন্তত ২ হাজার মানুষের সমাগম হয়েছিল। এছাড়াও তাবলীগের কেন্দ্রীয় মারকাজ নিজামউদ্দিনের একটি গণজমায়েতে মাওলানা সা’দ কান্ধলভীর আমন্ত্রনে দেশী-বিদেশী অনেকেই একত্রিত হয়েছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সৌদি আরব, থাইল্যান্ড, নেপাল, মায়ানমার, বাংলাদেশ, কিরঘিজস্তান, আফগানিস্তান, আলজিরিয়া, শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, কুয়েত থেকে প্রতিনিধিরা এসেছিলেন। যাদের মধ্যে বিপুল সংখ্যক লোকের করোনা ভাইরাস আক্রান্তের খবর জানিয়েছে পিটিআইসহ কয়েকটি সংবাদসংস্থা।

মসজিদ বন্ধ করার আগেও সেখানে অনেক বিদেশীরা অবস্থান করছিলো বলেও জানিয়েছেন তারা। এমনকি ভারতের হিন্দুত্ববাদী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয় ভারতে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রেও এই গণজমায়েতকে দায়ী করতে চাচ্ছেন বলে খবর দিয়েছে আনন্দবাজার।

তবে নিজামউদ্দিন কর্তৃপক্ষ একটি বিবৃতিতে বলেছেন, ‘‘সারা দেশে লকডাউন ঘোষণার অনেক আগেই দিল্লিতে লকডাউন জারি হয়েছে। তাই ওই প্রতিনিধিরা আটকে পড়েছিলেন। ট্রেন ও বিমান পরিষেবা আচমকা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁরা ফিরতে পারেননি। সেই কারণেই ওই মসজিদেই থাকছিলেন তাঁরা।

এদিকে ভারতের মিডিয়া বিভিন্ন সূত্র উদৃত করে বলেছেন, ওই অনুষ্ঠানে অন্তত ২ হাজার মানুষ ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের মধ্যে অনেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ফিরে গেলেও ছ’তলা ওই মসজিদে থেকে গিয়েছিলেন দেশ-বিদেশের অন্তত সাড়ে আটশো প্রতিনিধি। ডরমিটরিতে থাকছিলেন তাঁরা।

জড়ো হওয়া মানুষজনের মধ্যে এ পর্যন্ত অন্তত সাত জনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার দিল্লি ও অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে ওই সম্মেলনে যোগ দেওয়া আরও ৩৫ জনের করোনাভাইরাস রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে।

ওই মসজিদে থাকা ৮৫০ জনকে অন্য একটি জায়গায় কোয়ারান্টাইন করে রাখা হয়েছে বলে জানা হেছে। এর মধ্যেই সোমবার দিল্লির লোকনায়ক হাসপাতালে ভর্তি ১০২ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল। মঙ্গলবার তাঁদের মধ্যে ২৪ জনের পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে।

নিজামউদ্দিন মসজিদ থেকে এনে রাজধানীর অন্যান্য হাসপাতালেও অনেককে ভর্তি করা হয়েছিল। তাঁদের রিপোর্ট এখনও আসেনি। সেই রিপোর্ট এলে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারেই মনে করছে রাজ্য প্রশাসন। অন্য দিকে অন্ধ্রপ্রদেশ থেকেও ১১ জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে বলে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গেছে।

জানা গিয়েছে, ওই জমায়েত থেকে তেলঙ্গানায় ফেরা ছ’জনের মৃত্যু হয়েছে। জম্মু-কাশ্মীরে মৃত্যু হয়েছে আরও এক জনের। আন্দামান নিকোবরে ফিরে যাওয়া ১০ জনের করোনা সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। এ ছাড়া দিল্লির বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি দেশ-বিদেশের কয়েকশো মানুষ।

জানা গিয়েছে, ওই অনুষ্ঠানের শেষে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের উদ্দেশে ২৫টিরও বেশি বাস ছেড়েছিল। সেই বাসে কারা ছিলেন, তাঁদের গন্তব্য কোথায়, তাঁরা কাদের সংস্পর্শে এসেছেন, সেই খোঁজও শুরু হয়েছে কাল থেকে। নিজামুদ্দিন এলাকা জুড়ে চলছে ড্রোন নজরদারিও।

সূত্র : আনন্দবাজার, ইন্ডিয়া টুডে, এনডিটিভি

এইচআরআর/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন