দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বাংলাদেশে ব্যাপক মৃত্যুর শঙ্কা: জাতিসংঘ ও জাতীয় কমিটি

করোনাভাইরাস পরিস্থিতি

প্রকাশিত: ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২৯, ২০২০

দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নেয়া হলে বাংলাদেশে মহামারী করোনাভাইরাসের সংক্রমন অতিদ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। শঙ্কা রয়েছে ব্যাপক প্রাণহানির। এরজন্য দ্রুততার সাথে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর।

এই ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাবের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশে জাতীয় প্রস্তুতি ও সাড়া প্রদান পরিকল্পনা নথিতে জোরালোভাবে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে বলে গতকাল (২৮ মার্চ) শনিবার রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে ঢাকাস্থ জাতিসংঘ তথ্যকেন্দ্র।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর- নাগরিক সমাজের বেশ কিছু অংশীদার ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় ওই পরিকল্পনা নথি তৈরি করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) বৈশ্বিক নির্দেশনার সঙ্গে সংগতি রেখে তৈরি করা ওই পরিকল্পনা নথি তৈরির উদ্দেশ্য হলো বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস মহামারির প্রেক্ষাপটে সরকারের সাড়া প্রদানে সহায়তা করতে জাতিসংঘের সংস্থা ও অংশীদারদের কার্যকরভাবে প্রস্তুত করা।

তবে ওই বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় প্রস্তুতি ও সাড়া প্রদান পরিকল্পনা নথি তৈরির কথা বললেও সেখানে বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কত মানুষ মারা যেতে পারেন সে সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি।

এতে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক স্বীকৃত যে মডেলিং পদ্ধতির দ্বারা এই নথিটি তৈরি করা হয়েছে তাতে দেখানো হয়েছে এই ভাইরাসটির বিস্তাররোধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে এই মহামারীর কতটা বিস্তার ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে পরিকল্পনা নথির শুরুতেই করোনাভাইরাসের ভয়াবহতা অনুধাবন করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই নথি প্রণয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।

এতে বলা হয়েছে, এটি এমন একটি প্রাণঘাতী রোগ যা আমাদের সাড়া দেওয়ার গতির চেয়ে বেশি গতিতে সংক্রমিত হয়। ৭৭০ কোটি জনগোষ্ঠীর এই বিশ্বে করোনাভাইরাস মহামারী সংক্রমণের হার উচ্চ ও আন্তর্জাতিকভাবে ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে।

  • বাংলাদেশে ব্যাপক মাত্রায় জনঘনত্ব বিবেচনায় দ্রুত প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ না নেয়া হলে এই মহামারীতে এখানে ব্যাপকসংখ্যম মানুষের মৃত্যুরও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়ে এতে।

জাতিসংঘ তথ্যকেন্দ্র জানায়, বাংলাদেশ সরকার, জাতিসংঘ, নাগরিক সমাজ ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারিতে অতি দ্রুততার সঙ্গে বেশ কিছু ব্যবস্থা নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাধ্যতামূলক ‘কোয়ারেন্টিন‘ ও ‘আইসোলেশন’, এই ভাইরাসটির ঝুঁকির ব্যাপারে ব্যাপকভাবে অবহিত করা, সামাজিক দূরত্ব (সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং), সামাজিক সুরক্ষা (সোশ্যাল প্রোটেকশন) এবং বিদ্যালয় ও জনসমাগম হয় এমন স্থানগুলো বন্ধ করে দেওয়া।

করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া কমানোর জন্য বাংলাদেশ সরকার যেসব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে তার সঙ্গে জাতিসংঘ সম্পূর্ণভাবে একমত ও সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও জানায় তারা।

বিজ্ঞপ্তিতে এই ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়া রোধ করার জন্য অতি দ্রুত কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে তা অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করা হয়।

এতে আরো বলা হয়, ‘তাই আমরা সবাইকে প্রতিরোধমূলক সব ব্যবস্থা মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছি। এর ফলে, সরকার ও জাতিসংঘের সংস্থা, নাগরিক সমাজ ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো দেশব্যাপী স্বাস্থ্যব্যবস্থা আরো জোরদার করার জন্য বেশ কিছুটা সময় পাবে এবং তার ফলে বাংলাদেশ সরকারকে এই মহামারী মোকাবেলা করতে সহযোগিতা করতে পারবে।

বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত মহামারী এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৮জন, সুস্থ হয়েছেন ১৫জন, মৃত্যু বরণ করেছেন ৫জন। বিশ্বজুড়ে এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৬৬৪,১৯২, সুস্থ হয়ে ফিরেছেন ১৪২,৩৬৪জন, মৃত্যু হয়েছে ৩০,৮৮৮ জনের।

এদিকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জাতিসংঘের ৮৬ কর্মী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। সংস্থাটির মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, সংস্থাটির সবচেয়ে বেশি কর্মী আক্রান্ত হয়েছেন ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। এ ছাড়া আফ্রিকা, এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রেও বেশ কিছু কর্মী এতে আক্রান্ত হয়েছেন। খবর নিউইয়র্ক টাইমসের।

এমএম/পাবলিকভয়েস

মন্তব্য করুন