জামায়াত-শিবির আমাকে গুলি করেছিলো, আমি সাঈদীর মুক্তি চাইনি : মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী

প্রকাশিত: ১২:১৩ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৮, ২০২০

এম ওমর ফারুক আজাদ 

যুদ্ধাপরাধের মামলায় দণ্ডিত হয়ে জেলখানায় বন্দি থাকা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর, দেশের প্রতিথযশা ও অসম্ভব জনপ্রিয় ইসলামী আলোচক ‘আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর মুক্তি চেয়ে দেশের শীর্ষ আলেমরা বিবৃতি দিয়েছেন’ এমন একটি সংবাদ প্রচারিত হয়েছে কয়েকটি জাতীয় দৈনিকসহ বেশ কিছু অনলাইন পোর্টালে।

জাতীয় দৈনিক ইত্তেফাক অনলাইনে ‘সাঈদীকে মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানিয়ে সব শীর্ষ উলামায়ে কেরামের বিবৃতি’ শীর্ষক একটি সংবাদ প্রকাশ করেছে গত ২৭ মার্চ। সংবাদটির ব্যাপক প্রচারও হয়েছে অনলাইনে। যেখানে মুক্তি চাওয়া শীর্ষ আলেমদের তালিকায় সবার প্রথমেই নাম দেওয়া হয়েছে বর্ষীয়ান আলেমে দ্বীন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সাবেক সিনিয়র নায়েবে আমীর জামিয়া বাবুনগর মাদরাসার প্রিন্সিপাল আল্লামা মুহিববুল্লাহ বাবুনগরীর।

তবে আল্লামা মহিববুল্লাহ বাবুনগরীর সেই প্রতিবেদন দেখে প্রচারিত সংবাদকে অসত্য আখ্যা দিয়েছেন। এমনকি তিনি এমন বিবৃতিকে স্বাক্ষর করেননি দাবি করে বলেছেন, ‘আমি সাঈদীর মুক্তি চেয়ে কোন বিবৃতি দেইনি বরং এই জামায়াত-শিবিরের ক্যাডাররা আমাকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার মত জঘণ্য কাজ করেছিলো, তাই আমি কেন সেই জামায়াত নেতার মুক্তি চাওয়ার বিবৃতিতে স্বাক্ষর করতে যাবো’।

এ ব্যাপারে মুঠোফোনে আল্লামা বাবুনগরীর সাথে এই প্রতিবেদকের কথা হলে তিনি ক্ষোভ ঝেড়ে বলেন, ‘আমি মাওলানা সাঈদীর মুক্তি দাবি করিনাই। এটা আমার নামে মিথ্যা অপপ্রচার। সাঈদী জামায়াতের মানুষ, তাদের সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নাই’।

জামায়াতের সাথে তার দ্বন্দ্বের কারণ জানতে চাইলে আল্লামা বাবুনগরী বলেন, ২৩ বছর আগে বাধেরপাড় (বাবুনগর মাদরাসার উত্তর পাশে) জামায়াতের ভ্রান্ত আকিদা বিষয়ে আমরা একটি ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করলে জামায়াত-শিবিরের শতাধিক সশস্ত্র ক্যাডার ওই মাহফিলে গুলি চালায়। এতে অল্পের জন্য আমি রক্ষা পাই। সেই থেকে জামায়াতকে আমি ঘৃণা করি।

কিন্তু কেনো তার নামে এমন সংবাদ প্রচারিত হলো এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এটা তাদের শয়তানি। জামায়াতের অভ্যাস হলো মিথ্যাচার করা। তাঁর নামে প্রচারিত সংবাদটি মিথ্যা উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট মিডিয়াগুলোর প্রতি তাঁর নাম তুলে নেয়ার আহবান জানান বাবুনগরী।

আল্লামা সাঈদীর মুক্তি চেয়ে প্রকাশিত সেই সংবাদ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন মর্মে আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীসহ আরও যাদের নাম রয়েছে তারা হলেন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীর হাফেজ মাওলানা আতাউল্লাহ ইবনে হাফেজ্জী হজুর, ইসলামী কানুন বাস্তবায়ন পরিষদের আমীর মাওলানা আবু তাহের জিহাদী, সমমনা ইসলামী দলসমূহের মহাসচিব মাওলানা জাফরুল্লাহ খান, সম্মিলিত উলামা মাশায়েখ পরিষদের সহ-সভাপতি মাওলানা মহিউদ্দীন রব্বানী, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ মাওলানা যাইনুল আবেদীন, হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমীর মুফতি ইজহারুল ইসলাম চৌধুরী, হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, ড. মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী, হক্কানী পীর মাশায়েখ পরিষদের মহাসচিব শর্ষীনার ছোট পীর মাওঃ শাহ আরিফ বিল্লাহ সিদ্দীকি, মীরের সরাইর পীর সাহেব মাওঃ আঃ মোমেন নাছেরী,টেকের হাটের পীর সাহেব মাওঃ কামরুল ইসলাম সাঈদ আনসারী, মুফতি ফয়জুল হক জালালাবাদী, মুফতি মাওলনা আবদুর রহমান চৌধুরী, নেজামে ইসলামীর মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইজহার, মাওলানা আজিজুর রহমান আজিজ, মাওঃ হাফেজ আবুল হোসাইন, মুফতি মাওঃ নাসির উদ্দীন খান, হক্কানী ত্বরীকত মিশনের আমির আধ্যাত্মিক গুরু শাইখ নুরুল হুদা ফয়েজী, হক্কানী ত্বরীকত মিশনের জেনারেল সেক্রেটারী আল্লামা মুস্তাক ফয়েজী, ইসলামী ঐক্য মঞ্চ সভাপতি মাওলানা ইদ্রিস, ইসলামী কানুন বাস্তবায়ন কমিটির মহাসচিব মাওলানা ফয়জুল্লাহ আশরাফী, বেফাকের কেন্দ্রিয় উস্তাদ মুফতি বাহউদ্দীন, মুসলিম পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি শায়েখ মাওলানা রহমান আজিজ হবিগঞ্জী, খতিব পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা সালেহ, মুফাসসির পরিষদের কেন্দ্রিয় নেতা মাওলানা জাকির হোসাইন, হক্কানী পীর মাশায়েখ পরিষদের সহ সভাপতি মাওলানা আবুল কাশেম, খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমীর মাওলানা আবুল কাসেম কাসেমী,গণসভা আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা বনী ইয়ামিন,কাসেমী পরিষদের আমীর শায়খ আবু বকর কাসেমী প্রমুখ।

তালিকায় থাকা এই আলেমদের অন্যান্যদের মধ্যে অনেকের সাথেই এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি।

প্রসঙ্গত : নোভেল করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তির প্রেক্ষিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় মাওলানা সাঈদীর মুক্তির দাবি তুলতে দেখা যায় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী ও সাঈদী ভক্তদের। কেবল জামায়াত সমর্থকরাই নয় আরও অনেককেই দেখা যায় মাওলানা সাঈদীর মুক্তি দাবি করতে। যে তালিকায় রয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের সভাপতি শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক রহ. এর সন্তান মাওলানা মামুনুল হকসহ আরও অনেকে।

উল্যেখ্য : ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে রাজাকার বাহিনীর সদস্য হিসাবে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত থেকে হত্যার মতো মানবতাবিরোধী কার্যক্রমে সাহায্য করার অভিযোগ এনে দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে-আমির বা ভাইস প্রেসিডেন্ট আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন :

আল্লামা সাঈদীর মুক্তি চাইলেন মাওলানা মামুনুল হক (ভিডিও)

মাওলানা সাঈদীকে নিয়ে গোলাম মাওলা রনির আবেগঘন স্ট্যাটাস

এইচআরআর/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন