ভাইরাসের বিকেন্দ্রীকরণ

করোনা পরিস্থিতি

প্রকাশিত: ১০:৫০ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২৫, ২০২০

করোনা পরিস্থিতি আদৌ স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে নাই, সরকার এখন এটা বুঝতে পারছে। পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। সারা দেশে সেনাবাহিনী নামাতে হয়েছে। এটা একটা ভাল ডিসিশন। কিন্তু জনগনের গ্রাম অভিমুখে যাত্রাটা রোধ করা যায়নি। তবে ঠাস করে চাউল ও পিঁয়াজের দর পড়ে গেছে। পিঁয়াজ এখন আশি থেকে চল্লিশ টাকায় সাবেক মূল্যে। চাউলও আগের দামে ফিরে এসেছে। সেনাবাহিনী নামায় মুনাফাখোর চোর চোট্টা ব্যবসায়ীদের গায়ে জ্বর জ্বর ভাব আসছে।

করোনা ভাইরাসটি বাংলাদেশ যদি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে, আল্লাহ না করুন, তাহলে কী ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে! তা আল্লাহ মালুম। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিশ্বব্যাপী মহামারী হিসেবে ঘোষণা করেছে। এ মহামারী ঠেকাতে বাংলাদেশের কতটা সক্ষমতা আছে সেটা আমআদমিরা জানে।

করোনা নিয়ে সরকারের পদক্ষেপ নিতে আলসেমিটা ছিলো কুৎসিত লেবেলের। বলবেন- সরকার খুব এলার্ট, তাহলে বলবো আপনি একটা সরকারের ক্রীতদাস। যেখানে সংবিধানে দৈব-দুর্বিপাকের কথা লেখা আছে। সেখানে ঘোষিত তারিখে উপ নির্বাচন করে কিভাবে? নির্বাচনী প্রচারণা চলে কিভাবে?

চট্টগ্রামে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী নিজে প্রচারণা স্থগিত করে যখন নির্বাচন বন্ধের দাবীতে কমিশনের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রীট করার কথা বলেছেন, এরপর পরই নির্বাচন স্থগিতের ঘোষণা দেয় নির্বাচন কমিশন।

বিজয় সরণী ও মানিক মিয়া এভিনিউ দিয়ে আপনি পথ চলতে গেলে সহজেই বুঝবেন, সরকার এখনো একটা জমজমাট অনুষ্ঠানের মাঝে আছে। বৈশ্বিক বিবেচনায় আরো আগেই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন ছিল।

কাল থেকে সারা দেশে ট্রেন চলবে না, বাস চলবে না, লঞ্চ চলবে না। কোন যানবাহন চলবেনা। অফিস আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক-বীমা সব বন্ধ থাকবে- এমন ঘোষনাটা আরো আগে আসার দরকার ছিলো।

যদিও যারা গ্রামে যাওয়ার নিয়্যত করেছে, তারা যাবেই। তারা দীর্ঘ বন্ধটা খামাখা এখানে কাটাবে কেন? এখানে একা একা লাগে। এ যেন ঈদের ছুটি!

মাওয়ার ওপার থেকে বরিশাল যেতে দুশো আড়াইশো টাকা ভাড়া লাগে। আজ মাঝরাতে তা হাজার বারোশোতে উন্নীত হয়েছে। তবুও দক্ষিনবঙ্গ তথা  বরিশাইল্লারা যাবেই।

আরেকটা দীর্ঘ ছুটির কথা মিডিয়ারা আজকাল উচ্চারণ করেনা। ভাসুরের বদনাম করতে নেই। এই আওয়ামী লীগ জনগনকে হিউজ উপহার দেয়া অবরোধ ও হরতালের ছুটি। বর্তমানের ছুটি দেখে আমার কাছে আশ্চর্য লাগে না। এরকম ছুটি আওয়ামী লীগ ও তাদের জোট জনগনকে বহুবার দিয়েছে। বর্তমান প্রজন্ম সে সময় হাফপ্যান্ট পড়তো।

সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী রাস্তায় শুধু জরুরি মালবাহী ট্রাক চলবে। কিন্তু এখন ট্রাকগুলো মালামাল বোঝাই করে রাজধানীতে ঢুকছে কিন্তু ফিরছে মানুষ নিয়ে। এসব এখন হচ্ছে।

ভাইরাস না ছড়াতে নিজ বাসায় অবস্থান করতে বলা হয়েছে। সবকিছু বন্ধ করা হয়েছে। এটাকে ঈদের ন্যায় ছুটি ভেবে সবাই বাড়ি রওয়ানা দেয়ায় বরং ভাইরাসটি ছড়ায়ে দিতে তারা উঠেপড়ে পড়েছে। ভাইরাসের বিকেন্দ্রীকরণে অবদান রাখছে।

বাংলাদেশটা অলী-আউলিয়াদের দেশ। এখানে আল্লাহর বিশেষ নজর আছে, এমন ধারনা অনেকই করেন। সেজন্য এটা তাওক্কুলের অংশ হতে পারেনা। হাদীসে আছে, আগে উট বেঁধে রেখে তারপর তাওয়াক্কুল করবে।

চলমান এ মহামারী থেকে জাতিকে বাঁচাতে একমাত্র আল্লাহই পারেন। কোন সরকার, বিদেশী সরকার বা সংস্থা নয়।

আসুন সে তাওয়াক্কুলটাই হ্রদয়ে রোপন করে মাওলার নিকট সারেন্ডার করি। সোজা বাংলায়- আত্মসমর্পণ করে আসতাগফিরুল্লাহ আসতাগফিরুল্লাহ  জপি।

লেখক : গবেষক ও বিশ্লেষক।

মন্তব্য করুন