দুজন আক্রান্ত, একজন সুস্থ: লকডাউনে নেপাল

করোনাভাইরাস-নেপাল

প্রকাশিত: ৯:৪২ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২৪, ২০২০
করোনা বিস্তার রোধে নেপাল সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আইসোলেশন প্রস্তুতি, ছবি: নেপাল টাইমস

শাহনূর শাহীন, পাবলিক ভয়েস: নেপালে এখন পর্যন্ত দুজনের শরীরে করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে। এরমধ্যে জানুয়ারিতে প্রথম দেশটিতে করোনাভাইরাস রোগী শনাক্ত হয়। ওই রোগী ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে গেছে। সম্প্রতি ফ্রান্সফেরত এক কিশোরীর শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। আর এতেই পুরো দেশে লকডাউনের ঘোষণা দেয় সরকার।

আজ মঙ্গলবার মধ্যরাত ১২ থেকে কার্যকর হওয়া লকডাউন বহাল থাকবে ৩১ মার্চ ভোর ৬টা পর্যন্ত। খবর ‘দ্য হিমালয় টাইমস’। সোমবার রাতে এ খবর দিয়েছে ‘দ্য হিমালয় টাইমস’।

গত জানুয়ারিতে নেপালে প্রথম করোনারোগী চিহ্নিত হওয়ার পর দ্বিতীয় আর কেউ আক্রান্ত হয়নি দেশটিতে। প্রায় আড়াইমাস পর দ্বিতীয়জন শনাক্ত হয়েছে তাও বিদেশফেরত। গত সপ্তাহে ওই কিশোরী ফ্রান্স থেকে দেশে ফেরে। এরপর পরীক্ষা শেষে গতকাল তার শরীরে করোনা শনাক্ত করা হয়। আর এতেই লকডাউনের ঘোষণা দেয় সরকার।

নেপালের সর্বাধিক পঠিত জাতীয় ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য হিমালয় টাইমস’ জানায়, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবার আগে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছিল চীনের সীমান্তবর্তী এই দেশটিতে। এরপর থেকেই নানা ব্যবস্থায় এই ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকিয়ে রেখেছিল তারা।

স্বাস্থ্যকর্মীকে দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন এক নারী সেনা কর্মকর্তা, ছবি: নেপাল টাইমস

প্রায় আড়াই মাস পর সোমবার দেশটিতে করোনা আক্রান্ত দ্বিতীয় রোগী পাওয়া গেছে। এর কয়েক ঘণ্টা পরই দেশজুড়ে লকডাউন ঘোষণা করেছে নেপাল সরকার।

নেপাল টাইমস এর প্রতিবেদনে জানা যায়, নেপালে করোনা আক্রান্ত দু’জনই বিদেশফেরত। গত ১৩ জানুয়ারি গলায় জ্বালাপোড়া ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন চীনফেরত এক শিক্ষার্থী। দিন দশেক পর তার শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়ে। ওই  ওই শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে গেছে।

এরপর ফ্রান্সফেরত এক কিশোরীর শরীরে করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে। ১৯ বছর বয়সী এই কিশোরী কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে গত সোমবার (১৬ মার্চ) রাতে প্যারিসে নামে। এরপর দোহা থেকে ট্রানজিট নিয়ে সে পরদিন মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল ১০টায় কাঠমান্ডু পৌঁছায়।

বাড়ি ফেরার পর তার মধ্যে করোনার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। কিন্তু কয়েকদিন যাওয়ার পর সে অসুস্থতা অনুভব করে এবং রোববার (২২ মার্চ) সে করোনা পরীক্ষা করায় এবং তার ফলাফল পজিটিভ আসায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গতকাল সোমবার (২৩ মার্চ) কিশোরীকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এর কয়েক ঘন্টা পরেই সোমবার রাতেই লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেয় নেপাল সরকার।

প্রত্যেকটি অস্থায়ী কোয়ারেন্টিন রুম নাম্বারিং করে পার্থক্য করা হয়েছে, ছবি: নেপাল টাইমস

স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা মন্ত্রণালয়ের বরাতে হিমালয় টাইমস জানায়, আক্রান্ত ওই শিক্ষার্থীর পরিবারের ৩জন এবং সংস্পর্ষে আসা আরো ৩জনকে কোয়ারেন্টিনে নেওয়া হয়েছে। ৬ জনকেই টেকু-ভিত্তিক সুক্ররাজ ক্রান্তীয় ও সংক্রামক রোগ হাসপাতালে (এসটিআইডিএইচ) পাঠানো হয়েছে।

এসটিডিএইচ-র মুখপাত্র ও পরামর্শক ডা. অনুপ বাসতোলা বলেন, ‘রোগী বর্তমানে বিচ্ছিন্ন এবং স্থিতিশীল অবস্থায় আছেন। যদি রোগীর জটিলতা দেখা দেয় তবে আমরা তাকে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) স্থানান্তরিত করব’।

এদিকে ওই কিশোরী যে ফ্লাইটে দেশে এসেছে সেই ফ্লাইটের ২৫০ যাত্রীর পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা করছে দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ।

রোগী খুব বেশি না হলেও ইতিমধ্যেই করোনা ঠেকাতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে নেপাল সরকার। দেশজুড়ে সব সিনেমা হল, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, স্টেডিয়াম, জাদুঘর, সুইমিংপুল ঘোষণা করা হয়েছিলো লকডাউনের আগেই।

এছাড়া দেশটির রাজধানী কাঠমান্ডুতে সেনাবাহিনীর সদর দফতরে মডেল কোয়ারেন্টাইন জোন তৈরি করা হয়েছে। এতে অন্তত ৫৪টি তাঁবু রয়েছে। একেকটি তাঁবুতে দু’জন করে রোগী থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সেখানে একাধিক আইসোলেশন রুম, নিয়মিত চেক-আপ রুম, আলাদা পানির ট্যাপ রয়েছে। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবিলার সময় কীভাবে রোগীদের সেবা দিতে হবে, সুরক্ষা সামগ্রী পরে তার মহড়াও করেছেন দেশটির সেনা সদস্যরা।

‘দ্য হিমালয় টাইমস’ থেকে শাহনূর শাহীন

/এসএস/পাবলিকভয়েস/

মন্তব্য করুন