আক্রান্ত রোগীর ফ্লাইটে আসা ২৫০ যাত্রীকে খুঁজছে নেপাল স্বাস্থ্যবিভাগ

করোনাভাইরাস

প্রকাশিত: ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২৪, ২০২০
করোনা বিস্তার রোধে নেপাল সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আইসোলেশন প্রস্তুতি, ছবি: নেপাল টাইমস

শাহনূর শাহীন, পাবলিক ভয়েস: নেপালে মাত্র দু’জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। একজন সুস্থও হয়ে গেছে। দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম গত ১৩ জানুয়ারি করোনা শনাক্ত হয়েছিলো হিমালয়ের পাদদেশের এই দেশটিতেই। এরপর আড়াইমাসেও আর দ্বিতীয় কেউ আক্রান্ত হয়নি দেশটিতে।

সর্বশেষ গত সপ্তাহে (১৬ মার্চ, সোমবার) ফ্রান্স থেকে এক কিশোরী শিক্ষার্থী আসে দেশটিতে। পরীক্ষা শেষে গতকাল সোমবার (২৩ মার্চ)  তার শরীরে করোনা চিহ্নিত করা হয়। আর এতেই গোটা দেশে লকডাউন ঘোষণা করে নেপাল সরকার।

করোনারোধে পূর্ব থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখে নেপাল। শুরু থেকেই সেনাবাহিনীর তত্ত্বধানে সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করে নেপাল।

রাজধানী কাঠমান্ডুতে সেনাবাহিনীর সদর দফতরে মডেল কোয়ারেন্টাইন জোন তৈরি করা হয়েছে। এতে অন্তত ৫৪টি তাঁবু রয়েছে। একেকটি তাঁবুতে দু’জন করে রোগী থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সেখানে একাধিক আইসোলেশন রুম, নিয়মিত চেক-আপ রুম, আলাদা পানির ট্যাপ রয়েছে। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবিলার সময় কীভাবে রোগীদের সেবা দিতে হবে, সুরক্ষা সামগ্রী পরে তার মহড়াও করেছেন দেশটির সেনা সদস্যরা।

স্বাস্থ্যকর্মীকে দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন এক নারী সেনা কর্মকর্তা, ছবি: নেপাল টাইমস

রোগী খুব বেশি না হলেও ইতিমধ্যেই করোনা ঠেকাতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে নেপাল সরকার। দেশজুড়ে সব সিনেমা হল, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, স্টেডিয়াম, জাদুঘর, সুইমিংপুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিলো লকডাউনের আগেই।

সর্বশেষ গতকাল সোমবার দেশটিতে দ্বিতীয় করোনারোগী শনাক্তের পর আরো কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে সরকার। সারাদেশে লকডাউনের পর আক্রান্ত ওই রোগীর স্বজনসহ ৬ জনকে হাসাপাতালে পাঠিয়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়। খুঁজছে আরো ২৫০জনকে।

স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা মন্ত্রণালয়ের বরাতে দেশটির সর্বাধিক জনপ্রিয় জাতীয় ইংরেজী দৈনিক ‘দ্য হিমালয় টাইমস’ জানায়, আক্রান্ত ওই শিক্ষার্থীর পরিবারের ৩জন এবং সংস্পর্ষে আসা আরো ৩জনকে কোয়ারেন্টিনে নেওয়া হয়েছে। ৬ জনকেই টেকু-ভিত্তিক সুক্ররাজ ক্রান্তীয় ও সংক্রামক রোগ হাসপাতালে (এসটিআইডিএইচ) পাঠানো হয়েছে।

এসটিডিএইচ-র মুখপাত্র ও পরামর্শক ডা. অনুপ বাসতোলা বলেন, ‘রোগী বর্তমানে বিচ্ছিন্ন এবং স্থিতিশীল অবস্থায় আছেন। যদি রোগীর জটিলতা দেখা দেয় তবে আমরা তাকে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) স্থানান্তরিত করব’।

শুধু তাই নয়; ওই কিশোরী শিক্ষার্থী যে ফ্লাইটে দেশে এসেছে সেই ফ্লাইটের ২৫০ যাত্রীর পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা করছে দেশটির স্বাস্থ্যবিভাগ।

১৯ বছর বয়সী এই কিশোরী কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে গত সোমবার (১৬ মার্চ) রাতে প্যারিসে নামে। এরপর দোহা থেকে ট্রানজিট নিয়ে সে পরদিন মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল ১০টায় কাঠমান্ডু পৌঁছায়। কিশোরী ছাড়াও ওই ফ্লাইটে আরো ২৫০ জন যাত্রী আসে নেপাল। এখন সেই ২৫০ যাত্রীকে শনাক্ত করার কাজ করছে নেপাল স্বাস্থ্যবিভাগ।

সংশ্লিষ্ট খবর:
দুজন আক্রান্ত, একজন সুস্থ: লকডাউনে নেপাল

‘দ্য হিমালয় টাইমস’ অবলম্বনে শাহনূর শাহীন

/এসএস

মন্তব্য করুন