করোনাক্রান্ত হয়ে মৃতদের লাশ দাফন-কাফন করতে হবে : আল্লামা মাসঊদ

প্রকাশিত: ১১:০৮ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৩, ২০২০

করোনা আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা গেলে তার লাশের যথানিয়মমত দাফন-কাফন ও গোছলের ব্যবস্থা করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, শোলাকিয়া ঈদগাহের প্রধান ইমাম মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসঊদ।

তিনি বলেন, ‘ইসলামের দৃষ্টিতে লাশ বিকৃতি করা অত্যন্ত জঘন্য কাজ। সুতরাং দাফন-কাফনই করতে হবে। আমি কর্তৃপক্ষকে আহবান জানাই, যথাযথ সতর্কতা ও যাবতীয় সুরক্ষা মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রয়োজনে দাফনকার্যের জন্য বিশেষ টিম তৈরী করুন।

ফরিদ উদ্দিন মাসউদ পরিচালিত ইকরার মূখপত্র খ্যাত পাথেয় টুয়েন্টিফোর মাওলানা মাসঊদের বরাতে এ তথ্য দিয়েছেন।

বিশ্বব্যাপী প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস (কভিড-১৯) ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দেশে দেশে মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলছে। বাংলাদেশেও হানা দিয়েছে এই মহামারী। দেশে এ পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু তথ্য নিশ্চিত করেছে জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। সোমবার (২৩ মার্চ) এক সংবাদ সম্মেলনে আইইডিসিআর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা এই তথ্য জানান।

তবে এই নাজুক সময়ে একটি গোষ্ঠি করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করা মৃতদেহ নিয়ে জলঘোলা করার চেষ্টা করছে। মানবজীবনের অত্যন্ত স্পর্শকাতর এই বিষয়টি উপজীব্য করে মুসলমানদের উস্কে দিতে যাচ্ছে অনেকে। তাদের দাবি, করোনা ভাইরাসে মৃত মুসলমানদের লাশ দাফন না করে যেন পুড়িয়ে দেয়া হয়।

কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে লাশ বিকৃতি করা অত্যন্ত জঘন্য কাজ। সুতরাং দাফন-কাফনই করাটাই ইসলামের নির্দেশনা। তাছাড়া একটু সতর্কতার সাথে এবং প্রটেকশন নিয়ে লাশ দাফন কাফন করা হয় তাহলে করোনা সংক্রামনের ভয় তেমন থাকে না বলেই জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

তবে করোনা আক্রান্তের লাশ দাফন কাফন করার জন্য ঢাকায় ইতোমধ্যেই স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট স্থানে শরীয়তের নির্দিষ্ট বিধি মোতাবেক যেন লাশ দাফন করা হয়।’ এমনটাই চেয়েছেন দেশের এই পরিচিত আলেম মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসঊদ।

আইইডিসিআর পরিচালকের তথ্যমতে, বাংলাদেশে নতুন করে আরও ছয় জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত করোনা শনাক্ত রোগী ৩৩ জন। নতুন ছয় রোগীর মধ্যে পুরুষ তিন জন, নারী তিন জন।

এই কর্মকর্তা আরও জানান, নতুন আক্রান্তদের মধ্যে তিন জন স্বাস্থ্যকর্মী। তাদের মধ্যে দুই জন নার্স, একজন চিকিৎসক।

আক্রান্ত ৩৩ জনের মধ্যে এখন ঢাকায় আছেন ১৫ জন, মাদারীপুরে আছেন ১০ জন, নারায়ণগঞ্জে আছেন তিন জন, গাইবান্ধায় দুই জন, কুমিল্লায় একজন, গাজীপুরে একজন এবং চুয়াডাঙ্গায় একজন।

মন্তব্য করুন