‘সতর্কতা তাওয়াক্কুল পরিপন্থী নয়, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে চলুন’

করোনাভাইরাস

প্রকাশিত: ১:৪০ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৩, ২০২০

শাহনূর শাহীন, পাবলিক ভয়েস: বিশ্বব্যাপী মহামারী করোনাভাইরাস নিয়ে দেশবাসীকে সতর্কতার আহ্বান জানিয়ে ফেসবুক লাইভে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর নায়েবে আমীর চরমোনাই মাদরাসার শায়খুল হাদীস মুফতী সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করীম।

দেশবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক ভিডিও বার্তা দিয়েছেন। ভিডিও বার্তায় তিনি স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে দেশবাসীকে বেশি বেশি দোয়া-প্রার্থনা, সামাজিক, ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় বিষয়ে বিশেষ পরামর্শ দিয়েছেন।

মুফতী ফয়জুল করীম বলেছেন, ‘বিশ্বজুড়ে মানবতার ওপর যে বিপর্যয় নেমে এসেছে আমরা মনে করি আল্লাহ পাকের কোরআনের ভাষায় এগুলো আমাদেরই হাতের কামাই। কাজে প্রত্যেক মানুষের উচিত গর্হিত কাজের জন্য তাওবা করা। মুসলমান মুমিনদের অবশ্যই অবশ্যই উচিত তাওবা করা, পাপ থেকে ফেরা, বেশি বেশি দোয়া করা’।

তিনি বলেন, রাসূল সা. বলেছেন- দোয়া এমন এক কার্যকরি ঔষধ; যেই গজব নাযিল হয়ে গেছে দোয়া বরকতে আল্লাহ সেই গজব উঠিয়ে নেন আর যেই গজব নাযিলের অপেক্ষায় আছে তা ফিরিয়ে নেন।

ফয়জুল করীম বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি আল্লাহ তাআলা সকল ক্ষমতার মালিক। আল্লাহ পাক ইচ্ছা করলে আমাদের এই বিপদ থেকেও গোটা বিশ্বকে হেফাজত করতে পারেন। তবে সতর্কতা তাকদীরের খেলাফ না। নবী করীম সা. এর যামানায় কোনো এক এলাকায় প্লেগ রোগ দেখা হয়েছিলো; তখন নবী সা. বলেছেন, যারা এখানে আছে তারা বের হবে না, বাহিরের লোক এখানে ঢুকবে না। সুতরাং, সতর্কতামূলক এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় না যাওয়া তাওক্কুল ও তাকদীরের খেলাফ না’।

তিনি আরো বলেন, ‘নবী সা. বলেছেন তোমরা উটের গলায় রশি বেঁধে তাওয়াক্কুল করো, না বেঁধে তাওয়াক্কুল করো না। সুতরাং বিশ্বের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা যে সমস্ত পরামর্শ দিয়েছেন; ‘বেশি বেশি সাক্ষাত না করা, মোসাফাহা না করা, এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় না যাওয়া, সোরগোল না করা’ এর থেকে আমাদের সবার সতর্ক হওয়া উচিত। কাজেই এটা মান্য করা তাওয়াক্কুলের খেলাফ না’।

তিনি আরো বলেন, ‘নামাজে যাওয়ার আগে অযু করে যাবো। ঘরে সুন্নাত পড়বো। মসজিদে গিয়ে জামাতে নামাজ পড়বো। যদি কারো হাঁচি-কাশি হয় তাহলে টিস্যু বা রুমাল দিয়ে প্রতিরোধ করবো’।

তবে করোনাভাইরাস নিয়ে মিডিয়া আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে উল্লেখ্য করে তিনি বলেছেন, ‘এক সময় ডায়রিয়ায়, বসন্তে এতো লোক মারা গেছে, এক বাড়িতে অসংখ্য লোক মারা গেছে। এক কবরে কয়েকজন মানুষকে দাফন করা হয়েছে। মানুষ বিরতীহীন মারা গেছে। তৎকালীন সময়েও এতো আতঙ্ক ছড়ায়নি। সুতরাং আমরা আতঙ্কিত হবো না, সচেতন হবো’।

তিনি বলেন, ‘মৃত্যুকে ভয় করার কিছু নেই। মৃত্যু অবধারিত। যখন মৃত্যু আসবে আসবেই। মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। আমি বলবো মৃত্যুর চেয়ে মৃত্যুপরবর্তী জীবন নিয়ে বেশি সতর্ক হতে হবে। কাজেই বিশেষজ্ঞগণ যে পরামর্শ দিয়ে থাকেন তা মেনে চলার চেষ্টা করতে হবে।

ইসলাম আগে থেকেই তাহারাত ফরজ। আর বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন করোনা থেকে বাঁচার সবচেয়ে বড় উপায় পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা। আর ইসলাম তো এ ব্যাপারে আগে থেকেই নির্দেশনা দিয়েছেন’।

এছাড়াও মুফতী ফয়জুল করীম সুরাহ ফাতেহা বেশি বেশি পড়া এবং খাওয়ার সময় খাবারে ফুঁ দিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তাছাড়া বিপদ-আপেদ থেকে বেঁচে থাকার বিভিন্ন মাসনুন দোয়া পড়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

মুফতী ফয়জুল করীম, মন্ত্রীসভার সদস্য ও নেতাদেরকে বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য পরিহার করার পরামর্শ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা দোয়া করি, তাওবা করি। আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন আমাদের রক্ষা করবেন। আল্লাহ পাক আমাকে, গোটা বিশ্বকে, গোটা মানব জাতিকে, গোটা বিশ্বকে, গোটা মাখলুকাতকে হেফাজত করুন’।

/এসএস

মন্তব্য করুন