নির্বাচন কমিশন মানসিক করোনায় আক্রান্ত: ব্যারিস্টার সুমন (ভিডিও)

চসিক এবং উপ-নির্বাচন

প্রকাশিত: ১১:২৯ অপরাহ্ণ, মার্চ ২০, ২০২০
জুমআ’র পরে লাইভে আসেন ব্যারিস্টার সুমন

শাহনূর শাহীন,পাবলিক ভয়েস: নির্বাচন কমিশনকে মানসিক করোনায় আক্রান্ত বলে মন্তব্য করেছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ের সংগতি-অসঙ্গতি নিয়ে লাইভে এসে ব্যাপক পরিচিতি পাওয়া বিশিষ্ট সমাজকর্মী ও আইনজীবি ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

শুক্রবার জুমআ’র নামাজের পরে দুপুর আড়াইটার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লাইভে এসে এ মন্তব্য করেন ব্যারিস্টার সুমন।

‘মানসিক করোনায় আক্রান্ত নির্বাচন কমিশন, তাকেই আগে হোম কোয়ারেন্টেনে পাঠান’ শিরোনামে এক লাইভ ভিডিওতে সুমন বলেন, আজকে সারা পৃথিবীতে ইমার্জেন্সি ঘোষণা করা হয়েছে। সৌদি আরবের মক্কা শরীফে পর্যন্ত জুমআ’র নামাজ বন্ধ করা হয়েছে। বাংলাদেশে বলা হচ্ছে অজু এবং নফল নামাজ নিজের বাড়িতে পড়বেন, ফরজ নামাজ দরকার হলে মসজিদে গিয়ে পড়বেন। সারা পৃথিবী যখন এমন অবস্থা; তখন বাংলাদেশে নির্বাচন কমিশনের এই কয়েকটা নির্বাচন কররার জন্য কী এমন ফরজে আইন হয়ে গেলো যে নির্বাচন করতেই হবে।

সুমন বলেন, আমার কাছে মনে হইতেছে নির্বাচন কমিশন নিজেই মানসিক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত না হলে নির্বাচন করতে পারে না। আমার বিবেকে ধরে না কীভাবে নির্বাচন কমিশন এমন করে। করোনায় মারার আগে আমাদেরকে নির্বাচন কমিশনই তো অর্ধেক মেরে ফেলবে।

‘সারাদেশে দূর পাল্লার বাস বন্ধ করেছে সরকার। সরকার যেখানে বলছেন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকেন, হোমে থাকেন, একই সময়ে নির্বাচন কমিশন কীভাবে বলে কালকে নির্বাচন হবে। নির্বাচন কমিশন কি রোবট চালায়, তারা কি দেখেন না দেশের পরিস্থিতি’ প্রশ্ন তোলেন ব্যারিস্টার সুমন।

তিনি বলেন, কালকে যদি নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর মহামারী আকার ধারণ করে তাহলে এর দায়ভার কে নেবে বলে প্রশ্ন তোলেন ব্যারিস্টার সুমন।

আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে ব্যারিস্টার সুমন বলেন, আপনারা বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ করেন। আপনারা জানেন বঙ্গবন্ধু চাইলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন। কিন্তু তিনি বাংলাদেশের মানুষের জন্য জেলে চলে গেছেন। আপনারা যারা বঙ্গবন্ধুর দলের আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে নৌকায় ভোট চাচ্ছেন,কিসের বিবেকে আপনার ভোট চাচ্ছেন? আপনার তো মানুষের সিকিউরিটি নিয়ে কথা বলবেন আপনার কোন বিবেকে ভোট চাচ্ছন?

সুমন বলেন, আপনাদের দু’একজনের এমপি (জনপ্রতিনিধি) হওয়ার নেশা এবং লোভ পড়ে আপনার আওয়ামী লীগকে বিতর্কিত করছেন। নির্বাচন কমিশন অসুস্থ হতে পারে আপনারা তো আওয়ামী লীগ করেন আপনারা অসুস্থ হতে পারেন না।

বিএনপিকে উদ্দেশ্যে সুমন বলেন, বিএনপি করি না তাই বিএনপির কথা বলতে চাই না। বিএনপি যারা করেন তারা বিএনপির প্রার্থীদের বলতে পারেন, দেশের বৃহত্তর চিন্তায় আমার নির্বাচন বয়কট করবো। নির্বাচন কমিশনকে বলতে পারেন আওয়ামী লীগ নির্বাচন করতে পারলে করে ফেলুক আমরা নির্বাচন করবো না। তাও তো মানুষের সামনে আপনাদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে। আপনারা আসলে আমাদের নেতা না। আপনারা অন্য কারণে নেতা হতে চান।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে ব্যারিস্টার ‍সুমন আরো বলেন, আমি জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে বিচার দিচ্ছি, এই দুয়েকজন এমপি এরা যা করতেছে বিবেকহীনভাবে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে; এটা আমাদেরকে ক্ষতিগ্রস্থ করতেছে। এটা বঙ্গবন্ধুর ইমেজে লাগে। আদর্শের সঙ্গে লাগে।

আপনার কাছে অনুরোধ আপনিও দরকার হলে বুঝানোর চেষ্টা করেন। এই নির্বাচন বন্ধ করুন। সবাই যেভাবে আমরা ৭১ ঝাঁপিয়ে পড়েছি এভাবে করোনার বিরুদ্ধে আমরা ঝাঁপিয়ে পড়তে চাই।

সুমন বলেন, সারা বাংলাদেশ যদি বাঁচে যে ইচ্ছা নেতা হোক কোনো অসুবিধা নাই। বাংলাদেশটাকে বাঁচাতে হবে। কারণ ব্যক্তির চেয়ে দল বড়। দলের চেয়ে দেশ বড়। ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।

প্রসঙ্গ, আগামী ২৯ মার্চ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া রাত পোহালেই (২১ মার্চ) ঢাকা-১০, গাইবান্ধা-৩, বাগেরগাট-৪ আসনের উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এ লক্ষ্যে এখনো পর্যন্ত নিজেদের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশন আতঙ্কের মধ্যেও প্রায় ১৬ হাজার কর্মীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রস্তুতিতে আছে। আজ শুক্রবারও চসিক নির্বাচন উপলক্ষ্যে প্রায় ২ হাজার ৫০০ কর্মীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

এ নিয়ে সারাদেশে তুমুল সমালোচনা তৈরি হয়েছে। মানবাধিকার কর্মী থেকে শুরু করে বিশিষ্টজনরা নির্বাচন স্থগিত করার দাবি জানিয়েছেন। তবে নির্বাচন কমিশন এ দাবি নাকচ করে দিয়েছে।

আজ শুক্রবার নির্বাচন কমিশন সচিব মো. আলমগীর বলেন, করোনা এখনো মহামারি আকারে ছড়ায়নি। এজন্য কমিশন নির্বাচনটা সম্পন্ন করা যুক্তিযুক্ত মনে করছে। তবে করোনার কারণে ভোটার উপস্থিতি কম হবে ধরে নিয়েই আমরা নির্বাচন করছি।

তিনি বলেন, উপ-নির্বাচন আগামী ২১ মার্চই অনুষ্ঠিত হবে। ভোটাররা হাত ধুয়ে ভোট দেবেন। ভোট দিয়ে আবার হাত ধোবেন।

উল্লেখ, জনস্বর্থে নির্বাচন স্থগিত চেয়ে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা.  শাহাদাত হোসেন। এছাড়া নির্বাচন বন্ধের দাবি জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের (হাতপাখা) মেয়র প্রার্থী আলহাজ্ব জান্নাতুল ইসলাম।

লাইভ ভিডিও

/এসএস

মন্তব্য করুন