মাদরাসা খোলা রাখায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে চলছে হাইয়ার বৈঠক

প্রকাশিত: ৪:১০ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৯, ২০২০
মাদরাসা খোলা রাখায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

টাঙ্গাইলের মধুপুরে বেফাক অধিভুক্ত জামেয়া ক্বাসিমুল উলুম হাটখোলা মাদ্রাসায় উপজেলা নিবার্হী অফিসারের নেতৃত্বে এক অভিযানে সরকারি নির্দেশ অমান্য করে মাদ্রাসা খোলা রাখার দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে প্রশাসন।

 আজ দুপুর ১২ টার দিকে উপজেলা নিবার্হী অফিসারের নেতৃত্বে বেশ কিছু পুলিশ মাদ্রাসায় এসে এই জরিমানা করেন বলে জানিয়েছেন মাদরাসার উচ্চপদস্থ একজন দায়িত্বশীল।

অপরদিকে হাইয়াতুল উলইয়ার কো-চেয়ারম্যান ফরিদাবাদ মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস এর দপ্তর থেকে একটি সূত্রে জানা গেছে, মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে হাইয়াতুল উলিয়ার বৈঠক চলছে। বৈঠক থেকে কওমী মাদরাসা বিষয়ে নতুন কোন সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

জামেয়া ক্বাসিমুল উলুম হাটখোলা মাদরাসার এ বিষয়ে ওই মাদরাসার উচ্চ পর্যায়ের একজন দায়িত্বশীল নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, বেফাক ও হাইয়াতুল উলিয়ার সিদ্ধান্ত অনুসারে পরীক্ষা চালু রাখার প্রেক্ষিতে সতর্কতার সাথে মাদরাসায় ছাত্রদের কেবল নিজ নিজ দায়িত্বে পড়াশোনা করার জন্য রাখা হলেও প্রশাসন তাদের কে জরিমানা করেছে। অনাবাসিক সকল ছাত্রদেরকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছিল বলেও নিশ্চিত করেছেন তিনি।

জামেয়া ক্বাসিমুল উলুম হাটখোলা মাদ্রাসা

তিনি আরও জানিয়েছেন আমরা মাদরাসার সকল শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছিলাম কিন্তু পরীক্ষার প্রস্তুতি হিসেবে ছাত্ররা নিজ নিজ দায়িত্বে মাদ্রাসায় ছিল।

মাদরাসায় সকল ছাত্রেদের নিরাপত্তা আমরা নিশ্চিত করেছি মন্তব্য করে তিনি বলেন, অনেকটাই কোয়ারেন্টাইন এর মত করেই ছাত্রদেরকে রাখা হতো। এছাড়াও ভয়াবহ করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে নিয়মিত দোয়া এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম আমাদের ছিল যাতে করে কোন ছাত্রদের মাঝে এই ভাইরাস ছড়াতে না পারে।

এমনকি মাদরাসা থেকে কাউকে বের হওয়া এবং মাদরাসায় কারো প্রবেশের কোনো অনুমতি ছিল না। বিশেষ করে অনাবাসিক সকল ছাত্রদেরকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছিল। কেবল আবাসিক কিছু ছাত্ররা সকল নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তবেই মাদরাসায় ছিল। তারপরও উপজেলা নির্বাহি অফিসার এসে জরিমানা করেছেন। ওই নির্বাহী অফিসার অনেকটাই বাধ্য করে তাদেরকে থানায় নেয়ার হুমকি দিয়ে জরিমানা করেছেন বলেছেন জানান তিনি।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দপ্তরের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি। একাধিক নাম্বারে ফোন দেয়া হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।

আরও পড়ুন :

বন্ধ থাকবে ক্লাস, যথা সময়ে হবে বেফাক-হাইয়ার পরীক্ষা’

তৃণমূলে প্রশাসনের চাপ: কী ভাবছে বেফাক-হাইয়া?

জরিমানার এ বিষয়ে হাইয়াতুল উলইয়ার কারো সাথে কথা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে ওই দায়িত্বশীল বলেন, আমরা এখনও তাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারিনি তবে গ্রামের মাদরাসা হিসেবে ৫০,০০০ টাকার এত বড় একটি এমাউন্ট জরিমানা হিসেবে নেওয়া আমাদের জন্য বিশাল চাপের বিষয়। আমরা অবশ্যই আমাদের টাকা ফেরত চাই।

পরবর্তী পদক্ষেপে মাদরাসা খোলা রেখেছেন কিনা জানতে চাইলে দায়িত্বশীল জানান, এরপরেও মাদরাসা খোলা রাখার কোনো সুযোগ আমাদের নেই। আমরা মাদরাসা তৎক্ষণাৎ বন্ধ দিয়ে দিয়েছি এবং ছাত্ররা যথাসম্ভব দ্রুত নিজ নিজ বাড়িতে চলে যাওয়ার নির্দেশনা জারী করেছি।

মাদরাসায় জরিমানা করার বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে হাইয়াতুল উলইয়ার চেয়ারম্যান মাওলানা কুদ্দুসের সাথে পাবলিক ভয়েসের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে জানা যায় তিনি হাইয়াতুল উলইয়ার পরবর্তি পদক্ষেপ হিসাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বৈঠক করছেন তাই এ বিষয়ে তার মতামত নেওয়া যায়নি।

দেশে আরও নতুন ৩ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত

তবে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে কওমী মাদরাসা সম্মিলিত এই শিক্ষাবোর্ডের একটি সূত্র পাবলিক জানিয়েছেন, এটি অবশ্যই অন্যায় সিদ্ধান্ত। এবং নির্বাহী অফিসারের বাড়াবাড়ি। কারণ হাইয়াতুল উলিয়া সিদ্ধান্তক্রমে সকল শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করে সতর্কতার সাথে ছাত্রদেরকে মাদরাসায় থাকার অনুমতি দিয়েছিলো। এবং উদ্বুদ্ধ যেকোনো পরিস্থিতিতে হাইয়াতুল উলিয়া নতুন যে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারে ততটুকু সময় অপেক্ষা করা উচিত ছিল।

কওমী মাদরাসা বিষয়ক সকল খবর পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

মন্তব্য করুন