করোনা ভাইরাস নিয়ে তামাশা না করার আহবান হাবিবুর রহমান মিছবাহ’র

প্রকাশিত: ১:১৪ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১৪, ২০২০
করোনা ভাইরাস নিয়ে তামাশা না করার আহবান হাবিবুর রহমান মিছবাহ’র

করোনা ভাইরাস নিয়ে কোন হাসি তামাশা এবং আতঙ্কিত না হওয়ার বিশেষ পরামর্শ দিয়েছেন পাবলিক ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর সম্পাদক, বিশিষ্ট আলোচক মুফতী হাবিবুর রহমান মিছবাহ।

ফেনীতে আজ আলহাজ্ব একরামুল হক ভুঁঞা’র ব্যবস্থাপনায় বিশিষ্টজনদের সাথে ‘হৃদ্যতার সংলাপ’ নামে এক বৈঠকে ‘করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ও এ বিষয়ে ইসলামী দৃষ্টিকোন কী’ এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস একটি আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এর প্রক্রিয়া প্রতিক্রিয়া যা দেখা যাচ্ছে তাতে স্বাভাবিক ভাবে বলা যায় আল্লাহ তায়ালা এটাকে গজব হিসেবে নাযিল করেছেন তবে এটাকে সরাসরি গজব হিসেবে বলার অনুমতি নাই। বরং এ সমস্ত সকল বিপদই আল্লাহ তায়ালা মানুষকে পরীক্ষা করার জন্য অবতীর্ণ করে থাকেন।

আমরা যদি মুসলমানের কথা ধরি যে আমাদের করণীয় কি তাহলে বলা যায়, এসব বালা-মুসিবত বা ব্যক্তিগত সমস্যা এগুলোর জন্য কিছু মাসনুন দোয়া আছে। বিশেষ করে এসব মুসিবতের সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেসব দোয়া পড়েছেন তা সকলের পড়া উচিত।

তিনি আরও বলেন, তবে করোনা ভাইরাস সম্পর্কে যতটুকু অনুসন্ধান করেছি তাতে এ ভাইরাসটি মুসলমানদের মধ্যে সংক্রামনের সম্ভাবনা কম। কারণ করোনা ভাইরাস প্রতিরক্ষার জন্য পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতাসহ যেসব কার্যক্রম হাতে নেয়া হচ্ছে একজন প্র্যাকটিসিং মুসলমান তা নিয়মিত পালন করে থাকে।

তারপরও মুসলমানরা নিয়মিত অজু করে থাকা এবং নাপাক জিনিস থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করা। এসবের মাধ্যমে করোনা থেকে অনেকটাই বেঁচে থাকা সম্ভব। এবং যথাসম্ভব মুসলমানরা তো বটেই সকলেই হালাল খাবার খাওয়ার চেষ্টা করা। সাথে সাথে করোনা ভাইরাস সম্পর্কে অভিজ্ঞ ডাক্তাররা যেসব পরামর্শ দিয়ে থাকেন তাও মেনে চলা উচিত। কারণ অভিজ্ঞ ডাক্তারদের চিকিৎসা নেয়া এটি একটি সুন্নত কিন্তু ভরসা থাকতে হবে যে, আল্লাহ তায়ালাই সুস্থ করবেন এবং সকল বিপদ থেকে তিনিই রক্ষা করবেন।

তিনি আরও বলেন, করোনার কারনে বিভিন্ন মাহফিল বন্ধ করে দেয়া এবং ধর্মীয় কার্যক্রম সীমিত করে ফেলার যেই ভূমিকা দেখা যাচ্ছে তা না করে বরং এই বিপদ থেকে বাঁচতে বেশি বেশি দোয়ার আয়োজন করা এবং আল্লাহ তায়ালার কাছে এই বিপদ থেকে মুক্তি কামনা করা উচিত সকলের।

করোনার প্রাদুর্ভাবে মক্কায় ওমরা বন্ধ হয়ে যাওয়া বিষয় তিনি বলেন, এ বিষয়ে আসলে কঠোর কোনো প্রতিক্রিয়া এই মুহূর্তে আমি দেখাতে চাচ্ছি না কারণ যেহেতু ১১৭ টি দেশে করণে ছড়িয়ে পড়েছে এবং এটি একটি মহামারী আকার ধারণ করেছে তাই সৌদি সরকার যদি সে বিষয়ে সতর্কতামূলক কোন ভূমিকা নিয়ে থাকে সে বিষয়ে তারাই ভালো বুঝবেন। আমরা অবশ্যই আমাদের স্থান থেকে সতর্ক থাকতে হবে এবং করোনা বিষয়ে আতঙ্ক না ছড়িয়ে সবাইকে সচেতন করতে হবে।

ভিন্নধর্মী আয়োজন হৃদ্যতার সংলাপে উপস্থিত ছিলেন ধানের বিশিষ্ট আলেম মাওলানা নুরুল করীম, প্রবাসী ব্যবসায়ী মাওলানা মীর আহমেদ মিরু, তরুণ আলেম মুফতী আবদুর রহমান গিলমান, আবদুর রহমান ফরহাদ, দৈনিক ইনকিলাব জেলা সংবাদদাতা ওমর ফারুক, দৈনিক অজেয় বাংলা সম্পাদক শাহজালাল, ফেনী সমাচার সম্পাদক মুহিব্বুল্লাহ ফরহাদ।

আরও উপস্থিত ছিলেন, মুফতী সালাহউদ্দীন আইয়ুবী, মুহিব্বুল্লাহ বিন আব্দুস সবুর, তারেক সিদ্দীকি, শিল্পী রায়হান ফারুক, আবু সালেহ শাহীন, হাসান বিন মোমিন, মুফতী আবদুল কাইয়ুম সোহাইল, জাহিদুল ইসলামসহ প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ।

প্রসঙ্গত : ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে করোনা ভাইরাসের একটি প্রজাতির সংক্রামণ দেখা দেয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ভাইরাসটিকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ‘২০১৯-এনসিওভি’ নামকরণ করে। ২০২০ সালের ১৩ মার্চ পর্যন্ত চীনের সাথে সাথে ১২১টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে সংক্রমণের খবর পাওয়া যায় । এমনকি বাংলাদেশেও এ রোগের সংক্রামনের সংবাদ পাওয়া গেছে। যাতে ৪,৯৯০ জনের বেশি মানুষ মৃত্যুবরণ করেন। নিশ্চিতভাবে বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলে আরো ১,৩৫,১৬৬ জন রোগী এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এবং ৭০,৩৯৫ জনের বেশি লোক চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হয়ে ওঠেছে বলে জানা গেছে।

ভিডিও দেখুন :

মন্তব্য করুন