করোনা রোধে অসতর্ক জবি প্রশাসন, ঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা

প্রকাশিত: ১২:৪৪ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৪, ২০২০

ফয়সাল আরেফিন, জবি সংবাদদাতা: বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাসের মহামারীর মধ্যে বাংলাদেশও ধরা পরেছে এই ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী। করোনা মোকাবেলায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) থেকে নির্দেশনা জারি করলেও কোনো পদক্ষেপই নিতে দেখা যাচ্ছে না জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) প্রশাসনকে।

করোনা ভাইরাসের কারণে এখনই দেশের কোনো স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম সাময়িক স্থগিতের প্রয়োজন না থাকায়, এই ভাইরাস মোকাবিলায় বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে মাউশি। গত মঙ্গলবার (১০ মার্চ) মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টদের সচেতন করতে এই নির্দেশনা দেন।

উক্ত নির্দেশনায় করোনা প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতার প্রথমেই ঘন ঘন সাবান ও পানি দিয়ে অন্তত ২০ সেকেন্ড হাত ধোয়ার কড়া নির্দেশনা দেয়া হলেও সে সুযোগ আপাতত পাচ্ছেনা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৬ টি বিভাগ ও ইন্সটিটিউটে সরেজমিনে দেখা যায় হাতেগোনা কয়েকটি বিভাগের ওয়াশরুমে সাবান থাকলেও নেই স্যানিটাইজার বা হ্যান্ডওয়াশের ব্যবস্থা। এরমধ্যে ৩২ টি ডিপার্টমেন্টে নেই পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য অতিব প্রয়োজনীয় টিস্যু পেপার বা সাবান।

গত সোমবার স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জনসমাগম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়ে বলেন, খেলা, ধর্মীয় অনুষ্ঠানসহ সব ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠান সীমিত করতে হবে। এছাড়া স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, আফিস, আদালতসহ সর্বক্ষেত্রে স্ব স্ব উদ্যোগে সচেতনতা বাড়াতে হবে। সাবান ও হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে হাত ধুতে হবে। স্কুল-কলেজ বন্ধ করার মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত হ্যান্ডওয়াশের ব্যবস্থা করতে হবে।

কিন্তু দেশের স্বনামধন্য এই বিদ্যাপীঠের ওয়াশরুমের এই বেহাল দশা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। মাত্র সাড়ে ৭ একর আয়তনের এই বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারী মিলিয়ে প্রায় ২২ হাজার মানুষের পদচারণা হয়। এর মধ্যে ঢাকার বাইরে মানিকগঞ্জ, নরসিংদী, কুমিল্লা ও নারায়নগঞ্জে ছাত্র পরিবহনের দৈনন্দিন ব্যবস্থা থাকায় প্রতিদিনই এই বিদ্যাপীঠে উক্ত জেলার ছাত্র ও পরিবহকর্মীর জমায়েত হচ্ছে। যা একইসাথে নিয়মিত ছাত্রদের জন্য উচ্চ ঝুঁকির সৃষ্টি করছে অন্যদিকে রাজধানীর পুরান ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার মানুষদের কপালে ফেলছে চিন্তার ভাঁজ।

এর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিবুল হুদা রনি বলেন, CoVID-19 রোগে আমরা সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে আছি। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় কোনো বিভাগেই এখন অবধি কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত হ্যান্ডওয়াশের ব্যবস্থার নির্দেশনা সরকার কতৃক দেয়া হলেও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে এর বাস্তবায়ন নেই।

করোনা প্রতিরোধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চাইলে রেজিস্ট্রার ড. ওহিদুজ্জামান বলেন, এ বিষয়ে সরকারি কোনো নির্দেশনা হাতে এসে পৌছায়নি। আপাতত করোনা রোধে আমাদের কোনো পরিকল্পনা নেই।

উল্লেখ্য, গত রবিবার দেশে ০৩ (তিন) জন করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির সন্ধান পায় আইইডিসিআর। মূলত এর পরই নড়েচড়ে বসে সরকার। কোনো কোনো মহল থেকে দাবী ওঠে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করার। তবে এ দাবিকে অযৌক্তিক ঘোষণা করে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ে করোনা রোধে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

/এসএস

মন্তব্য করুন