রঙিণ শহরের মলিন পরীদের গল্প

প্রকাশিত: ১০:২৯ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৩, ২০২০

আমাতুল্লাহ খাদিজা
মুক্তগদ্য

শহরের পরিবেশটা অনেক সুন্দর ছিলো। বৃষ্টির পর কালো বাদল ঠান্ডা হাওয়া পরিবেশকে আরো সুন্দর করে তুলেছে। পুরোদিন কাজ করার পর আল্লাহ আল্লাহ করে ছুটির সময় হয়ে গেলো, আজকে….

আজ ইচ্ছে হয়েছে রেসকোর্স গিয়ে কিছু সময় হাটাঁচলা করবো, দেখব প্রকৃতি কত সুন্দর। পাখিদের সাথে গাইবো গান, ঘাসদের সাথে করবো অভিমান, বলবো অভিমানের সুরে মাত্র কতদিন আমি আসি না এতেই হারিয়ে ফেললে তোমার রূপ? জানেন ওরা কেন জানি বার বার হারিয়ে ফেলে ওদের জৌলুস, বার বার খুঁজেও পাই না আমার পুরনো নিস্তব্দতার সাথিগুলোকে। কেন জানি ব্যাকুল হয়ে উঠছিল আমার মন। কখন আমি যাব সেখানে গাইবো পাখিদের সুরে সুরে সুর মিলিয়ে গান।

পছন্দনীয় গান হেডফোনে লাগিয়ে চলতে শুরু করলাম নীরব বন্ধুর কাছে। এতোক্ষণ কল্পনার দেশে মগ্ন ছিলাম। গাড়ি সিগনাল পেয়ে থামালাম। আশে পাশে গাড়ি দেখতে লাগলাম, এবার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করলাম। আমি তখনো কল্পনায় ছিলাম। কেউ এসে জোরে গাড়ির আয়নাতে আঘাত করতে লাগলো।

হঠাৎ এই হৈ চৈ অবস্থা দেখে প্রচন্ড রাগান্বিত হলাম, কিন্তু বাহিরে দেখে আমার রাগ থেমে গেলো। ভাষার ধরণ পরিবর্তন হয়ে গেলো এবং আওয়াজ নিচু হয়ে গেলো। খুব সুন্দর একটি বাচ্চা আমার দিকে হাত প্রসারিত করে দাড়িয়েছিলো। অপরিষ্কার কাপড় এবং মাটি ধুলা বালি মিশ্রিত চুল তার মায়াবী চেহাড়ারাকে আবৃত করতে পারেনি।

বাচ্চাটির বয়স বড়জোর ৬ বছর হবে, কিন্তু দরিদ্রতার কারণে তার সঠিক বয়স থেকে অনেক কম দেখা যাচ্ছিলো। আমি একনজর দেখার পর চারপাশটা দেখলাম। আমি অনুভব করলাম ঐ বাচ্চা একা নয়, ওখানে ওর মতো আরো অনেক বাচ্চা আছে এক-দুজন মহিলা এবং কিছু পুরুষ আছে। যারা কোনো না কোনো বাহানা নিয়ে ভিক্ষা করতে থাকে।

কেউ কালারিং বক্স, ফুল বিক্রি করতে থাকে আবার কেউ গাড়ির আয়না পরিষ্কার করতে থাকে, কেউ মাথার ক্লিপ আবার কেউ কলম বিক্রি করার বাহানায় ভিক্ষা করায় লিপ্ত ছিলো। আমার এই ধারণা করতে বিন্দু পরিমাণ সময় লাগেনি; এই পুরো খান্দান এখানে আছে। আমি এখন ধারণা করতেই লাগলাম আর আমার পিছনের ঘাড়ি হর্ণ বাজাতে লাগলো। হঠাৎ সিগনার পড়ে গেলো।

যথারীতি আমি রেসকোর্সের পরিবেশের মজা আনন্দ উপলব্ধি নেওয়ার জন্য পৌছলাম, কিন্তু আমার মাথায় ঐ সিগনাল এর গল্পটা ঘুর ঘুর করতে লাগলো। ইচ্ছে করেও ঐ ঘটনা থেকে কল্পনাকে সরাতে পারছিলাম না। এমন কেন? কখন থেকে? এমনিভাবে কতদিন পর্যন্ত? ও এবং ওর মতো শিশুদের কি কোনো ভবিষ্যত নেই, তাদের জান এবং ইজ্জত! রাস্তার মধ্যে কি কোনো নিরাপত্তা আছে? এমন অনেকগুলো প্রশ্ন আমার মাথায় উঠতে লাগলো।

মাহিন মুহসিন/পাবলিকভয়েস

মন্তব্য করুন