শিশুশিল্পীর কন্ঠে আধ্বাত্মিক গজল এই প্রথমবার

প্রকাশিত: ১১:০৮ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১২, ২০২০

শিশুশিল্পীরা সাধারণত হামদ, নাত, মরমী, শিশু শিক্ষামূলক বা প্রিয় মা বাবাকে নিয়ে লেখা সংগীত গেয়ে থাকে। আধ্বাত্মিক বা এস্কের গজল সাধারণত একধরণের উপদেশমূলক এবং দীর্ঘ সময়কালীন সাধনা চর্চার ইঙ্গিত দেয় যা ব্যক্তি বয়সের সাথে সম্পর্ক রাখে।

এজন্য সাধারণন শিশুশিল্পীদের কন্ঠে ইসলামী সংগীতের এই শাখায় কোনো গান শোনা যায়নি। সেই প্রথা ভেঙে স্বপ্নসিঁড়ি সাংস্কৃতিক ফোরামের জনপ্রিয় শিশুশিল্পী হাসসান আরিব।

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি স্বপ্নসিঁড়ি’র অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেল Shopnoshiri-এ এস্কের গজল শিরোনামে গানটির ভিডিও আপলোড করা হয়। হাস্সান আরিবের কন্ঠে এই সংগীতটির মাধ্যমে প্রথমবার কোনো শিশুশিল্পীর কণ্ঠে আধ্বাত্মিক সংগীত এলো।

সৈয়দ মোশাররফ হোসেন এর কথায় সাজানো গানটিতে সংগীত পরিচালনা করেছেন স্বপ্নসিঁড়ি’র প্রতিষ্ঠিতা পরিচালক হুমায়ুন কবীর শাবীব।

এ ব্যাপারে হুমায়ুন কবীর শাবীব বলেন, ‘বাচ্চাদের দিয়ে এ ধরণে গান আমরা সাধারণত করি না। কেমন যেন একটা সংকোচ করি আমরা প্রায় সবাই। এই সংকোচটা ভাঙতে চেয়ছিলাম আমি। দেখি না কেমন হয়। আলহামদুলিল্লাহ, শ্রোতা-অনুরাগীদের থেকে বেশ ভালো রেসপন্স পেয়েছি। আর হাস্সান তো চমৎকার গায়। ওর গলায় আলাদা একটা মায়াবী আর্ট আছে যা শ্রোতদের মুগ্ধতায় মাতিয়ে রাখে। সেইদিক থেকে গানটি ওর গলায় ভিষণ আবেগজড়ানো মায়া তৈরি করতে পেরেছে’।

ভবিষ্যতে এই ধারাটা অব্যহত রাখার চেষ্টার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আধ্বাত্মিক গানের মধ্যে আমরা একটা পার্থক্য বাছাই করে যেগুলো কিছুটা উপদেশমূলক না হয়ে বর্ণনামূলক হবে এমন কিছু গান আমরা বাচ্চাদের দিয়ে করাবো। সামনে এরকম কিছু কাজ আমরা শ্রোতাদের উপহার দিবো ইনশাআল্লাহ’।

হাসসানের গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রাম। সেখান থেকেই তাকে ‍তুলে এনেছেন ইসলামী সংগীতের অন্যতম সেরা সুরকার ও শিল্পী হুমায়ুন কবীর শাবীব। ২০১৮ সালে ‘জিকির’ সংগীতের মাধ্যমে ইসলামী সংগীতে হাসসান আরিবের আর্বিভাব হয়। ওই সময় থেকে এখন পর্যন্ত ইউটিউব চ্যানেল ‘টিউন হাট’ (Tune Hut) থেকেই গানটি শুনেছেন ৫৫ লাখ ৪৪ হাজারেরও বেশি মানুষ। এরপর একে একে তার কন্ঠে আসে ‘ও আল্লাহ’ ‘সোনার মদিনা’ ‘মা তোমাকে ভোলা যায় না’ শিরোনামে চমৎকার সব গজল। যার সবগুলোই ব্যাপক শ্রোতা ও জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

/এসএস

মন্তব্য করুন