৩৭ জন শিক্ষার্থী পড়াতে ১৯ জন শিক্ষক, মাসে বেতন নেন ৩ লক্ষ টাকা

প্রকাশিত: ১০:০৮ অপরাহ্ণ, মার্চ ১১, ২০২০

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার জয়হার দাখিল মাদ্রাসায় ১৯ জন শিক্ষক-কর্মচারীরা প্রতি মাসে সরকারি কোষাগার থেকে বেতন বাবদ প্রায় ৩ লাখ টাকা পেলেও শিক্ষার্থী পড়ান ৩৭ জন।

দীর্ঘদিন যাবত এমন শিক্ষার্থী সংকটেই চলে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকরাও আসা-যাওয়া করে নিজের সময় মত সরকারের বেধে দেয়া সময়ে নয়। এসব দেখভাল করার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা গ্রামীণ জনপদের এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত যায় না বলেও জানায় অভিভাবকসহ এলাকাবাসী।

দেখা যায়, মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা লাইনে দাঁড়িয়ে জাতীয় সংগীত গাইছে। এ সময় প্রতিষ্ঠানের ১৯ জন শিক্ষকের মধ্যে ৫ জন উপস্থিত থাকলেও সুপারসহ ১৪ জনই অনুপস্থিত এবং লাইনে দাঁড়িয়ে জাতীয় সংগীত গাইছে ৩৭ জন শিক্ষার্থী।

প্রতিষ্ঠানের হাজিরা খাতায় অধিক শিক্ষার্থীর নাম থাকলেও শ্রেণি কক্ষে দেখা যায় উল্টো চিত্র। ইবতেদায়ি শাখার প্রথম শ্রেণিতে সোহান ও মোস্তাকিন নামের ২ জন শিশু শিক্ষার্থীকে দেখা গেলেও তাদের হাতে নেই কোনো পাঠ্যবই বা খাতা-কলম। তৃতীয় শ্রেণিতে ২ জন, পঞ্চম ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে ৪ জন, সপ্তম শ্রেণিতে ৭ জন, অষ্টম শ্রেণিতে ৫ জন, নবম শ্রেণিতে ৯ জন ও ১০ শ্রেণিতে ৫ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকলেও দ্বিতীয় ও চতুর্থ শ্রেণিতে কোনো শিক্ষার্থীকে পাওয়া যায়নি।

অভিভাবক মিজানুর রহমানসহ একাধিক এলাকাবাসী বলেন, মাদ্রাসার অনেক অনিয়ম আছে এসব বলে লাভ কি? তারা আরও বলেন, অনিয়ম দুর্নীতির কারণে সুপারের বিরুদ্ধে আদালতে মামলাও হয়েছে। প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী কম, সময় মতো শিক্ষক না আসা এসব অনিয়ম জানতে সুপারের মোবাইল ফোনে একাধিবার ফোন দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি সদস্য নিয়ামুল ইসলাম মতিন সাংবাদিকদের বলেন, শিক্ষকরা কেন সময়মতো মাদ্রাসায় আসে না এ বিষয়ে আপনারা লেখেন। অপর দিকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার টিএম আবদুল হামিদ বলেন, আগের ইউএনওর সঙ্গে ওই মাদ্রাসায় গিয়েছিলাম এ বছর এখনো যাওয়া হয়নি।

ওয়াইপি/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন