ইশা’র কমিটি গঠন, ঢাবিতে ধর্মীয় রাজনীতি চর্চার মুক্ত প্লাটফর্ম চান মুফতী ফয়জুল করীম

প্রকাশিত: ৮:৩৬ অপরাহ্ণ, মার্চ ১১, ২০২০
ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বার্ষিক সম্মেলন-২০২০-এ বক্তব্য রাখছেন মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মীয় রাজনীতি চর্চার মুক্ত প্লাটফরম তৈরি করতে হবে মন্তব্য করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেন, মুসলমানদের জন্য প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী রাজনীতি চর্চায় কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা বরদাস্ত করা হবে না।

তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “মুসলমানদের অধিকার আদায়ের জন্য নবাব স্যার সলিমুল্লাহর নিজস্ব জমিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। অথচ সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই মুসলমানরা তাদের স্বকীয়তা ও অধিকার নিয়ে চলতে পারছে না। তদুপরি বঞ্চনার শিকার হচ্ছে।

“সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ইসলাম ও বাঙালিয়ানা-ই কার্যকর পন্থা” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ ১১ মার্চ‘২০ বুধবার, বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্ট এসোসিয়েশন মিলনায়তনে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বার্ষিক সম্মেলন-২০২০-এ তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, ঢাবি ক্যাম্পাসে সাম্য, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। রাজনৈতিক সহাবস্থান নিশ্চিত করতে ঢাবি প্রশাসন সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। ক্যাম্পাসে ইসলাম পন্থীদের রাজনীতি চর্চায় প্রশাসন প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করেই যাচ্ছে। মুসলমানদের জন্য প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী রাজনীতি চর্চায় যেকোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা ও নাশকতাকে বরদাস্ত করা হবে না ইনশাআল্লাহ।

সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, মুসলমান কোন বাঁধা ও প্রতিবন্ধকতা কে পরোয়া করে না। যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতে আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস নিয়ে সীসাঢালা প্রাচীরের ন্যায় এগিয়ে যেতে পারলে বিজয় অবশ্যম্ভাবী।

সম্মেলনে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ২০২০-২১ সেশনের জন্য মাহমুদুল হাসানকে সভাপতি, ইমামুল হককে সহ-সভাপতি ও জালালুদ্দিন মুহাম্মদ খালিদকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষনা করে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।

বা থেকে : সভাপতি মাহমুদুল হাসান, সহ-সভাপতি ইমামুল হককে ও সাধারণ সম্পাদক জালালুদ্দিন মুহাম্মদ খালিদ।

সম্মেলনে প্রধান বক্তার বক্তব্যে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি এম. হাছিবুল ইসলাম বলেন, ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন ক্যাম্পাসে সুস্থ ধারার আদর্শিক ছাত্র রাজনীতি চর্চা ও ছাত্র রাজনীতির নামে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অপরাজনীতি, অন্যায়, অবিচার, গেস্ট রুম, গণরুম, র‌্যাগিং, হত্যাসহ সকল প্রকার জুলুম নির্যাতনের বিরুদ্ধে রাজপথে সংগ্রাম করে যাচ্ছে।

২৮ বছর পর অনুষ্ঠিত কলঙ্কিত ডাকসু নির্বাচনের এক বছর পূর্ণ হলো আজ। কিন্তু এখনো পর্যন্ত ঢাবি প্রশাসন আগামী ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেনি। ডাকসু নির্বাচন আয়োজনের কোন প্রস্তুতিও লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। কেন্দ্রীয় সভাপতি অবিলম্বে ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা এবং অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের জন্য ঢাবি কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

বিশেষ বক্তার বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় সম্পাদক এম এম শোয়াইব। তিনি বলেন, ঢাবি ক্যাম্পাস এখন পরিণত হয়েছে সন্ত্রাসী, ধর্ষক, হত্যাকারী প্রোডাকশন হাউজে। এর থেকে উত্তোরণের জন্য ইশা ছাত্র আন্দোলন আমাদের ধর্মীয় ও নৃতাত্ত্বিক পরিচয় ইসলাম ও বাঙালিয়ানা কে ধারণ করে প্রকৃত দেশপ্রেমিক হিসেবে আগামীর নেতৃত্ব তৈরী করছে।

আরও বক্তব্য রাখেন, ইশা ছাত্র আন্দোলন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি সাইফুর রহমান, ওমর ফারুক, আতায়ে রাব্বী প্রমূখ।

মন্তব্য করুন