আলেম সমাজকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে : মাহমুদুর রহমান

প্রকাশিত: ৫:৪৪ অপরাহ্ণ, মার্চ ৯, ২০২০
ছবি : পাবলিক ভয়েস ডেস্ক

আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়া দেশের আলেম সমাজকে ঐক্যবদ্ধ থাকার বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন দৈনিক আমার দেশ-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় এক ভিডিও বার্তায় তিনি এই আহ্বান জানান

বর্তমানে বাংলাদেশে গতানুগতিক কোন বিরোধী দল কোন বড় কর্মসূচি পালন করতে পারছে না এবং এটা তাদের ব্যর্থতা উল্লেখ করে মাহমুদুর রহমান বলেন এই শূন্যতা পূরণ করছে এদেশের আলেম সমাজ। তারা বিভিন্ন ইস্যুতে রাজপথে নেমে আসছেন এবং এবং তাদের সাথে সাধারণ জনগণ অংশ নিচ্ছে। তাই আলেম সমাজকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং হিন্দুত্ববাদী ভারতের বিরুদ্ধে জোড়ালো ভূমিকা রাখতে হবে।

তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে যে বাংলাদেশের যে প্রথাগত বিরোধী রাজনৈতিক দলসমূহ এর বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেনি এটা তাদের ব্যর্থতা। আজকে সেই ব্যর্থতা ঢাকতে এগিয়ে এসেছেন বাংলাদেশে আলেমসমাজ। তারা এখন বিক্ষোভ করছেন, রাস্তায় নামছেন এবং বিপুল সংখ্যায় মানুষ তাদের সাথে অংশ নিচ্ছেন সাথে সাথে তাদের সাথে অংশ নিচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বেশকিছু দেশপ্রেমীরা।

মাহমুদুর রহমান বলেন, এ অবস্থার মধ্যে আমি আলেম সমাজের প্রতি আহবান জানাবো আপনার ঐক্যবদ্ধ থাকবেন। আপনারা ঐক্যবদ্ধ যদি থাকতে পারেন তাহলেই আপনাদের এবারকার আন্দোলনের বিজয় লাভ করা সম্ভব হবে। আপনাদের মধ্যে অনেক অনৈক্য সৃষ্টি করবার নানারকম প্রচেষ্টা করা হবে কিন্তু আপনারা সে সমস্ত অনৈক্যের দিকগুলো থেকে এড়িয়ে চলবেন এটাই আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ।

আরও পড়ুন : ‘হিন্দুত্ববাদী ভারতের অঘোষিত উপনিবেশ বাংলাদেশ’ : মাহমুদুর রহমান

দীর্ঘদিন লোকচক্ষুর আড়ালে থাকা দৈনিক আমার দেশ-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান প্রায় দেড় বছর পর সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছেন।

ভিডিওর শুরুতে তিনি দেশের বর্তমান অবস্থা ও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সমালোচনা করে বলেন আপনাদের সাথে যোগাযোগের তো আর কোন উপায় নেই কারণ প্রতিদিন সকালে যে পত্রিকা দেশ-বিদেশের প্রকৃত সংবাদ এবং দেশপ্রেমিক বাংলাদেশীদের মনের কথাগুলো নিয়ে আপনাদের দোরগোড়ায় হাজির হতো সেই আমার দেশ আজ শেখ হাসিনার পুলিশের বুটের নিচে চাপা পড়ে আছে।

হেফাজতে ইসলামের আন্দোলন ব্যর্থ হয়নি দাবি করে মাহমুদুর রহমান বলেন, ২০১৩ সালের হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আন্দোলনকে উল্লেখ করে বলেন তিনি, এই প্রসঙ্গে আমি মনে করিয়ে দিতে চাই ২০১৩ সালের হেফাজতের আন্দোলনের কথা। আলেমদের সেই উত্তাল আন্দোলনের কথা। সেই বিপ্লবের কথা। যদিও তখন চূড়ান্ত বিজয় তারা ছিনিয়ে আনতে পারেনি কিন্তু সে বিপ্লবের কারণে শাহবাগের হিন্দুত্ববাদীরা ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। তারপরে সেই আন্দোলনে সফলতা এসেছিল কারণ তারা ঐক্যবদ্ধ ছিলেন।

হেফাজতের আন্দোলনে চূড়ান্ত বিজয় কেন আনা যায়নি তার অনেকগুলো কারণ আছে। শুধু এটুকু মনে রাখেন যে, সরকারের গনহত্যার কারণেই এই চূড়ান্ত বিজয় বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

প্রসঙ্গত : আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বাংলাদেশের একজন আলোচিত ব্যক্তিত্ব । বিভিন্ন সময় সরকারের কঠোর সমালোচনা করে তিনি আলোচিত ছিলেন। নির্ভীক লিখনি এবং প্রতিবাদী ভূমিকার কারণে অনেকের কাছেই তিনি জনপ্রিয়। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আন্দোলনের সময়ে মাহমুদুর রহমান জনপ্রিয়তার তুঙ্গে অবস্থান করেছিলেন। এরপর তাকে গ্রেফতার করা হলে হেফাজতের পক্ষ থেকে তার পক্ষে আন্দোলন করা হয়েছিল।

তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতাকর্মীদের করা প্রায় ৭০টিরও বেশি মামলা রয়েছে। ২০১৩ সালের ১১ই এপ্রিল মাহমুদুর রহমানকে ঢাকার কারওয়ান বাজারে দৈনিক আমার দেশ কার্যালয় থেকে আটক করেছিলো আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একজন বিচারপতির কথোপকথন পত্রিকায় ফাঁস করার অভিযোগ ওঠার পর মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে এবং রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে দু’টি মামলা ছিল বলে পুলিশ আটকের পর জানিয়েছিলো।

তবে এর আগে ২০১০ সালের জুন মাসেও আটক হয়েছিলেন তাকে। আদালত অবমাননার একটি মামলায় সে বছর ১৯শে অগাস্ট মাহমুদুর রহমানকে ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং ১ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ১ মাসের কারাদণ্ডাদেশ দেয় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। সবমিলিয়ে নয়মাস পর কারাগার থেকে ছাড়া পান তিনি।

এরপর ২০১৯ সালের ২২ জুলাই কুষ্টিয়ায় একটি মানহানি মামলায় জামিন নিতে গিয়ে ছাত্রলীগ কর্মীদের হামলার শিকার হন মাহমুদুর রহমান। হামলায় তাঁর মাথা ও মুখ জখম হয়েছে। এ ছাড়া তাঁকে বহনকারী গাড়িটি ভেঙে দেয় হামলাকারীরা। পরে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে আদালত চত্বর ছেড়ে চলে যান মাহমুদুর রহমান। এরপর থেকে মাহমুদুর রহমান কিছুটা লোকচক্ষুর আড়ালে চলে গেছেন। রাজনৈতিক কর্মসূচি অথবা বিএনপি’র কোন কর্মসূচিতে তেমন দেখা যায় না।

ভিডিও দেখুন :

মন্তব্য করুন