মাশরাফির শুরু-শেষে জিম্বাবুয়ে

প্রকাশিত: ৬:২৬ অপরাহ্ণ, মার্চ ৭, ২০২০
ছবি : পাবলিক ভয়েস ডেস্ক

মাশরাফির শুরু এবং শেষ, দুই লগনেই জড়িয়ে গেছে জিম্বাবুয়ের নাম। শুধু তাই নয় ক্যারিয়ারের উত্থান-পতনের পর পুনরুত্থানেও সেই জিম্বাবুয়েকেই প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছিলেন মাশরাফি।

২০০১ সালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মাশরাফির অভিষেক হয়।

কেবলমাত্র টেস্ট অভিষেকেই নয়, ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টিতেও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অভিষেক হয় মাশরাফির। ২০০১ সালের  ৮ নভেম্বর টেস্টের পর ২৩ নভেম্বর প্রথম ওয়ানডে অভিষেক ম্যাচেও চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে প্রতিপক্ষ ছিলো জিম্বাবুয়ে।

টেস্ট ও ওয়ানডে অভিষেকেই নিজের জাত চিনিয়ে দেন মাশরাফি বিন মর্তুজা ওরফে তখনকার লিটল বয় কৌশিক। অভিষেক টেস্টে  ১০৬ রানে ৪টি উইকেট নিয়ে শুরুটা রাঙিয়ে নেন মাশরাফি। অভিষেক ওয়ানডেতেও দিনটাকে ঝলমলে করেরাখেন নিজের পারফরমেন্স দিয়ে। ৮ ওভার ২ বলে ২৬ রান দিয়ে বাগিয়ে নেন ২টি ওডিআেই উইকেট।

২০০৬ সালের ২৮ নভেম্বর অভিষেক হয় টি-টোয়েন্টিতে। ওই ম্যাচটি ছিলো বাংলাদেশ দলেরও টি-টোয়েন্টি অভিষেক। আরো চমকদার খবর হলো জিম্বাবুয়েরও সেদিন দল হিসেবে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অভিষেক হয়।

অভিষেক টি-টোয়েন্টিতে দলীয় সর্বোচ্চ ৩৬ রান এবং ৪ ওভার বল করে ২৯ রান দিয়ে ১ উইকেট শিকার করে ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হয়েছিলেন মাশরাফি। বাংলাদেশ জিতেছিলো ৪৩ রানে। এরপর ৫৪ টি-টোয়েন্টি খেলা মাশরাফির ওই ৫৪ রানই ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের ইনিংস।

প্রথমবার ২০০৯ সালে যখন অধিনায়কত্ব (টেস্ট) পান, ছিটকে যান ইনজুরির কারণে। এরপর দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে ২০১৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হোম সিরিজে ফিরে পান অধিনায়কত্ব। বলা যায় অধিনায়ক হিসেবেও মাশরাফির অভিষেক হয় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। কেননা, ২০০৯ ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়কের দায়িত্ব পেয়ে মাঠে নামার পর ম্যাচ শেষ করতে পারেননি মাশরাফি।

ম্যাচের তৃতীয় দিনে ইনজুরিতে ছিটকে পড়েন মাঠের বাইরে। এবং সেটাই হয়ে ওঠে তার ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট ম্যাচ। এরপর থেকে টানা দীর্ঘদিন আসা-যাওয়ার মধ্যেই ছিলেন তিনি। ওই ম্যাচের মাঝপথেই অধিনায়ক নির্বাচিত হন সাকিব আল হাসান।

এবার বিদায়ের পালা। টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি থেকে বিদায় নিয়েছেন মাশরাফি। ২০১৬ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ দিয়েই বিদায় নেয়ার গুঞ্জন উঠেছিলো মাশরাফির। শেষতক পরের বছর শ্রীলঙ্কা পর্যন্ত গড়ায় তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ার। ওয়ানডে থেকেও যেকোনোদিন হয়তো অবসরের ঘোষণা আসবে।

তবে অধিনায়ক হিসেবে নিজের শেষ ওয়ানডে ম্যাচ খেলে ফেললেন মাশরাফি। সেই ঘোষণাটাও দিয়ে দিলেন গত বৃহস্পতিবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। এবারও প্রতিপক্ষ সেই জিম্বাবুয়ে।

আর অধিনায়ক হিসেবে নিজের শেষ ম্যাচটা স্মরণীয় হয়েই থাকবে মাশরাফির নামের পাশে। পুরো সিরিজেই জ্বলমলে বাংলাদেশকে দেখেছে বিশ্ব। টানা তিন ম্যাচে ৩০০ প্লাস রান করা বাংলাদেশকে এই প্রথম দেখেছে বিশ্ব। দলের জয়ে বোলার মাশরাফিরও ছিলো অবদান। ৬ ওভার বল করে ৪৭ রান দিয়ে নিয়েছেন জিম্বাবুয়ের প্রথম মূলবান উইকেটটি।

/এসএস

মন্তব্য করুন