খু্লে দেওয়া হয়েছে মসজিদুল হারাম ও মসজিদ আন-নববী

প্রকাশিত: ২:২৬ অপরাহ্ণ, মার্চ ৬, ২০২০

বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি এড়াতে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সম্মিলনস্থল পবিত্র মসজিদুল হারাম এবং মসজিদ আন-নববী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে সাময়িক বন্ধ করা হয়েছিল। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পর মসজিদ দুটি খুলে দেয়া হয়েছে।

শুক্রবার (৬ মার্চ) সৌদির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আল-এখবারিয়া এ দুই মসজিদ খুলে দেয়ার খবর জানায়। তবে হজ বা উমরাহ পালনকারীরা মসজিদ দু’টিতে এখনই ঢুকতে পারবেন কি-না, তা স্পষ্ট করেনি আল-এখবারিয়া।

এর আগে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ব্রিটিশ দৈনিক সানডে এক্সপ্রেস জানায়, করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে মক্কার ঐতিহাসিক মসজিদ আল-হারামে কাবা শরিফ চত্বরে প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কাবা শরিফ ধোঁয়া-মোছার কাজ চলছে।

চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৩৮৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চীনেই মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ৪২ জন। বিশ্বজুড়ে এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় লাখের কাছাকাছি।

ভাইরাসটি প্রতিরোধে সৌদি আরব ইতোমধ্যে ২৫টির মতো দেশের পর্যটক ও ওমরাহ পালনেচ্ছুদের আগমনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

চীন থেকে বিশ্বে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘই হচ্ছে প্রতিদিন। এরইমধ্যে করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কার ঐতিহাসিক মসজিদুল হারামে কাবা শরিফ চত্বরে প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিলো।

ব্রিটিশ দৈনিক সানডে এক্সপ্রেস বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইসলামি পণ্ডিত ডা. ইয়াসির কাধি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে এক বার্তায় লিখেছিলেন, সুবহান আল্লাহ, পবিত্র কাবা এখন জনমানবশূন্য। তাওয়াফ বন্ধ রয়েছে। করোনাভাইরাস আতঙ্কে কর্তৃপক্ষ হারাম শরিফ পরিষ্কার করছেন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে রক্ষা করুন।

সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বলছে, করোনাভাইরাস পর্যবেক্ষণ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে দেশি এবং বিদেশিদের জন্য ওমরাহ পালন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। প্রায় সারা বছর ধরেই ওমরাহ পালন করা হয়ে থাকে। কিন্তু পবিত্র হজ বছরে একবার পালন করেন বিশ্বের লাখ লাখ মুসলিম। প্রত্যেক বছরের জুলাইয়ের শেষের দিকে পবিত্র হজ শুরু হয়।

এর আগে সোমবার প্রথমবারের মতো সৌদিতে একজনের শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হয় সৌদি কর্তৃপক্ষ। পরে বুধবার আরও এক সৌদি নাগরিককে করোনা আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়।

মক্কা, মদিনা এবং হজ্ব বিষয়ে সৌদি বিশেষজ্ঞ ডা. স্বামী আনগায়ি বলেছেন, আমার জীবদ্দশায় দেখা এই নিষেধাজ্ঞাকে সবচেয়ে কঠোর মনে হচ্ছে। তবে ইসলামের এক হাজার ৪০০ বছরের ইতিহাসে এটি নজিরবিহীন নয়। তবে মুসলিম বিশ্বের প্রাণকেন্দ্রের সুরক্ষায় সৌদি কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তকে সাহসী এবং বুদ্ধিদ্বীপ্ত বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহানে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়ে। তখন থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩ হাজার ৩০৩ জনের প্রাণ কেড়েছে করোনা। এছাড়া এই ভাইরাস বিশ্বের ৮০টিরও বেশি দেশ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে আক্রান্ত হয়েছেন ৯৬ হাজার ৩৩৬ জন। তবে চীনের বাইরে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ইরান এবং ইউরোপের দেশ ইতালিতে। এ দুই দেশেই বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১০৭ জন করে মানুষের প্রাণ গেছে।

মন্তব্য করুন