বাড়াবাড়ি করা যাবে না, বিএনপির বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে: ওবায়দুল কাদের

প্রকাশিত: ৯:৩৯ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩, ২০২০

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকায় আগমনের বিরোধিতার নামে বিএনপি মুজিববর্ষের বিরোধিতা করছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, আজকে তারা (বিএনপি) নরেন্দ্র মোদির বিরোধিতার নামে মুজিববর্ষের বিরোধিতায় অবতীর্ণ হয়েছে। এটা আমরা মনে করি এবং এটাই আজকে জাতির বিশ্বাস। আসলে নরেন্দ্র মোদির আগমন নয়, মুজিববর্ষ হচ্ছে তাদের টার্গেট।

মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত যৌথসভার সূচনা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মুজিববর্ষ উপলক্ষে বছরব্যাপী অনুষ্ঠানের সূচনা আগামী ১৭ মার্চ জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে শুরু হবে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, মুজিববর্ষ উদযাপনের শুভক্ষণ ঘনিয়ে আসছে। এই দিনটিকে সামনে রেখে কিছু সাম্প্রদায়িক অপশক্তির অপতৎপরতা শুরু হয়েছে। মুজিববর্ষ সামনে রেখে সারা বিশ্বে ও বাংলাদেশে যে বর্ণাঢ্য আয়োজন, যা জনগণের মাঝে ঐক্যবদ্ধ আয়োজনের আবহ বিরাজ করছে-এটা বিএনপি ও তার দোসরদের সহ্য হচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রস্তুত ও সতর্ক থাকতে হবে। মুজিববর্ষ উদযাপনে সারা বাংলাদেশে জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে এই অশুভ মহল ও সাম্প্রদায়িক শক্তি যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পরে। যাতে আমাদের এই আয়োজনকে নস্যাৎ করতে না পারে। সেজন্য চক্রান্ত ও অপতৎপরতাকে প্রতিহত ও প্রতিরোধ করতে হবে। এজন্য দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান করছি।

সেতুমন্ত্রী বলেন, নরেন্দ্র মোদি কোনো বিশেষ ব্যক্তি নন। তিনি আমাদের একাত্তরের প্রধান মিত্র ভারতের প্রধানমন্ত্রী। তিনি ভারতীয় জনগণের প্রতিনিধি হয়েই আসছেন। দিল্লির সাম্প্রতিকালের বিচ্ছিন্ন ও বিক্ষিপ্ত দুই-একটা ঘটনা মোদির ঢাকায় আগমনের প্রেক্ষাপট নয়। আমাদের ১৭ মার্চের প্রেক্ষাপট বিশাল। এটা দীর্ঘ এক প্রেক্ষাপট। এর ঐতিহ্য ও ইতিহাস অনেক পুরানো।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ভারত আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী। আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তের সঙ্গে ভারতীয় সৈন্যদের রক্ত মিশে গিয়েছিল। রক্তের বন্ধনে আজকে এই সম্পর্ক আবদ্ধ। কাজেই যখন আমরা মুজিববর্ষ উদযাপন করব, তখন তা ভারতকে বাদ দিয়ে উদযাপন অর্থপূর্ণ হতে পারে না। ১৭ মার্চ শুধু নরেন্দ্র মোদি নন, তিনি ছাড়াও ভারত ও পৃথিবীর অন্যান্য দেশ থেকে বিশিষ্ট ব্যক্তিরা আসবেন। কাজেই একটি মহল ও বিএনপি তাদের উসকানি দিচ্ছে বিশৃঙ্খলা তৈরি করার জন্য। নরেন্দ্র মোদির আগমনকে কেন্দ্র করে তারা কীসের অশুভ লক্ষণ দেখতে পারছে সেটা আমরা জানি না।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তাকে সাম্প্রদায়িক অপশক্তি ভয় পায়।

তারা মনে করছে, মুজিববর্ষ উদযাপনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা বাড়তেই থাকবে। এটাই তাদের ঈর্ষা। সে কারণে তারা ষড়যন্ত্র করছে। কাজেই আপনাদের প্রস্তুত ও তৈরি থাকতে হবে। নেত্রী আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন আমাদেরকে মুজিববর্ষ উদযাপন করতে হবে বিনয়ের সঙ্গে। আদর্শ ও চেতনার অনুভূতি কাজ করবে। এখানে কোনো বাড়াবাড়ি কেউ করতে পারবেন না। মুজিববর্ষ উদযাপনের নামে কেউ চাঁদাবাজির দোকান খুলতে না পারে সেটাও সবার খেয়াল রাখতে হবে।

তিনি আরো বলেন, আমরা যেন বাড়াবাড়ি করে বঙ্গবন্ধুকে ছোট না করি, খাটো না করি। খুব বেশি বঙ্গবন্ধুপ্রেমী হতে গিয়ে, তার বিশাল ভাবমূর্তিতে আচড় না কাটি। এটা আমাদের নেত্রী বারবার মনে করিয়ে দিয়েছেন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম ও আফজাল হোসেন, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র আতিকুল ইসলাম, দক্ষিণের নবনির্বাচিত মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস প্রমুখ।

পরে আওয়ামী লীগ সম্পাদকমণ্ডলীর সঙ্গে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ, সহযোগী সংগঠন, ঢাকার নবনির্বাচিত মেয়র এবং ঢাকা মহানগরের অন্তর্গত দলীয় সংসদ সদস্যদের যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ওবায়দুল কাদের। বৈঠকে মুজিববর্ষের কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

/এসএস

মন্তব্য করুন