দুর্বৃত্তের আনাগোনায় লজ্জা লাগে রাজনীতিবিদ পরিচয় দিতে: মোহাম্মদ নাসিম

প্রকাশিত: ১০:২১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২০

ফয়সাল আরেফিন, জবি সংবাদদাতা: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আমরা এতো কিছু অর্জন করি, কিন্তু দুর্বৃত্তদের কিছু ঘটনার জন্য সকল অর্জন নষ্ট হচ্ছে। দলের দুর্বৃত্তদের কারণে রাজনীতির প্রতি মানুষের অশ্রদ্ধা তৈরি হয়েছে। মানুষের কাছে পরিচয় দিতে লজ্জা লাগে।

বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারী) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে (২য় তলা) বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরাম – এর উদ্যোগে ‘সংস্কৃতিক জাগরণ ও প্রগতিশীল সমাজ বিনির্মাণে নেতৃত্বের ভূমিকা এবং আমাদের প্রধানমন্ত্রী’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

তিনি সম্রাট ও পাপিয়ার কর্মকান্ডের কথা উল্লেখ্য করে বলেন, আমরা যখন এরশাদ এবং খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করেছি, পুলিশের হামলার শিকার হয়েছি তখন সম্রাটরা কোথায় ছিল? এদেরতো কোন দিন দেখিনি! বর্তমানে সবাই আওয়ামী লীগের কর্মী হয়ে গেছে। তিনি সম্রাট ও পাপিয়ার মদদদাতাদের হুশিয়ারি দিয়ে জানান, সম্রাটদের কে লালন করেছে, কার আশ্রয়ে এরা এই অপকর্ম করেছে তাদের বিচারের আওতায় এনে আইনের কাছে সমর্পন করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ একটি উদার সাংস্কৃতির দেশ। বঙ্গবন্ধুর পরে শেখ হাসিনার সেই সাংস্কৃতির নেতৃত্ব দিচ্ছে । গুলশানের হলি আর্টিজেনে জঙ্গি ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেন, সেই রাত আমরা ঘুমাতে পারিনি। অনেক ইউরোগ আমেরিকার মত দেশ আছে যারা জঙ্গিদের দ্বারা হামলার শিকার হচ্ছে। জীবন বাজি রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিংহের মত নেতৃত্ব দিয়ে শান্তিময় ও জঙ্গিমুক্ত বাংলাদেশ গড়েছে।

সেমিনারের সভাপতির বক্তব্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, এই বাংলাদেশ সংস্কৃতির শত্রু ছিল এবং আছে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ এবং ভাষা আন্দোলনের সময় পক্ষে ও বিপক্ষে বাঙালিরা ছিল। পহেলা বৈশাখের আনন্দ র‍্যালি করারর পক্ষ-বিপক্ষ ছিল। আসলে বিপক্ষরা আটকা পড়া পাকিস্তানি। আটকা পড়া পাকিস্তানিরা দু’ধরনের আছে। এক পক্ষ হচ্ছে জেনুইন আরেক পক্ষ হচ্ছে পাকিস্তানি চিন্তাধারা নিয়ে ঘুড়ে বেড়ায়। আমাদের সমস্যা হচ্ছে ঐ আটকা পড়া পাকিস্তানি চিন্তাধারা নিয়ে ঘুরে বেড়া পাকিস্তাানিরা।

তিনি আরো বলেন, ব্যাব এবং পুলিশবাহিনী দিয়ে আটকা পড়া পাকিস্তানিদের ঠেকানো যাবে না। সংস্কৃতির বিবর্তন ছাড়া সম্ভব হবেনা। তাদের ঠেকানোর জন্য স্কুল-কলেজে বাঙালি সাংস্কৃতির ব্যাপক প্রসারের করতে হবে।

সেমিনারে বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরামের সদস্য সচিব মিল্টন বিশ্বাস বলেন, প্রধানমন্ত্রী জঙ্গিদের দমন করিয়ে সাংস্কৃতির জাগরণ ঘটিয়েছে। বঙ্গবন্ধু আগে বাঙ্গালি তার তিনি তার ধর্মীয় পরিচয় দিতেন। তিনি সংস্কৃতি অঙ্গনের কর্মীদের বিভিন্নভাবে সুসম্পর্ক রাখতেন। বর্তমানে তার সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা বাঙালিদের কাছে সংস্কৃতিকে উপস্থাপন করছেন। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংস্কৃতির প্রসার ঘটিয়েছেন। তিনি সংস্কৃতি অঙ্গনের কর্মীদের বিভিন্নভাবে সাহায্য ও সহযোগীতা করে যাচ্ছেন।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. রশিদ আসকারী, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, ঢাকা এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী , সাবেক আইজিপি ও কলামিস্ট একে শহীদুল্লাহ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন , সাংবাদিক ও কলামিস্ট ফোরামের সদস্য-সচিব-২ সৌরভ জাহাঙ্গীর, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মোস্তফা কামাল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শামীমা বেগম বক্তব্য প্রদান করেন।

সেমিনারে সাংস্কৃতিক জাগরণ ও প্রগতিশীল সমাজ বিনির্মাণে নেতৃত্বের ভূমিকা এবং আমাদের প্রধানমন্ত্রী’’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমেদ । এসময় প্রগতিশীল কলামিস্ট এবং তরুণ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

/এসএস

মন্তব্য করুন