বিক্ষোভ অব্যাহত, মৃত্যুপুরী দিল্লিতে নিহত বেড়ে ২০

প্রকাশিত: ৪:০৮ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২০
দিল্লির রাস্তায় চলছে ফ্ল্যাগমার্চ

মৃত্যুমিছিল আটকানো যাচ্ছে না ভারতের রাজধানী দিল্লিতে। আজ বুধবার আরও ৫ জনের মৃত্যুর খবর এসেছে সেখান থেকে। চার দিনের মাথায় রাজ্যটিতে মৃত্যু হল ২০ জনের। আহতের সংখ্যাও দুইশ’র কাছাকাছি। খবর ভারতীয় গণমাধ্যমের।

দেশটির বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে বিক্ষোভে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি ও  বিতর্কিত এ আইন সমর্থনকারীরা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা করলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পুলিশও গুলি ছুড়ে এলোপাতাড়ি। পরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক আকারে।

বেশীরভাগ ঘটনায় মুসলিমদের বাড়িঘর ও দোকানপাটে হামলার খবর পাওয়া গেছে উল্লেখ্য করে বিবিসি জানায়, গত এক দশকের মধ্যে চলমান ঘটনাবলীর মধ্যে ভারতে এটি সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতায় রুপ নিয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়াতে সয়লাব ছবিতে দেখা গেছে, অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি লাঠি-রড নিয়ে মুখোমুখি অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে সংঘর্ষকারীরা। বিবিসি নিউজ অনলাইনের খবরে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে মুসলমান ও হিন্দু – এই দুই ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষই আছেন। এছাড়া আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও অন্তত ১৯০ জন।

মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত দিল্লিতে মৃতের সংখ্যা ছিল ১৩। এ দিন সকালে গুরুতর আহত অবস্থায় আরও চার জনকে গুরু তেগবাহাদুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে, তাদের মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা। পরে হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের এমডি সুনীলকুমার গৌতম। বেলা বাড়লে আরও দু’জনের মৃত্যু হয়।

মৃত্যুসংখ্যা লাফিয়ে বাড়ার পাশাপাশি, এখনও দিল্লিতে বিক্ষোভ অব্যহত রয়েছে। এ দিন ভোর সাড়ে ৪টে থেকে নাগাদ নতুন করে উত্তর-পূর্বের ব্রহ্মপুরী-মুস্তাফাবাদ এলাকায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এসময় গোকুলপুরীতে একটি পুরনো জিনিসপত্রের দোকানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এ দিন জোহরিপুরায় ফ্ল্যাগমার্চ করে পুলিশ। গোকুলপুরীর ভাগীরথী বিহার এলাকায় ফ্ল্যাগমার্চ করে সিআরপিএফ, এসএসবি, সিআইএসএফ এবং পুলিশের যৌথ বাহিনী। এছাড়া সীলামপুর, জাফরাবাদ, মৌজপুর, গোকুলপুরী-তে ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে।

সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে এ দিন দিল্লি পুলিশের তরফে চারটি হাসপাতালে মোতায়েন পুলিশ অফিসারদের ফোন নম্বরও প্রকাশ করা হয়, যাতে আহতদের সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে পারেন সাধারণ মানুষ।।

রাজধানীর আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে মঙ্গলবার রাতেই তৃতীয়বার দিল্লি পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন অমিত শাহ। তার পরেই রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে প্রথমে সীলামপুরে যান জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। পরে জাফরাবাদ, মৌজপুর-সহ উত্তর-পূর্ব দিল্লির একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় যান তিনি।

আই.এ/এসএস

মন্তব্য করুন