ইমাম সমাজকে বাদ দিয়ে সমাজের অগ্রগতি অসম্ভব

প্রকাশিত: ৭:৪৮ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২০

মুফতি হেলাল উদ্দীন হাবিবী

সমাজের প্রতিনিধিদের মধ্যে অন্যতম হলো মসজিদের ইমাম। সকল শ্রেনী-পেশার মানুষ তাদের সুখ, দু্রঃখ, আনন্দ বেদনা ও বুকে জমানো ব্যাথা ও কথাগুলো ইমাম সাহেবের নিকট আমানত রাখেন। ইমামগণও বিভিন্ন উপায়ে সমাজের মানুষের দৈনন্দিন হাজারো সমস্যার সমাধান দিয়ে থাকেন।

ইসলামের শান্তিময় জীবন ব্যবস্থা আদব শিষ্টাচার ও নৈতিকতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে ইমাম সমাজ প্রতিনিয়ত জ্ঞানের আলো বিতরণ করে থাকেন। সমাজ থেকে মাদক, জুয়া, দূর্নীতি, ইভটিজিং, জুলুম ও ধর্ষণ দূর করে ন্যায়, ইনসাফ ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় ইমাম সমাজের বিকল্প নাই। সঙ্গত কারনেই আদর্শ সমাজ বিনির্মানে ইমামগণের গুরুত্ব অপরিসীম।

কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, আলোকিত মানুষ গড়ার কারিগর এই ইমাম সমাজ আজও দারিদ্রের কশাঘাতে জর্জরিত। বর্তমান বাজারে একজন দিনমজুর শ্রমিকের দৈনিক হাজিরা পাঁচ শত থেকে ছয় শত টাকা হলেও সমাজ প্রতিনিধি একজন ইমামের দৈনিক হাজিরা হয় মাত্র এক শত পঞ্চাশ টাকা থেকে দুই শত টাকা।

এমনকি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শহরে মসজিদ কমিটির পর্যাপ্ত বেতন প্রদানের সক্ষমতা থাকা সত্তে¡ও অধিকাংশ ইমামের বেতন দশকের ঘরের কম; যা দিয়ে একজন ইমাম ফ্যামিলিসহ ঢাকা থাকবেনতো দূরের কথা; মা বাবা স্ত্রী সন্তান গ্রামে রেখেও সংসার চালানো দূরূহ ব্যাপার।

অথচ ইমাম সাহেব সামাজিক ও আত্মমর্যাদার দিকে লক্ষ্য রেখে দারিদ্রতার এই যন্ত্রণা কারো নিকট শেয়ার করতে পারেন না; বরং সব দুঃখ কষ্ট বুকে চেপে স্বীয় দায়িত্ব পালন করে যান। এ ছাড়া আরো অসংখ্য সমস্যা ও প্রতিকুল অবস্থা মোকাবেলা করে ইমাম সমাজ তাদের মহান দায়ীত্ব আঞ্জাম দিয়ে থাকেন। যেসব দায়িত্ব আঞ্জাম দিতে গিয়ে তাদের পড়তে হয় নানান সমস্যা ও বিড়ম্বনার মুখে।

  • নিম্নে কয়েকটি সমস্যা তুলে ধরা হলো:
    ১. সমাজের অবক্ষয় তথা মাদক জুয়া সুদ হত্যা ধর্ষণ ইত্যাদি বিষয়ে কোরআন-হাদিসের আলোকে আলোচনা করলে এহেন অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিগণ ইমামের বিরুদ্ধে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র ও অপবাদ আরোপ করে। এমনকি তাঁর প্রাণনাশেরও চেষ্টা করে থাকে।
    ২. মসজিদ কমিটির সাথে ইমামের কোনো বিষয়ে মতের অমিল হলেই তাৎক্ষণিক বিনা নোটিশে ইমামকে অব্যহতি দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে দেশীয় বা আন্তর্জাতিক কোনো আইনের তোয়াক্কা করা হয় না।
    ৩. একজন ইমাম ২৫-৩০ বছর কোনো মসজিদের দায়ীত্ব পালন করার পরও বিদায়ের সময় তাকে কোনো ধরনের পেনশন বা ভাতা প্রদান করা হয় না। যা শুধু অমানবিকই নয়, বরং মানবতাবিরোধীও বটে।

২০০৮ সালে পরিচালিত ইসলামি ফাউন্ডেশনের জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশে মসজিদের সংখ্যা ২ লাখ ৫৩ হাজার ১৭৬ টি। এর মধ্যে শুধু ঢাকা শহরেই রয়েছে ২ হাজার ৭৭৭ টি। বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য নানামুখি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন; যা বিশ্ব দরবারে আজ ব্যাপক প্রসংশিত। তবে এ কথাটিও সবাইকে গভীরভাবে উপলব্ধি করতে হবে যে, এই আড়াই লাখ মসজিদের ইমাম তথা সমাজ প্রতিনিধিদের পেছনে রেখে সুষ্ঠু সুন্দর ও উন্নত বাংলাদেশ গঠন কোনোভাবেই সম্ভব নয়। সুতরাং আদর্শ সমাজ ও উন্নত দেশ গঠনে ইমামগণের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা সময়ের দাবী।

লেখক: মুফতি হেলাল উদ্দীন হাবিবী
মুফাস্সিরে কুরআন ও ইসলামী গবেষক
খতিব, মাসজিদুল কুরআন জামে মসজিদ
কাজলা (ভাঙ্গাপ্রেস), যাত্রাবাড়ী, ঢাকা।

মন্তব্য করুন