চরমোনাই ফাল্গুনের মাহফিল বিষয়ক জরুরী নির্দেশনা

প্রকাশিত: ৭:০৫ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২০

চরমোনাই বাৎসরিক মাহফিল এ দেশের বৃহত্তম একটি মুসলিম গণজমায়েত। আগামী ১৩, ১৪ ও ১৫ ফাল্গুন ১৪২৬ বাংলা, মোতাবেক ২৬, ২৭ ও ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ইংরেজি রোজ : বুধ, বৃহস্পতি ও শুক্রবার চরমোনাই’র বার্ষিক এ মাহফিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

সারাদেশ থেকে আগত বহু সংখ্যক মুসুল্লিদের জমায়েত হয় বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর তীরে চরমোনাই জামিয়া রশিদিয়া আহসানাবাদ মাদরাসার ময়দানে। ইতিপূর্বে দেশের গণমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্টে চরমোনাই বার্ষিক মাহফিলে আগত মুসল্লিদের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন তথ্য এসেছে। অনেকের দাবী, এ ইসলামী মহাসম্মেলনটি বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম। কিন্তু চরমোনাই মাহফিলের মূল আয়োজক সংগঠন বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটি সংখ্যাতত্বের ব্যাপারে নির্বিকার। তাঁরা সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খল ভাবে মাহফিল আয়োজনের ব্যাপারে বদ্ধপরিকর।

সম্প্রতি বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটির সেক্রেটারি জেনারেল খন্দকার গোলাম মাওলা চরমোনাই মাহফিল সুন্দর ভাবে পরিচালিত করার লক্ষে নিম্নের গুরুত্বপূর্ণ দিক- নির্দেশনাটি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।

চরমোনাই’র বার্ষিক মাহফিল উপলক্ষ্যে বিশেষ দিক-নির্দেশনা :

মাহফিলে আসার প্রস্তুতি ও মাঠে প্রবেশের নির্ধারিত সময় : মুজাহিদগণ এলাকা বা হালকা ভিত্তিক কাফেলা তৈরি করবেন। কাফেলায় একজন আমীর থাকবেন। তিনি কাফেলার সকল সদস্যের মোবাইল নম্বরসহ নাম তালিকাভূক্ত করবেন এবং চার দিনের সফরের প্রয়োজনীয় অর্থ ও সামানা সংগ্রহের কাজ তদারকি করবেন। মাহফিল শুরু হওয়ার তিন দিনের পূর্বে চরমোনাই ময়দানে আসা ও অবস্থান গ্রহণ সম্পূর্ণ নিষেধ। মাহফিল মাঠে প্রয়োজনের অতিরিক্ত জায়গা দখল করে রাখা যাবে না। যদি কেউ একা এসে থাকেন তাহলে একজনের জায়গা নেবেন। একাধিক ব্যক্তি এসে থাকলে যতজন আসবেন ততজনের জায়গা নেবেন। কোন অবস্থায়ই কাফেলার জন্য আগে এসে জায়গা রাখা যাবে না।

মাহফিলে যারা সড়ক পথে গাড়ি যোগে আসবেন তাদের জন্য করণীয় : সময় হাতে থাকতেই কাফেলার সামানা (মালপত্র) প্রস্তুত করে নিতে হবে। যাতায়াতের জন্য গাড়ি রিজার্ভ করে রাখতে হবে। গাড়িতে ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত কোন যাত্রি যেন না নেয়া হয় সে ব্যাপারে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। যাত্রাপথে কোন সাথী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। চরমোনাইস্থ বিশ্বাসের হাট ব্রিজের পশ্চিম পাশের মাহফিলের গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য সু-ব্যবস্থা করা হয়েছে। পার্কিংয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবকদের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী গাড়িতে যাত্রী ওঠা-নামা করবে। কোন অবস্থায়ই যেখানে সেখানে গাড়ি পার্কিং অথবা যাত্রী ওঠা-নামা করতে পারবে না। এখানে গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য কোনো টাকা দিতে হবে না। কেউ টাকা চাইলে সাথে সাথে তাকে ধরে স্বেচ্ছাসেবকদের হাতে সোপর্দ করতে হবে। মাহফিল শেষে সকল বাস একসাথে বের হওয়ার জন্য তাড়াহুড়া করবেন না। অত্যন্ত ধীরস্থিরভাবে স্বেচ্ছাসেবকদের নির্দেশনা অনুযায়ী ধারাবাহিকভাবে বের হতে হবে। গাড়ি ছাড়ার পূর্বে সকল সাথী গাড়িতে উঠেছে কী-না, লক্ষ্য রাখতে হবে।

মাহফিলে যারা লঞ্চ/ট্রলারে আসবেন তাদের জন্য করণীয় : সময় হাতে থাকতেই কাফেলার সামানা প্রস্তুত করে নিতে হবে। যাতায়াতের জন্য লঞ্চ/ট্রলার রিজার্ভ করে রাখতে হবে। নির্ধারিত লঞ্চ/ট্রলারে যাতে ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী না নেয়া হয় সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। যাত্রাপথে কোন সাথী অসুস্থ হয়ে পড়লে জরুরিভিত্তিতে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। মাহফিলের লঞ্চ/ট্রলার ঘাটে দায়িত্বে নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবকদের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী লঞ্চ/ট্রলারের যাত্রী ওঠা-নামা করবে। কোনক্রমেই যেখানে সেখানে লঞ্চ/ট্রলারের যাত্রী ওঠা-নামা করতে পারবে না। ঘাটের জন্য কোন টাকা দিতে হবে না। কেউ টাকা চাইলে সাথে সাথে তাকে ধরে স্বেচ্ছাসেবকদের হাতে সোপর্দ করতে হবে। মাহফিল শেষে সকল লঞ্চ/ট্রলার একসাথে বের হওয়ার জন্য তাড়াহুড়া করবেন না। অত্যন্ত ধীরস্থির ভাবে শৃঙ্খলার দায়িত্বে নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবকদের নির্দেশনা অনুযায়ি ধারাবাহিক ভাবে বের হতে হবে। যারা ট্রলার যোগে মাহফিলে আসবেন তারা এমন সময় রওনা করবেন যাতে সূর্য ডোবার আগেই চরমোনাই পৌঁছতে পারেন। কেননা, নৌপথে রাত্রে যাতায়াত নিরাপদ নয়। ঢাকা, চাঁদপুর ও বরিশাল লঞ্চ টার্মিনালে স্ব-স্ব জেলার স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী মোতায়েন থাকবে। লঞ্চে ওঠা-নামায় কোন ধরনের তাড়াহুড়া করবেন না, সারিবদ্ধভাবে শৃঙ্খলার সাথে ওঠা-নামা করবেন।

যে সকল ব্যক্তিগণ লঞ্চ/বাস রিজার্ভ করবেন তারা যাত্রীদের নিকট হতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে পারবেন না। যাতে সাধারণ যাত্রীরা জুলুমের শিকার না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

মাহফিলে আসার পর করণীয় : মাহফিল মাঠে এসে যেখানে যায়গা পাবেন সেখানেই থাকার ব্যবস্থা করবেন । জায়গা নিয়ে কোনরূপ ঝগড়া করা যাবে না। কোন সমস্যা হলে সেচ্ছাসেবক দায়িত্বশীলের সহযোগিতা নিতে হবে। মাহফিলে আগত সকল কাফেলার আমীর/জিম্মাদার তার কাফেলার সকল সাথীদের নাম ও মোবাইল নাম্বার সংরক্ষণ করবেন। সকল সাথীকে আমীর/জিম্মাদার ও কাফেলার ২/৩ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির মোবাইল নম্বর, মাঠ নম্বর, হালকা নম্বর ও খুটি নম্বর লিখে সাথে দিয়ে দিবেন এবং সাথীগণ তা সংরক্ষণ করবেন। যাতে মাহফিলে হারিয়ে গেলে আমীরের সাথে বা আমীর তার সাথীদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। তাছাড়া মাঠ নম্বর, হালকা নম্বর ও খুটি নম্বর সাথে থাকলে যে কোন স্বেচ্ছাসেবক তার কাফেলার অবস্থান বলে দিতে পারবে।

মাহফিল চলাকালীন সময়ে করণীয় :

১. মাহফিল চলাকালীন সময়ে নতুন সাথীদেরকে বাদ ফজর ও বাদ মাগরিব আমীরুল মুজাহিদীন ও নায়েবে আমীরুল মুজাহিদীনের বয়ান গুরুত্বের সাথে উপস্থিত রেখে শোনাতে হবে। মাহফিলে অন্যান্য সময়ে অতিথি ওলামা-মাশায়েখের বয়ানও গুরুত্ব দিয়ে শোনানোর ব্যবস্থা করতে হবে।

২. প্রতিদিন সকাল ৯টা হতে মাঠে সকল হালকায় তালীম ও যিকিরের মজলিসে মাহফিলে আগত নতুন ও পুরাতন সাথীদেরকে নিয়ে অবশ্যই বসবেন।

৩. মাহফিলের মাঠে কোন লাকড়ির চুলা ব্যবহার করা যাবে না। কোন গর্ত করা যাবে না। বয়ান চলাকালীন কোন প্রকারের রান্নাবান্না ও হাটাচলা করা যাবে না। বিশেষ করে সকাল-সন্ধ্যার বয়ানের সময়ে। মাঠের কোন লাইট-মাইকে হাত দেয়া যাবে না। সমস্যা হলে সেচ্ছাসেবকদের জানাতে হবে।

৪. মাহফিল চলাকালীন সময়ে অসুস্থ রোগীদের সু-চিকিৎসার জন্য মাহফিলের অস্থায়ী হাসপাতাল ও অভিজ্ঞ ডাক্তারের ব্যবস্থা রয়েছে। আপনার/আপনাদের কাফেলার কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে আপনার পার্শ্ববর্তী স্বেচ্ছাসেবক ক্যম্পে যোগাযোগ করবেন। স্বেচ্ছাসেবকগণ অসুস্থ ব্যক্তিকে হাসপাতালে পৌছানোর ব্যবস্থা করবেন। মাহফিল হাসপাতালের সামনে ন্যায্য মূল্যের ওষুধের দোকান থাকবে সেখান থেকে আপনার প্রোয়জনীয় ওষুধ খরিদ করার জন্য পরামর্শ দেয়া গেল।

৫. জিলার কোন ব্যক্তি/ব্যক্তিরা মাহফিল ময়দানে এসে অতিরিক্ত জায়গা দখল করে না রাখে, সে ব্যাপারে প্রত্যেক জিলা কমিটি অবশ্যই খেয়াল রাখবেন।

৬. বিভাগের আওতাধীন কোন্ জেলা হতে কতটি গাড়ি/লঞ্চ/ট্রলার রিজার্ভ করে এসেছে তার পরিসংখ্যান বিভাগীয় কমিটির কাছে থাকতে হবে।

পরিশেষে, শৃঙ্খলার স্বার্থে চরমোনাই’র মাহফিলে কেন্দ্র কর্তৃক মনোনীত স্বেচ্ছাসেবক ছাড়া বিভাগীয় মুজাহিদ কমিটি, জেলা মুজাহিদ কমিটি এবং দীন কায়েম সংগঠন ও সহযোগী সংগঠনের কেউই নিজস্ব কটি ব্যবহার করতে পারবেন না।

নির্দেশনা প্রদান : খন্দকার গোলাম মাওলা। সেক্রেটারী জেনারেল, বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটি।

সৌজন্যে : চরমোনাই মিডিয়া সেল

আরও পড়ুন :

প্রায় ২০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছে চরমোনাই মাহফিলে

চরমোনাই মাহফিলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি কেমন

চরমোনাই মাহফিল সম্পর্কে বিস্তারিত ইতিহাস জানতে ভিডিওটি দেখুন :

মন্তব্য করুন