মানুষ কেন চরমোনাইমুখী ?

চরমোনাই মাহফিল

প্রকাশিত: ১০:১৮ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২০

“মাওলা! আমি নালায়েক বান্দা। এ ময়দানে অনেক আল্লাহর আছেন, তাঁদের উছিলায় এ ময়দানে যারা এসেছেন তাদের সবাইকে কবুল করে নাও।” এই হলো আমীরুল মুজাহিদিন পীর সাহেব চরমোনাই মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম হাফিজাহুল্লাহর বিণীত দোয়া প্রার্থনা। উদ্বোধনী বয়ানে তিনি এটা সচরাচার বলে থাকেন।

সে দিনটা আগামীকাল বুধবার। জোহরের নামাজের পর তিনি লাখ লাখ মানুষকে লক্ষ্য করে চরমোনাইতে আসার উদ্দেশ্য বয়ান করেন। তিনি স্পষ্ট করে সকলকে জানিয়ে দেন, এটা কোন প্রচলিত দরবার নয়। দুনিয়াবি কোন স্বার্থ হাছিলের জায়গা না। দুনিয়াবি কোন বিপদ আপদ থেকে উদ্ধার পাওয়া, ধনসম্পদ বৃদ্ধি করা অথবা রোগ বালাই থেকে আরোগ্য লাভের বাহানা নিয়ে এখানে কেউ আসবেন না। যদি কেউ এমন নিয়্যতে এসে থাকেন, তাহলে এখুনি নিয়্যত পরিবর্তন করে ফেলুন। এখানে আল্লাহর সাথে সম্পর্ক জড়ায়ে দেয়ার কাজটা করা হয়। হেদায়েত লাভের পথটা বাতায়ে দেয়া হয়।

চরমোনাই ফাল্গুনের মাহফিল বিষয়ক জরুরী নির্দেশনা

এ মাঠটি বড়ই বরকতের। এখানে নতুন যারা আসেন আল্লাহ চাহে তো! তাদের মাঝে পরিবর্তন আসে। আমলের উন্নতি। নেকের আমল ধরতে হবে আর গুনাহের কাজ ছাড়তে হবে। সবাই সবার জন্য দোয়া করেন যেন আল্লাহ আমাদেরকে কবুল করে নেন।

নিয়মিত যারা আসেন তারা মাহফিলের প্রথম দিনে পীর সাহেব মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম হাফিজাহুল্লাহর মুখ থেকে এসব কথাই শোনেন।

চরমোনাই মাহফিলে এত মানুষ কেন আসে? এটাই মিলিয়ন ডলার প্রশ্ন। কেন আসে? উত্তর একটাই আল্লাহ ও আল্লাহর রাসুল (সঃ)কে চিনতে ও জানতে। পাপ পঙ্কিলতায় জড়িয়ে পড়া হাজারো মানুষ এখানে এসে পিছনের জীবনকে লাথি মারে। চরমোনাই থেকে ফিরে নতুন জীবন পায়। ইসলামী জিন্দেগী। হ্যাঁ, এটা আপনাকে মানতে হবে। চরমোনাই মাহফিলে নতুন আগন্তুকরা ঐ সওদা নিয়েই তো ঘরে ফিরে।
নতুন জীবন মানে বিফোর লাইফকে ছুড়ে ফেলে দেয় চরমোনাই থেকে ফিরে।

প্রায় ২০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছে চরমোনাই মাহফিলে

চরমোনাই মাহফিলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি কেমন

এখানে আল্লাহর রহমত পাওয়া যায়, এটা নতুন কোন দাবী নয়। রহমত প্রাপ্তির হেকমতটা কি? তেমন কিছুই না। তবে একটাই আরাধ্য, একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যেই সবাই এখানে জড়ো হয়ে মুরশিদের কাছ থেকে দীক্ষা নিয়ে ঘরে ফিরে সবাই। তওবা করে এখান থেকে ফিরে মানুষেরা আল্লাহকে চিনতে চায়, ফলে ইবাদাতে তারাক্কি হয়। জিকির করতে করতে মানুষের কয়লা রঙয়ের কলবটা সফেদ হয়।

যত লোক আসে, সবাই যে হেদায়েতের পথ পেয়ে যায় সেটা দাবী করিনা তবে অধিকাংশই লাইনে ফিরে আসে। হ্যাঁ অধিকাংশ মানুষ নেকের আমল ধরে, গুনাহের কাজ ছাড়ে।এটাই মূলতঃ চরমোনাইর প্রতি মহান আল্লাহর রহমত ও বরকত।

লেখক, গবেষক ও বিশ্লেষক।

মন্তব্য করুন