‘পাপিয়ারা পাপ করে না, তাদের দিয়ে পাপ করানো হয়’

প্রকাশিত: ৬:৫৫ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২০

নরসিংদী বলে কথা। যেখানে গ্রামের সবুজ ছায়া নেমে আসে মনের গভীরে। মনে জন্মায় ভালোবাসা। তবে এই ভালোবাসার মাঝ দিয়ে মাঝে মাঝে জন্ম নেয় পাপিয়ার মত পাপি। যারা নষ্ট করে সমাজ আর নষ্ট করে দেশ। তবে আমার দেখা এই যাবৎ কোনো নারী কিংবা পুরুষ যে বা যাহারা এত বড় ক্ষমতার মসনদের উপনিত হয়েছেন তারা কেউ একা নই। তাদের পিছনে আছে মহা শক্তি। যার প্রমান মিলেছে অহরহ।

পাপিয়া ছিলো না কোনো রাজনীতি  জগতের পাতি নেতাদের নেতৃত্বে। পাপিয়া চলত সরাসরি কেন্দ্রের যোগসাজসে। পাপিয়ার রাজনীতি জীবন থেকে জানা যায় প্রথম আলোর সূত্র মতে, ২০১০ সালে পাপিয়া নরসিংদী ছাত্রলীগের আহ্বায়ক ছিলেন। সর্বশেষ ২০১৮ সালে পাপিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

নরসিংদীর মেয়র কামরুজ্জামান তো বলেই দিয়েছেন পাপিয়ার সাধারণ সম্পাদক হওয়ার কাহিনী। কাউন্সিল হতো নরসিংদীতে আর পাপিয়ার নাম ঘোষণা হতো ঢাকা থেকে। তার মানে পাপিয়া পুটি মাছ খেতো না কেবল রাগোব বোয়াল খেতো।

পাপিয়ার টাইমলাইন ঘুরে আসলে আপনার শ্রদ্ধা পাপিয়ার প্রতি আরো বেড়ে যাবে হরহামেশ। পাপিয়া ফেসুবক টাইমলাইনের কভার ফটোতে স্বয়ং আমাদের ওবায়দুল কাদের সাহেবের সাথে তোলা পাপিয়ার ছবি দিয়ে রাখছেন। একটু নিচে নামলে আরো দেখবেন কত শত বড় বড় নেতাদের সাথে পাপিয়ার সমাঝোতা। এই সকল পিকগুলো সম্পর্কে ঐসব নেতাদের জিজ্ঞেস করলে তারা কেউ বলবে বয়সের ভারে আমরা কি আর পাপিয়াকে চিনেতে পেরেছি!! আবার কেউ বা বলবেন পাপিয়া তখন খুব ভালো মনের নামাজী পরহেজগার ছিলো, হঠাৎ বিরোধীে দলের চক্রান্তে এই নাবালিকা মহিলাটি খারপ হয়ে গেছে। আর যখন ভালো ছিলো তখন মেয়েটাকে দোয়া দেয়ার জন্য গিয়েছিলাম। আর তখন এই পিক। কিংবা কেউ বলেই দিবেন এসব এডিট করা যায়।

আর যাই হোক, পাপিয়ারা বড় অসহায় বলে আমার মনে হয়। যতদিন চলবে পাপিয়াদের সাথে রাগোব বোয়ালদের মনের মিল ততদিন চলবে পাপিয়াদের উন্নয়নের ঈদ। পাপিয়ারা ততদিন পাপ করতে পারবে যতদিন রাগোব বোয়ালরা চাইবেন। যেদিন রাগোব বোয়ালরা সুতা ধরে টান দিবেন সেদিন পাপিয়াদের স্থান হবে কারাগার বৈ আর কি। তবে আফসোস আসামিদের জন্য।

বৃটিশরা আইন করে গেলেন আসামিরা সাংবাদিকদের সামনে কোনো বিবৃতি দিতে পারবে না। ইশশ আজ যদি পাপিয়া সরাসরি কথা বলতে পারতে সাংবাদিকদের সাথে। উত্তরগুলো যদি আসতো প্রশ্নাকারে। তাহলে হইতো পাপিয়ার সাথে আগে যেমন ছিলো রাগোব বোয়ালের নীড়, কারাগারেও হতো তাদের একসাথে ঈদ।

এই লেখাটি লেখা অবদি আমার মনে পড়ে গেলো আরেক রাগোব বোয়াল শিষ্য কেসিনো সম্রাটের কথা। তিনাকে যারা সম্রাট বানিয়েছেন তিনারাই তো আবার জিরো বানিয়েছেন। সেদিন এই সম্রাটের পক্ষে কেউ ছিলো না!! এই বিপদের সময় কেবল কাছের বন্ধু যুবলীগের সভাপতি ওমর ফারুক চুপ করে না থেকে উচ্চ স্বরে বলেই ফেললেন,‍ ‘সম্রাটেরা যখন এত কিছু করেই ফেললেন তখন আপনারা কি আঙুল চুষছিলেন’।

আজ যদি ওমর ফারুকের মত লোক থাকতো হয়তো পাপিয়ার জন্যও বলতেন ‘সেদিন কোথায় ছিলেন যখন গাল ভেটকি দিয়ে পরম আদুরে গায়ে পড়ে পাপিয়ার সাথে পিক তুলেছিলেন’। তবে কেউ না কেউ তো দাাঁড়বেই ইচ্ছাই হোক আর অনিচ্ছাই হোক। ইতোমধ্যে খবর এসেছে পাপিয়ার সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক‍ থাকা যুবলীগের একজন নেত্রী তুহিনের কথা। তিনি তো ভালো কথাই বলেছেন- তাদের পিছনে আর কে কে আছে তাদেরও বের করা হোক।

তবে আমার মনে হয় তুহিনের এই কথাটা একটু বেশি হয়ে গেছে। তুহিনের কথামত পাপিয়াদের পাপের পিছনের সবাইকে বের করা হলে তো ‘কম্বলে লোম বাচলে যেমন কিছুই থাকে না’ ঠিক তেমনি নেতাদের কেউ আর বাহিরে থাকবে না । কারণ নরসিংদীর মেয়রের বক্তব্য মোতাবেক পাপিয়া পাতি নেতাদের বলে নয় কেন্দ্র বলে চলে।

এবার আসুন আমাদের হুজুগে জাতির কথা। আমাদের ফেসবুকে ক্যাসিনো সম্রাটের আলোচনা নিপাতের পর দীর্ঘদিন ধরে কেবল ভালোবাসা আর প্রিয়সীকে নিয়ে লেখা হয়েছে। কারণ আমাদের আর কোনো ইস্যু ছিলো না। ইদানিং দেখলাম গ্রামের সেই অজোপাড়া গাঁয়ের ছেলেও এখন পাপিয়াকে নিয়া লেখা লেখে। সম্রাটের সময় ফেসবুকসহ সব জায়গায় দেখতাম সরকারের ভুয়সী প্রশংসার চর্চা হচ্ছে। সরকার দুর্নীতি দমনে জিরো টলারেন্সে নেমে গেছেন। এবার দুর্নিতী আর করবে কে!! সরকারে এই জিরো টলারেন্সকে বুড়ো আঙুল দেখালেন সম্রাটের গায়েবী বোন পাপিয়া।

এবারও কি কেউ কেউ বলবে পাপিয়াকে ধরার মাধ্যমে সরকার আবারও দুর্নিতীর বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স শুরু করেছেন। নাকি নিরবে আগের বলা কথাগুলোর জন্য তওবা করবেন।

আমার মনে হয় এসব পাপিয়াদের কারাগারে না দিয়ে (কারাগার বললাম এই জন্য বাংলাদেশে সব অপরাধ কারাগার প্রেরণ পর্যন্ত আমরা দেখি) পাপিয়ার পিছনে যারা আছের এবার একটু তাদের ধরেই ছাড়েন। কারণ- এসব পাপিয়ারা পাপ করে না, তাদের দিয়ে পাপ করানো হয়। পাপিয়ার সেই মোবাইল ফোনের ভিডিও কোথায়? নাকি আবারার হত্যা আর ডাকসু ভিপি হামলার ন্যায় গায়েব হয়ে যাবে। ভিডিওগুলো দেখুন কি আছে তাতে। কার সাথে কোন নেতার রঙ্গিন খেলা চলে দেখুন।

দেখে দেখে তাদের ধরুন। তাদেরকে বিচারের আওতায় আনুন। তাদের এমন ব্যবস্থা করুন বাংলাদেশে যেন এরকম আর কোনো সম্রাট আর পাপিয়া জন্ম না হয়। তবে যে বিষফোঁড়া জন্ম দিয়েছে তারা তার মূল নিধন এত তাড়াতাড়ি সম্ভব হবে বলে মনে হয় না। হয়তো বা কেউ একজন স্লোগান দিচ্ছে ‘এক পাপিয়া কারাগারে লক্ষ পাপিয়া নেতাদের অন্তরে’।

তারপরেও হোক আবার শুদ্ধি অভিযান। এবার হোক ভিন্নমাত্রায়। উঠে আসুক কাছের কিংবা দুরের সব অপারাধি। তাহলেই কেবল রক্ষা পাবে দেশের জনগন আর বাংলাদেশ নিয়ে ভাববে পরবর্তী তারুণ্যের দল।

লেখক: সুলতান মাহমুদ আরিফ
শিক্ষার্থী এবং গণমাধ্যম কর্মী

মন্তব্য করুন