ঢাবিতে এসে ক্যাম্পাসে মারধরের শিকার ২ প্রাক্তন শিক্ষার্থী

প্রকাশিত: ১০:৫৭ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২০

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ছাত্র সংসদের ভিপি কামাল উদ্দিন ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ে বেড়াতে আসা দুই প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও কয়েকজন দর্শনার্থীকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে সলিমুল্লাহ মুসলিম আবাসিক হল সংলগ্ন ফুলার রোডে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগী প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা হলেন- নুজহাত ফারহানা ও রানা নাসের। ফারহানা ঢাবির ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী। এছাড়া রানা নাসের ঢাবির থিয়েটার ও পারফরমেন্স বিভাগের ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

নুজহাত চায়নায় পিএইচডি অধ্যয়নরত। করোনা ভাইরাস আতঙ্কে কিছুদিন আগে দেশে ফেরেন তিনি। চায়না যাওয়ার সহজ প্রক্রিয়া জানাতে ছোট ভাইয়ের সঙ্গে ঢাবিতে আসেন তিনি। ঢাবির সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের পাশে অবস্থিত ব্রিটিশ কাউন্সিলের সামনে ফারহানা ও বাপ্পি কথা বলছিলেন। কিছুটা দূরেই নাসের মুঠোফোনে কথা বলছিলেন। বাপ্পি রানা নাসিরের ছোট ভাই।

পরবর্তী সময়ে এসএম হলের ১ম বর্ষের কিছু শিক্ষার্থী এসে তাদের সঙ্গে তর্কে জড়ায়। এ ঘটনায় ফারহানা ও বাপ্পি প্রতিবাদ করলে তাদেরকে ওই শিক্ষার্থীরা মারধর করে।

এ ঘটনায় রানা চিৎকার করে দৌড়ে ঘটনাস্থলে আসেন। এ সময় র‍্যাগিংয়ের শিকার বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী সেখানে আসলে আক্রমণকারীরা দৌড়ে পালিয়ে যায়। এ সময় ‘শেখ পরাগ’ নামের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ১ম বর্ষের এক শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়। পরে পরাগকে মারধর করে উপস্থিত জনতা। মারধরের ঘটনার ভিডিও করেন ফারহানা।

নুজহাত ফারহানা বলেন, ‘রানা নাসেরের ছোট ভাই বাপ্পি চীনে স্কলারশিপ নিতে চায়। বিষয়টি নিয়ে রাতে ফুলার রোডে আমি ও বাপ্পি কথা বলছিলাম। এমন সময় প্রথমবর্ষের কিছু শিক্ষার্থী এসে যারা লাইন ধরে বসে ছিলেন তাদের হয়রানি করছিলেন। এ সময় তারা আমাদের কাছে এসে বাপ্পিকে মারধর করে দৌড়ে পালিয়ে যায়। পালানোর সময় এক শিক্ষার্থীর মোবাইলফোন ঘটনাস্থলে পড়ে যায়। পরে ওই শিক্ষার্থী মোবাইল ফোন নিতে এলে রানা নাসের ওকে ধরে ফেলে। পরে মারধরের শিকার আরেকজন ওই শিক্ষার্থীকে মারধর শুরু করে।’

‘এ ঘটনার পর হলের ভিপি কামাল এসে আমাদের হলের ভিতরে নিয়ে যায়। সে প্রচণ্ড খারাপ আচরণ করে আমাদের সঙ্গে। এ সময় ৭০ থেকে ৮০ জন শিক্ষার্থী আসে। হেনস্তার এক পর্যায়ে কামাল বলে, প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থীদের সাত খুন মাফ। তাকে কেন মারা হলো? এ সময় তারা নাসেরকে মারধর শুরু করে। তারা আমার ফোন নিয়ে টানাটানি শুরু করে। এ সময় প্রোক্টরিয়াল টিম এসে আমাদের নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ওই শিক্ষার্থীরা তাদের ওপরও হামলা চালায়। এক পর্যায়ে তারা আমাদের প্রোক্টর অফিসে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়।’- বলেন ফারহানা।

রানা নাসের বলেন, ‘আমার ছোট ভাই বাপ্পি শারীরিকভাবে অসুস্থ। আমার পরিবার তাকে চীনে পড়াশোনার জন্য পাঠাতে চায়। তাই আমি আমার ছোট ভাইয়ের মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বড় আপুর (নুজহাত ফারহানা) দ্বারস্থ হই। আমার ভাই এবং ওই আপুকে ফুলার রোডে এক জায়গায় বসিয়ে আমি কাছেই একটি কাজের জন্য যাই। এ সময় এসএম হলের কিছু শিক্ষার্থী এসে আমার ভাইকে মারধর করে।’

এ বিষয়ে এসএম হলের ভিপি কামাল উদ্দিনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোক্টর এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, ‘আমাদের প্রোক্টরিয়াল টিমের চার সদস্য আহত হয়েছেন। তাদেরকে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা দিতে হয়েছে। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। অপরাধীদের অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে।’

এমএম/

মন্তব্য করুন