সহজ উপায়ে সারা বছর সুস্থ থাকুন

প্রকাশিত: ৬:২৫ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২০

বছরের শুরুতে সারাবছর স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খাবেন এই প্রতিজ্ঞা করেছিলেন। অথচ, ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে এসে প্রতিজ্ঞা টলমল করছে? আপনি একা নন। এমন সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। তাই পুরো বছর নয়, একটি করে সপ্তাহ স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খেয়ে পার করুন।

সেটাও ইদানিং সম্ভব হচ্ছে না? চলুন, আজ এমন কিছু কৌশল শিখে নেওয়া যাক যেটি আপনার সামনে সপ্তাহের সাতটি দিনকে স্বাস্থ্যকর রূপ এনে দিবে-

স্মুদিতে শিমের বীজ ব্যবহার করুন

পুরো স্মুদি থেকে শিমের গন্ধ আসবে, এমনটাই ভাবছেন তো? উঁহু! একদম নয়। প্রতিদিনের স্মুদিতে কয়েকটি শিমের বীজ মিশিয়ে নিন। এতে করে গন্ধ তো হবেই না, বরং আপনার স্মুদিতে আরও একটু ক্রিমিভাব চলে আসবে। সাথে বাড়তি আঁশ আর প্রোটিন তো আছেই!

সালাদ জার বানিয়ে ফেলুন

সারাদিনে কখন কোথায় ক্ষুধা লাগবে তার কী কোনো ঠিক আছে? নেই। তাই যে কোনো সময়ের ক্ষুধাকে মিটিয়ে ফেলতে, এমনকি আপনার দুপুরের খাবার আর রাতের খাবারকেও আগে থেকেই প্রস্তুত করে রাখতে একটি মাঝারি আকৃতির জার রাখুন। এরপর তাতে নানারকম সবজি, ফল ইত্যাদির মিশ্রণ করুন। অনেকসময় ক্ষুধা লাগলে আমরা অনেক জাংক ফুড খাই। এই সালাদ জারটি তৈরি করে রাখলে ঝটপট ক্ষুধার সময়েই হাতের কাছে খাবার পাবেন আপনি।

খাবারকে মৌসুমের সাথে বদলে ফেলুন

অনেক সময় একই খাবার খেতে খেতে বিরক্তি চলে আসে। অথচ, আপনি যদি মৌসুমের হিসেবে খাবার বদলে ফেলেন, তাহলে খরচ কম হয়। আর স্বাদবদলও হয় খুব ভালোভাবে। এই মৌসুমে কোন সবজি বা ফলটি বেশি পাওয়া যাচ্ছে? আপনার সালাদে বা রান্নায় সেটাকেই ব্যবহার করুন। স্বাস্থ্যকর খাবার পাওয়া যাবে, আবার খরচটাও কম হবে।

গমের আটা বেছে নিন

কেক, রুটি বা বিস্কুট না হলে চলে না? সেক্ষেত্রে বাজারে পাওয়া আটা বা সাধারণ আটা ব্যবহার না করে গমের আটা বেছে নিন। এই আটা ঠিক চালের আটার মতোই আপনার রসনাকে তৃপ্ত করবে। আপনি যেমন পছন্দের কেক খেতে পারবেন, তেমনি নিজের স্বাস্থ্যকেও কিছুটা হলেও সুরক্ষিত রাখতে পারবেন।

ডিমের সাদা অংশ বেশি ব্যবহার করুন

স্যাচুরেটেড ফ্যাট যতটা কম গ্রহণ করা যায় ততটাই ভালো। ডিমের ক্ষেত্রে এই ফ্যাট আমরা অনেক বেশি খেয়ে থাকি। মজার ব্যাপার হলো, ডিমের সাদা অংশে ফ্যাট একেবারেই থাকে না। বরং, কুসুমেই এই স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে। তাই, পরবর্তীতে ডিম খাওয়ার সময় হলুদ অংশটুকু কিছুটা কমিয়ে নিন স্যাচুরেটেড ফ্যাট কম খাওয়ার জন্য।

ফ্রিজে কলা জমিয়ে রাখুন

কলার দাম যদি কম হয়, তাহলে একসঙ্গে অনেকগুলো কলা কিনে ফেলুন। সেগুলোকে পাকতে দিন। তারপর খোসা ছাড়িয়ে কেটে ফ্রিজের ভেতরে ফ্রিজার ব্যাগে রাখুন। প্রতিদিন নানাভাবে এই পাকা কলা খেতে পারেন আপনি। কখনো স্মুদিতে, কখনো আইসক্রিমের সঙ্গে, কখনো শুধু কলার ওপরে একটু পিনাট বাটার মিশিয়ে খেয়ে ফেলতে পারেন আপনি। এতে করে আপনার খাবারটাও মজার হবে। সাথে স্বাস্থ্যও ভালো থাকবে।

সরিষা বাটা ব্যবহার করুন

সব খাবারেই সরিষা নিয়ে আসে খানিকটা বাড়তি ঝাঁঝ। তাই, ফ্রিজে সরিষা বাটা রেখে দিন, আর তরকারি, সালাদ বা অন্য কোনো খাবারে প্রয়োজনমতো ব্যবহার করুন।

উপরে বেশ কয়েকটি কৌশল দেওয়া হয়েছে খাবারকে স্বাস্থ্যকর করে তোলার জন্য। এমন নয় যে, এই খাবারগুলো আপনাকে পুরোপুরি ফিট করে দেবে। তবে হ্যাঁ, এই কৌশলগুলো ব্যবহারের মাধ্যমে আপনার পরবর্তী প্রতিটি দিনকে আরও একটু বেশি স্বাস্থ্যকর করে তুলতে পারবেন আপনি।

সূত্র- এভরিডেহেলথ

মন্তব্য করুন