বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ঋণের ভারে জর্জরিত এয়ার ইন্ডিয়া

প্রকাশিত: ৬:৫৫ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২০

ক্রেতা না পেলে বন্ধ হয়ে যাবে এয়ার ইন্ডিয়া। ঋণের ভারে জর্জরিত ভারতের রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্স কোনো রকমে অপারেশন পরিচালনা করে ফ্লাইট চলাচল অব্যাহত রেখেছে। অর্থাভাবে তাদের ১২টি ওয়াইড বডি উড়োজাহাজও বসে রয়েছে।

জানা গেছে, দেনার ভারে এয়ারলাইন্সটি নুয়ে পড়েছে। বতর্মানে এয়ার ইন্ডিয়ার ঋণ আছে ৬০ হাজার কোটি রুপি। অর্থের অভাবে কোনো রকমে জোড়াতালি দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করতে হচ্ছে তাদের।

এয়ারলাইন্সের আর্থিক সংকটের বর্ননা দিতে গিয়ে নাম না প্রকাশের শর্তে তাদের এক কর্মকর্তা জানান, এয়ার ইন্ডিয়ার ১২টি এ৩২০ উড়োজাহাজ এখন অলস বসে রয়েছে। এসব উড়োজাহাজের ইঞ্জিন পাল্টাতে ১ হাজার ১০০ কোটি রুপি প্রয়োজন। যেখানে প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন কার্যক্রম চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে, সেখানে বর্তমান আর্থিক দূরবস্থায় এত বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ে ইঞ্জিন পাল্টানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

গেল অর্থ বছরে এয়ার ইন্ডিয়া লোকসান দিয়েছে ৮ হাজার ৫৫৬ কোটি ৩৫ লাখ রুপি। এয়ারলাইন্স চালাতে সম্প্রতি এয়ার ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে সরকারের কাছে সার্বভৌম গ্যারান্টির বিপরীতে ২ হাজার ৪০০ কোটি রুপি চেয়েছিল। কিন্তু সরকার মাত্র ৫০০ কোটি রুপি দিতে রাজি হয়েছে। এয়ারলাইন্স বলছে, এই টাকা দিয়ে তাদের পরিচালন ব্যয় মেটানো সম্ভব না। এই পরিমাণ অর্থে বড়জোর তারা আগামী জুন পর্যন্ত ফ্লাইট পরিচালনা অব্যাহত রাখতে পারবেন। এরপর যদি কোনো ক্রেতা বা অর্থের সংস্থান না মেলে তাহলে এয়ারলাইন্স বন্ধ করে দিতে হবে।

ভারতের সরকার বলছে, ২০১১-১২ থেকে এ পর্যন্ত এয়ার ইন্ডিয়ায় ৩০ হাজার ৫২০ কোটি ২১ লাখ রুপি তহবিল দিয়েছে। ইউপিএ সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে ২০১২ সালে এয়ার ইন্ডিয়াকে ১০ বছরের জন্য ৩০ হাজার কোটি রুপি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল।

এ অবস্থায় ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ব বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়ার শতভাগ মালিকানা বিক্রি করে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। আগ্রহী প্রতিষ্ঠানসমূহের আবেদন পাওয়ার পর আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে যোগ্য কোম্পানিকে নির্বাচিত করা হবে।

সরকার বলছে, বর্তমানে এয়ার ইন্ডিয়া ও এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের ৬০ হাজার কোটি রুপির যে দেনা রয়েছে তার মধ্যে ২৩ হাজার ২৮৬ কোটি রুপি দেনার দায় নিতে হবে ক্রয়কারী সংস্থাকে। এর আগে সরকার রাষ্ট্রায়ত্ব বিমান সংস্থাটির ৭৬ শতাংশ মালিকানা বিক্রির জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলেও তাতে সাড়া মেলেনি। সরকার মনে করছে, এবার শতভাগ মালিকানা বিক্রির সিদ্ধান্তের ফলে ক্রয়কারী সংস্থা অপারেশনালে কার্যক্রমে শতভাগ স্বাধীনতা পাবে।

ভারতে শুধু এয়ার ইন্ডিয়াই নয়, বিমান চলাচল খাতে ব্যবসায় মন্দা যাচ্ছে। এ কারণে সম্প্রতি বন্ধ হয়েছে দেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বেসরকারি বিমানসংস্থা জেট এয়ারওয়েজ। এর আগে ভারতের অল্প সময়ের মধ্যে আকাশপথের বাজার ধরতে সক্ষম হওয়া কিংফিশার এয়ারলাইন্সও আর্থিক কারণে একইভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আর্থিক সংকট ও বাজেট এয়ারলাইন্সসমূহের কাছে মার খেয়ে ভারতে বিমান চলাচল খাতে দূরবস্থা নতুন কোনো সংবাদ নয়। আর্থিক সংকটে পড়ে ২০১২ সালে কিংফিশারের অপারেশনও বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

১৯৩২ সালে প্রতিষ্ঠিত এয়ারলাইন্সটির বর্তমানে ১০২টি গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে। তাদের বহরে এখন ১৩৬টি উড়োজাহাজ রয়েছে।

আই.এ/

মন্তব্য করুন