সিটি নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ : দলের প্রতি ১২ টি প্রশ্ন

প্রকাশিত: ১১:৪১ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২০

বিগত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কৃতিত্বের সাথেই অংশগ্রহণ করেছে। দেশে ইসলামপন্থী রাজনীতির কলিযুগে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এই পদচারণা ইতিবাচক দৃষ্টিতেই দেখা উচিৎ। যদিও ইসলামপন্থার এই বিরূপ সময়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আপাত নির্বিঘ্ন এই পথচলাকে অনেকে সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখেন। কিন্তু ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তার দীর্ঘ পথচলায় বারংবারই তাদের সততা ও ন্যায়-নিষ্ঠতা প্রমাণ করেছে।

‘একলা চলো নীতি’ এর দীর্ঘ দুই দশকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে সন্দেহ করার মতো কোন নির্ভরযোগ্য কারণ ঘটে নাই। বরং এই দীর্ঘ দুই দশকের অনেক রাজনৈতিক বাঁকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সকল জোট-মহাজোটের বলয় থেকে নিজেকে রক্ষা করেছে। অনেক সুযোগ-সুবিধা উপেক্ষা করেছে। এই দীর্ঘ দুই দশকে অনেকেরই শত্রু-মিত্র পুরোপুরি বদলে গেলেও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শত্রু-মিত্র একই থেকেছে।

“নো আওয়ামী লীগ-নো বিএনপি, ইসলাম ইজ দ্যা বেষ্ট” এই নীতিতে তারা অটল ছিলো। তাহলে ইসলামপন্থার বিরূপ সময়ে তাদের এই আপাতঃ নির্বিঘ্ন পথচলার ব্যাখ্যা কি হবে? আমার মনে হয়, এটা তাদের কৌশলী পথ চলার ফল। তারা “বেনিফিট অফ ক্রাইসিস”কে সার্থকতার সাথে ব্যবহার করেছে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নৌকা-ধানের শীষ পরস্পর যুদ্ধোম্মুখ দুই প্রতিপক্ষ। সমস্ত শক্তি ও কৌশল তারা একে অপরকে পরাজিত করতে ব্যবহার করে। সেটা করতে গিয়ে দেশের অন্য রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও অন্যান্য শক্তিগুলোকে হয় তারা নিজেদের পক্ষভুক্ত করে অথবা অন্তত নিরপেক্ষ রাখতে চেষ্টা করে।

আওয়ামী লীগের হেফাজতে ইসলামের মতো দলকে নিয়ে টানাটানি আর বিএনপির মান্না, রব, কামালদের সাথে মাখামাখি এই সূত্রে গাঁথা। এখানে শত্রুর শত্রু বন্ধু। রণকৌশলে এক সাথে একাধিক রণক্ষেত্র তৈরী করা বোকামী। বরং অন্য শত্রুদের না খেপিয়ে সম্মুখ শত্রুর মোকাবিলা করা বুদ্ধিমানের কাজ।

নৌকা-ধানের শীষ উভয়েই এই নীতিগুলো মেনে চলে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একই সাথে আওয়ামী লীগেরও শত্রু এবং বিএনপিরও শত্রু। আবার “শত্রুর শত্রু বন্ধু” এই সূত্রের কারণে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ উভয়েরই বন্ধু।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এদেশের এই রাজনৈতিক বাস্তবতার সুযোগকে খুব চতুরতার সাথে কাজে লাগিয়েছে।

এখানে একটা বিষয় গুরুত্বপূর্ণ।  সেটা হলো নৌকা-ধানের শীষের পারস্পরিক যুদ্ধের মুল লক্ষ্য হলো, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুল লক্ষ্য হলো, জাহেলী সমাজ কাঠামোর টেকসই পরিবর্তন। ফলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতিতে এই দুই যুদ্ধোন্মাদ শক্তির কারোরই প্রতিপক্ষ না। এবং কারোরই বন্ধুও না।

এখন রণকৌশল হিসেবে কেউই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে ঘাটিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে বিপক্ষে শিবিরের দিকে ঠেলে দিতে চায় না বা নতুন কোন রণক্ষেত্র তৈরী করতে চায় না। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এই সুযোগটাকেই ব্যবহার করে পথ চলছে। সেজন্যই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পথচলাকে আপাততঃ নির্বিঘ্ন মনে হচ্ছে।

যাইহোক! এটা এই আলোচনার বিষয় না। আজকের আলোচনার বিষয় হলো, বিগত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন।

সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পদচারণা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তারপরেও এই নির্বাচনের পরে ইসলামী রাজনীতি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে পর্যবেক্ষণ করেন এমন মহলে কিছু প্রশ্ন তৈরী হয়েছে। যে প্রশ্নগুলোর সমাধান ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে আরো এগিয়ে দেবে বলে আশা রাখি। আমি এইসব প্রশ্ন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ হয়ে তুলেছি নাকি বিপক্ষ হয়ে সে প্রশ্ন আপাতত তোলা থাকুক!

প্রশ্ন-১ : মেয়র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়ার জন্য বা যেকোন নির্বাচনে মনোনয়ন দেয়ার জন্য ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কি কোন সুনির্দিষ্ট  নীতিমালা আছে? প্রশ্নটা উঠেছে একই সিটি নির্বাচনের দুই অংশে মনোনয়ন প্রাপ্ত দুইজনের মধ্যে বৈসাদৃশ্যের মাত্রা দেখে।

ঢাকা উত্তরের মেয়র প্রার্থী শেখ ফজলে বারী মাসউদ একজন উচ্চ শিক্ষিত অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণের আলহাজ্ব আব্দুর রহমান সেই অর্থে শিক্ষিত নন। আবার দক্ষিণের প্রার্থী সম্পদশালী হলেও উত্তরের প্রার্থী সম্পদশালী নন। সম্ভবত তিনি ঢাকার লোকাল বাসে চলাচল করেন।

উত্তরের প্রার্থী সংগঠনের ঢাকা উত্তরের সভাপতি ও মূল নেতাও বটে। কিন্তু দক্ষিণের প্রার্থী তা নন। একজন তরুণ নেতা অন্যজন প্রবীণ। একজন দীর্ঘ রাজনীতি করে উঠে আসা অন্যজন অল্পসময়ে দ্রুত উঠে আসা। এভাবে দেখলে দেখা যাবে যে, দুই প্রার্থীর মাঝে কোন ধরনের সাদৃশ্য নাই। বরং প্রতিটি ক্ষেত্রেই বৈসাদৃশ্য।

ফলে স্বভাবতই এই প্রশ্ন উঠছে যে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে আদৌও কোন নীতিমালা আছে কিনা?

প্রশ্ন-২ : ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কোন মনোনয়ন বোর্ড আছে কি? এবং এই নির্বাচনের প্রার্থী মনোনয়ন কি আদৌও সেই বোর্ডে আলোচনা করে নেয়া হয়েছে? কারণ নির্বাচনের সময় ঢাকা দক্ষিণের সর্বত্রই এই বিষয়ে চাপা আলোচনা শোনা গিয়েছে এবং সেটা ওপেন সিক্রেট ছিলো।

প্রশ্ন- ৩ : নির্বাচন কমিশন ও এই সরকার নিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বক্তব্য ও অবস্থান সুদৃঢ় ও সুনির্দিষ্ট বলেই জানে সচেতন মহল।  কিন্তু সিটি নির্বাচনের সময়ে দুই প্রার্থীর এই বিষয়ে বক্তব্য শুনে মনে হয়েছে, হয় সংগঠনের বর্তমান নির্বাচন কমিশন ও সরকার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অবস্থান নাই আর থাকলেও দলের মধ্যে এই বিষয়ে প্রচন্ডরকম সমন্নয়হীনতা আছে।

কারণ উত্তরের প্রার্থী শুরু থেকেই ইসির ব্যাপারে আক্রামনত্মক অবস্থানে ছিলেন এবং তিনি বারংবারই ইসির প্রতি সন্দেহ ও অনাস্থা প্রকাশ করেছেন অন্যদিকে দক্ষিণের প্রার্থী ইসির ব্যাপারে ছিলেন তুলনামূলক ইতিবাচক এবং একাধিক বক্তব্যে ইসির প্রতি তার আস্থা প্রকাশ পেয়েছে।

প্রশ্ন- ৪ : আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, ফারুক খানের মতো জাঁদরেল নেতারা। বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ ও খন্দকার মোশাররফ হোসেনের মতো শীর্ষ নেতারা। কিন্তু ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির নেতৃত্ব দিয়েছেন দুই মেয়র প্রার্থী স্বয়ং।

লোকবলহীন প্যাড সর্বস্ব কোন সংগঠনের ক্ষেত্রে এমনটা কল্পনা করা গেলেও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মতো নেতৃত্ব সমৃদ্ধ দলের ক্ষেত্রে এমনটা কল্পনা করা কঠিন।

ঢাকা উত্তরের মেয়র প্রার্থী নিজেই দলের মহানগর উত্তর শাখার সভাপতি হওয়াতে এবং সদস্য সচিব নগর উত্তরের সেক্রেটারী হওয়াতে দলের উত্তর শাখাকে হয়তো কাজে লাগাতে পেরেছেন।  তারপরেও এই নির্বাচনে দলের অন্য সহযোগী সংগঠনের কার্যক্রম সেভাবে চোখে পড়েনি। ঢাকা দক্ষিণের অবস্থা ছিলো আরও করুণ। প্রার্থী নিজেই নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক।  তিনি সংগঠনের নগর দক্ষিণের সহ-সভাপতি।  আবার সদস্য সচিব যিনি হয়েছেন তিনি নগরের সম্ভবত জয়েন্ট সেক্রেটারি। দলের অন্যান্য সহযোগী সংগঠনগুলো তো দুরে থাক দলের মহানগর দক্ষিণ কমিটিও সেই অর্থে সক্রিয় ছিলো না। এই বিষয়ে প্রার্থীর মুখেই হতাশাজনক কথা শোনা গেছে।

উভয় ঢাকাতেই নির্বাচনী প্রচারনায় দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সেই অর্থে দেখা যায় নাই। যদিও শীর্ষ দুই নেতার উপস্থিতির দিনে অনেকেই ছিলেন। সহযোগী সংগঠনগুলোর কার্যক্রম ছিলো দায়সারা গোছের। সার্বিকভাবে পর্যবেক্ষকদের মনে হয়েছে যে, লো প্রোফাইল নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কারণেই এমনটা হয়েছে।

প্রশ্ন-৫ : আমরা ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তরের ইশতেহার দুইটা পর্যালোচনা করেছি। ইশতেহারের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলার চেয়েও যেটা বেশী দৃষ্টিকটু মনে হয়েছে যে, উভয় ইশতেহারের মধ্যে মুল সুরের মিল থাকলেও উপস্থাপনা, ইশতেহারের বিষয় নির্ধারন, বিষয়ের গুরুত্ত্ব নির্ধারণে দুই ইশতেহারে মিলের চেয়ে অমিল বেশী ছিলো। এই বিষয়টি বোধগম্য না। একই দলের একই নির্বাচনে এতো বেশী বৈসাদৃশ্য দলের সমন্বয়হীনতার বহিঃপ্রকাশ কিনা সেই প্রশ্ন উঠছে।

প্রশ্ন-৬ : ইশতেহারের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলার মতো যথেষ্ট কারণ রয়েছে। বিশ্বব্যাপী ইসলামপন্থীদের ব্যাপারে নেতিবাচক প্রচারনা আছে। বাংলাদেশেও সেই প্রচারণা প্রবল। সাম্প্রতিক ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দেশের সবচেয়ে সক্রিয় ইসলামপন্থী সংগঠন।  এই সংগঠনের ওপরে মানুষের নজর আছে। সেই কারণে এই ইশতেহারে দলের নীতিগত ভাবনা ও অবস্থান স্পষ্ট করার দরকার ছিলো। সেটা করা হয়নি।

উত্তর ও দক্ষিণের ইশতেহারের মধ্যে তুলনামূলক উত্তরের ইশতেহারে নগরের নাগরিক সমস্যার সুনির্দিষ্ট উল্লেখ ও তার সমাধান প্রস্তাব করা ছিলো। যদিও সমাধানগুলো আরো সুনির্দিষ্ট, বুদ্ধিদীপ্ত, বাস্তবসম্মত  এবং জ্ঞানগর্ভ হওয়া দরকার ছিলো।

অন্যদিকে দক্ষিণের ইশতেহার ছিলো গৎ বাক্যের সমাহার। সেখানে এমন কিছু প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে যা আদৌও সিটি কর্পোরেশনের কাজের আওতাধীন নয়। সিটির সমস্যাগুলোর গভীরে না গিয়ে ভাসা ভাসা সমস্যা তুলে ধরা হয়েছে। এবং সব সমস্যার কমন সমাধান, “করা হবে, কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে” ধরণের সস্তা ও অস্পষ্ট সমাধান দেয়া হয়েছে। এতে করে সচেতন মানুষের কাছে এটা মনে হতে বাধ্য যে, এরা আদতে নগরের সমস্যা ও কাজ সম্পর্কে এবং সেই সমস্যার সমাধান সম্পর্কে জানে না। এতে সংগঠনের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।

প্রশ্ন-৭ : ঢাকা উত্তরের ইশতেহার ঘোষণার সময়ে দলীয় প্রধান উপস্থিত ছিলেন। দক্ষিণের ইশতেহার ঘোষনার সময়ে দলীয় প্রধান উপস্থিত ছিলেন না।

এখানে যে প্রশ্নটা দেখা দিয়েছে যে, স্থানীয় নির্বাচনের ইশতেহার ঘোষণায় দলীয় প্রধানের উপস্থিত হওয়া না হওয়ার বিষয়টি কি সংগঠনের কোন বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্তের ফসল? যদি হয় তাহলে একই নির্বাচনের দুই অংশে দুই রকম কেন?

নাকি আমীরের উপস্থিতি আকস্মিক? সুযোগ হয়েছে উপস্থিত ছিলো বা সুযোগ ছিলো না তাই উপস্থিত হয়নি?

নাকি ঢাকা উত্তরকে প্রধান্য দেয়া হয়েছে আর দক্ষিণকে উপেক্ষা? নাকি দক্ষিণের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি আমীরের উপস্থিতিকে গুরুত্ত্ব দেয়নি? গোটা বিষয়টা নিয়েই অনেকগুলো প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে।

প্রশ্ন-৮ : নির্বাচনকালীন উত্তর ও দক্ষিণের প্রেসগুলো দেখলে একটা জিনিস স্পষ্টত চোখে পড়বে যে, উত্তরের প্রেস বিজ্ঞাপ্তিগুলো বিষয়ভিত্তিক ও ধারাবাহিক বক্তব্য আকারে যাচ্ছে। অন্যদিকে দক্ষিণের গুলো অপরিকল্পিতভাবে যাচ্ছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ঢাকা মহানগরের দুই অংশে দুই রকম প্রেস সচেতন মহলকে বিস্মিত করেছে।

প্রশ্ন-৯ : বাংলাদেশের মতো দেশে নির্বাচন বহু অংশে ব্যক্তি ইমেজ কেন্দ্রিক। এমনকি দলীয় গ্রহণযোগ্যতাও তৈরী হয় ব্যক্তি তৈরীর মাধ্যমে। ঢাকায় মেয়র নির্বাচন করার জন্য তফসিল ঘোষনার পরে প্রার্থী ঠিক করে কাজে নামলে সফলতা আশা করা কঠিন। বাস্তবতা হলো, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তাই করেছে। এবং নির্বাচনের পরে জনাব মাসউদ ও জনাব আব্দুর রহমানকে আর কোন নাগরিক সমস্যায় দেখা যাচ্ছে না এবং সম্ভবত আর দেখাও যাবে না। আগামী নির্বাচনের জন্য এখন থেকেই কি মাঠে থাকা উচিৎ না?

প্রশ্ন-১০ : এবারের নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীদেরকে “ইসলামপন্থীদের একক মেয়র প্রার্থী” বলে প্রচারনা চালানো হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ঢাকার সকল ইসলামপন্থী শক্তিগুলোর সাথে কি কোন রকম আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক আলোচনা করা হয়েছে? প্রার্থী দেয়ার আগে বা পরে কেন্দ্রীয়ভাবে দলীয় প্রধান যদি সকল ইসলামপন্থী শক্তিগুলোর কথা বলতেন তাহলে ভোটের হিসেব ভিন্ন রকম হওয়ার কথা।

প্রশ্ন-১১ : ঢাকার উচ্চবিত্তের কাছে পৌছানোর কোন চেষ্টা দৃশ্যমান হয়নি। আদৌও ছিলো কি? কেবল সিটি নির্বাচনই নয় বরং এই দলটি কী কোনভাবেই এ দেশের উচ্চবিত্তদের কাছে যাওয়ার কোন প্রচেষ্টা করে?

প্রশ্ন-১২ : প্রচারনায় সেই অর্থে কোন নতুনত্ব ছিলো না। ঢাকা উত্তরে কিছু ভিডিও নির্মান করা হয়েছে তবে সেগুলোতে অপরিপক্কতার ছাপ স্পষ্ট ছিলো।

সম্পূরক প্রশ্ন : নির্বাচন উত্তর কোন পর্যালোচনা মিটিং কি হয়েছে? এবং এই নির্বাচনের শিক্ষাগুলো কি কোথাও সংরক্ষিত হচ্ছে?

এভাবে আরো অনেক প্রশ্ন তোলা যায়। বিশ্বাস করি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অভ্যন্তরেও এগুলো নিয়ে আলোচনা হয়।

আশা করি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দ এটা জানেন যে, নির্বাচন আজকাল অনেক বেশী জটিল। ভারতেও নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রফেশনাল ও কমার্শিয়াল ফার্ম আছে। রাজনৈতিক দলগুলো শতকোটি টাকা খরচ করে তাদের থেকে নির্বাচনী কৌশল কেনে।

এমন পরিস্থিতি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মতো একটি সম্ভাবনাময় সংগঠন নিশ্চই নির্বাচন পরিচালনার জন্য, নির্বাচনী কৌশল নির্ধারন করার জন্য এবং নির্বাচনে জনমানুষের মনোযোগ আকর্ষণের জন্য প্রফেশনাল টিমকে নিয়োগ করেছে। যারা নির্বাচন নিয়ে বছরজুড়ে গবেষনা করে আগামী নির্বাচনের রণকৌশল নির্ধারণ করবে।

এই আশা যদি সত্য হয় তাহলে আগামীতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে নিয়ে স্বপ্ন দেখার যথেষ্ট কারণ আছে। আর তা না করে যদি গতানুগতিক তফসিল এলে ঝাঁপিয়ে পরে ভোটের পরে হারিয়ে গেলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নিয়ে মানুষের আশার জায়গাগুলো ক্রমেই হারিয়ে যাবে।

তুরস্কের সাদাত পার্টির মতো ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও একদিন হয়তো সম্ভবনার কংকালে পরিনত হবে।

আল্লাহ তায়ালা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে সমকালের কৌশল ও ভাষা বোঝার তৌফিক দান করুন।

লেখক : বিশ্লেষক, রাজনৈতিক, সমালোচক।

[রাজনৈতিক বিশ্লেষণের স্থান থেকে লেখাটি প্রকাশ করা হয়েছে। যেহেতু ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় রাজনৈতিক দল। লেখক একজন দক্ষ ও পরিচিত রাজনৈতিক বিশ্লেষক। বিশেষ কারণে তিনি তাঁর নাম প্রকাশ করবেন না বলে মনস্থির করেছেন। আমরাও তাকে গোপন রেখেই লেখাটি প্রকাশ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ]

মন্তব্য করুন