চসিক নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আলহাজ্ব জান্নাতুল ইসলাম

চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন

প্রকাশিত: ৮:৩৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২০
আলহাজ্ব জান্নাতুল ইসলাম। চসিক মেয়র প্রার্থী।

আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। আজ ১৭ ফেব্রুয়ারী দলের নগর সভাপতি ও কেন্দ্রীয় শিল্প ও বানিজ্য বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব জান্নাতুল ইসলামকে হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী ঘোষনা করেন দলটির আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই)।

এ সময় পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, দেশের মানুষ এখন আওয়ামীলীগের দুঃশাসন ও স্বৈরাচারিতায় অতিষ্ট। সরকার নিজেদের এক নায়কতান্ত্রিক শাসনক্ষমতা আখড়ে ধরে রাখার জন্য জনগনের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমরা জনগনের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার আন্দোলন হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি।

এছাড়াও নির্বাচনে হাতপাখার প্রার্থী আলহাজ্ব জান্নাতুল ইসলাম জলাবদ্ধতা ও দূষণ এবং দুর্নীতিমুক্ত স্মার্ট সিটি গড়ার লক্ষ্যে জনগনের কাছে হাতপাখা প্রতীকে ভোট দেয়ার আহবান ও প্রতি প্রচারণা কাজে সহযোগিতা কামনা করেন।

অপরদিকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। এবারের মনোনয়নে সাবেক মেয়র আ জ ম নাসিরের পরিবর্তে সেখানে মনোনয়ন পেয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম রেজাউল করিম চৌধুরী। শনিবার রাত গণভবনে আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠকে এই মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হয়।

আগামী ২৯ মার্চ (রোববার) চসিকের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এদিন ভোটগ্রহণ হবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি (রোববার) নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চসিক ভোটের তফসিল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশন সচিব মো. আলমগীর।

তফসিল অনুযায়ী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিলের শেষ সময় ২৭ ফেব্রুয়ারি, মনোনয়নপত্র বাছাই ১ মার্চ, আপিল ২ থেকে ৪ মার্চ, প্রার্থিতা প্রত্যাহার ৮ মার্চ, প্রতীক বরাদ্দ হবে ৯ মার্চ। আর ভোটগ্রহণ হবে ২৯ মার্চ।

২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল ঢাকা মহানগরের উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন হয়েছিল। ভোটগ্রহণের পর মে মাসেই ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলরেরা দায়িত্ব নেন। কিন্তু চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন ও ৪১ ওয়ার্ডের কাউন্সিলরেরা দায়িত্ব নিয়ে প্রথম সভা করেছেন ২০১৫ সালের ৬ আগস্ট।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইনে বলা আছে, নির্বাচিত পরিষদের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম সভার পাঁচ বছর মেয়াদ পূরণের দিন থেকে ১৮০ দিন আগে পর্যন্ত যে কোনও দিন নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। সে হিসেবে ২০২০ সালের ৫ আগস্টের মধ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা ছিল।

প্রসঙ্গত : গত ১ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত ঢাকা সিটি নির্বাচনের দুই সিটিতেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তৃতীয় স্থানে ছিলো ভোটের হিসেবে। ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ২৬ হাজার ৫২৫ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী আলহাজ্ব আবদুর রহমান। উত্তর সিটি নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন অধ্যক্ষ শেখ ফজলে বারী মাসউদ। তিনি সেখানে ২৮ হাজার ২০০ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে ছিলেন।

ঢাকা সিটি নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ভোটের হিসেব দেখতে ক্লিক করুন

মন্তব্য করুন