স্বেচ্ছাশ্রমের বাঁশের সাঁকোই যখন মানুষের চলাচলের একমাত্র উপায়

প্রকাশিত: ১১:০৪ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২০

এম এ ইউসুফ আলী, রাঙ্গাবালী, পটুয়াখালী: পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের মৌডুবীতে জাহাজমারা সমুদ্র সৈকতের পর্যটকসহ ৪টি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষের প্রতিদিনের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা চরবগলার ভারানির খালের ওপর বাঁশের সাঁকো। এই সাঁকোটি এলাকার জনগণ নিজেদের অর্থায়নে স্বেচ্ছাশ্রমে তৈরি করেছেন।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের মৌডুবীর চরবগলার ভারানির খালের ওপর এলাকাবাসী নিজ উদ্যোগে প্রায় ২১ বছর আগে একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করেন; যা দুই বছর পর পর নতুন করে নির্মাণ করতে হয়। এই সাঁকোটি তারা নিজেদের উদ্যোগে সংস্কারও করে আসছেন। বর্তমানে সাঁকোটি নড়বড়ে হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ৬টি স্কুল, কলেজ, মাদরাসার শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করে। এই সেতু দিয়ে চলাচলে এলাকার জনগণের নানা দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন।

ভূইয়াকান্দা গ্রামের ব্যবসায়ী বেল্লাল ভূইয়া বলেন, বছরের পর বছর ধরে এতগুলা গ্রামের মানুষ এই বাঁশের সেতু দিয়া চলাচল করে আসতেছে। রাতের বেলা টর্চ দিয়া পা টিপ টিপ করে চলা লাগে। পড়ে যাবার ভয় থাকে।’ এই সাকোঁ দিয়ে অনেকেই পড়ে গেছেন।এভাবে জীবনের ঝুকিঁ নিয়ে মানুষ চলাচল করে।

মৌডুবী সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাকিল ইসলাম বলেন, সাঁকো পার হয়ে আমাদের স্কুলে যেতে হয়। এই সাঁকো দিয়ে স্কুলে যাওয়ার সময় অনেকে পানি পড়ে গেছে।এজন্য ছাত্র/ছাত্রীরা স্কুলে ঠিকমত যেতে চায় না। আমিও কয়েকবার সাইকেল নিয়ে স্কুলে যাওয়ার সময় পানিতে পড়ে গেছি।

এ ব্যাপারে বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু হাসানাত আবদুল্লাহ বলেন, ঐ বাশের সাকোঁ দিয়ে এলাকার জনগন,স্কুল/কলেজ/মাদসার ও জাহাজমারা সমুদ্র সৈকতের পর্যটক আশা যাওয়া করে।যার জন্য এখানে ভালো মানের একটি ব্রিজ দরকার।তাহলে এই মানুষ গুলোর ভোগান্তি আর হবে না।যাতে করে এখানে ব্রিজ হয় এজন্য আমি উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করব।

এ ব্যাপারে রাঙ্গাবালী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তপন কুমার ঘোষ বলেন, এটা পরিদর্শন করে প্রস্তাব ইতিমধ্যে অধিদপ্তরে পাঠোনো হয়েছে। অল্পদিনেই টেন্ডার আহবান করা হতে পারে।

/এসএস

মন্তব্য করুন