অভিভাবকহীন জবি ছাত্রলীগ: কর্মীদের গ্রুপ উপগ্রুপে বিভক্তি

প্রকাশিত: ১০:২০ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২০

ফয়সাল আরেফিন, জবি প্রতিনিধি : জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে প্রায় এক বছর আগে। এরপর থেকে যোগ্য নেতৃত্ব খুঁজে পেতে ব্যর্থ হওয়া ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় শীর্ষ পদের নেতাদের আকষ্মিক বদলির কারণে ছাত্রলীগের এই ইউনিটের কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি। এতে সংগঠনটির স্বাভাবিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। নেতাকর্মীরা হয়ে পড়েছেন বিভিন্ন গ্রুপ-উপগ্রুপে বিভক্ত।

তাই কমিটি বিলুপ্তির প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো কমিটি হয়নি ছাত্রলীগের অন্যতম ‘সুপার ইউনিট’ খ্যাত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের।

বিলুপ্তির পর গত বছরের ২০ জুলাই পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। জবির সম্মেলনকে ঘিরে দেখা দেয় নানান ধরনের বিতর্ক।

তুচ্ছ ঘটনায় কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে সম্মেলনের আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করে সম্মেলন করা। সম্মেলন দিন নিদিষ্ট সময়ে সম্মেলনের কার্যক্রম শুরু না করা, সম্মেলনে অতিথিদের বসিয়ে রেখে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি-সেক্রেটারি দেরি করে আসা। এর মাঝে ঘটে যায় ছাত্রলীগের ইতিহাসে এক মর্মান্তিক ঘটনা। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ওয়াসী নামের এক কর্মীর জয় বাংলা স্লোগান দিতে দিতে মৃত্যু হয় সম্মেলন মাঠেই।

সব মিলিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সম্মেলন নিয়ে অসঙ্গতি প্রকাশিত হয়েছিলো বিভিন্ন গণমাধ্যমে। এর কিছুদিন পরেই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, টাকার বিনিময়ে কমিটি দেওয়া সহ নানান অভিযোগে কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙ্গে দেওয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী এবং বিলুপ্ত হয় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিও!

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব নেয়ার পরেও এখন পর্যন্ত জবি শাখার কমিটি ঘোষণা করতে পারেনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। এদিকে ছাত্রলীগের কোন কমিটি না থাকায় স্থবির হয়ে পড়েছে ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যাপীঠের ছাত্র রাজনীতি। সাধারণ কর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে হতাশা।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কমিটি অতি দ্রুতই দেয়া হবে। শুধু এই ইউনিটই নয় দেশের যেসব ইউনিট এখনো নেতৃত্বহীন আছে তাদের এ মাসের মধ্যেই কমিটি দেয়া হবে এবং মুজিব বর্ষের প্রোগ্রাম নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমেই পালন করা হবে’।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি প্রেমঘটিত তুচ্ছ কারণে শাখা সভাপতি তরিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক শেখ জয়নুল আবেদিন রাসেলের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জবি শাখা ছাত্রলীগের সকল সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করে কেন্দ্রীয় কমিটি। তবে কেন্দ্রের নির্দেশ অমান্য করে বিশ্ববিদ্যালয়ে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং অন্যান্য পদধারী নেতারা নিজেদের অবস্থান জানিয়ে মহড়া দিতে থাকে।

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি আবারও ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দিনভর সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে সাংবাদিকসহ ৪০ জন আহত হয়। পরে ১৯ ফেব্রুয়ারি ছাত্রলীগের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সভাপতি শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী এই শাখা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। একই সাথে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের সকল সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করে।

/এসএস

মন্তব্য করুন