ভোলার শশীভূষণ থানার ওসি অপসারণের দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

প্রকাশিত: ১২:১৮ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২০

ভোলা প্রতিনিধি: মাদ্রাসার শিক্ষকের সাথে অশোভনীয় আচারণ করায় ভোলার শশীভূষণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলামের অপসারণের দাবীতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেছে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

বৃহষ্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে চরফ্যাশন উপজেলার শশীভূষণ থানার আনজুর হাট সিনিয়র আলিম মাদ্রাসার সামনে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সাথে অভিভাবকরাও অংশগ্রহন করেন।

এসময় মানববন্ধনে অংশগ্রহনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা জানায়, বুধবার দুপুরে শশীভূষণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম আনজুরহাট সিনিয়র মাদরাসায় বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং ও মাদক বিরোধী সচেতনতামূলক সভা করতে আসেন।

মাদরাসার হলরুমে সভা শুরুর আগে মাদরাসার সহকারী শিক্ষক মহিবুল্যাহ চর কলমী ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার পরিচয় জানার পর ওসি তার উপর চড়াও হন। উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মনিরুল ইসলাম ওই শিক্ষককের উপর চড়াও হন ও তাকে গ্রেফতারের হুমকী দেন।

পরে হলরুমে পূর্বনির্ধারিত সচেতনতামূলক সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে ওসি মনিরুল ইসলাম সকলের সামনে শিক্ষক মহিবুল্যাহর নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তার কাছে পড়ে শিক্ষার্থীরা মানুষ হবে না বলেও আপত্তিকর মন্তব্য করেন। আমরা ওসি মনিরুল ইসলামের অপসারণসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

ভূক্ষভোগী শিক্ষক মহিবুল্যাহ জানান, ওসি তার বিরুদ্ধে বাল্যবিবাহের অভিযোগ তোলেন। বিবাহ রেজিস্ট্রির ক্ষেত্রে জম্মনিবন্ধন গ্রহযোগ্য নয় বলে দাবী করেন ওসি। তার জবাবে মহিবুল্যাহ ‘জম্ম নিবন্ধন গ্রহনযোগ্য বলে গেজেট আছে’ দাবী করায় ওসি তার উপর চাড়াও হন এবং শিক্ষার্থী ও উপস্থিত লোকদের সামনে তাকে অপমান করেন।

শশীভূষণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম অভিযোগ সম্পর্কে বলেন, আমি ওই ইউনিয়নে বাল্যবিবাহ বেশী হওয়ায় নিকাহ রেজিস্টার হিসেবে মহিবুল্যাহের কাছে জম্মনিবন্ধন যাচাই বাছাই সম্পর্কে জিজ্ঞেস করায় তার সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এখন সে আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন জায়গায় বলে আমি নাকি তাকে অপমান করেছি।

লালমোহন সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাসেলুর রহমান জানান, আমি বুধবার ছুটিতে ছিলাম। যতটুকু জানি ওই প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষককের সাথে ওসির ভুল বুঝাবুঝি থেকে এ মানববন্ধন হয়েছে। মূলত ওই শিক্ষক বিভিন্ন সময় বাল্য বিবাহ পড়ায়। বিষয়টি ওসি মনিরুল ইসলাম তাকে (মহিবুল্যাহকে) বলছে আপনার বিরুদ্ধে বাল্যবিবাহ পড়ানোর অভিযোগ আছে। তাই সে এগুলো করাচ্ছে।

/এসএস

মন্তব্য করুন