সংসদের আলোচনায় বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকীতে কলরবের পরিবেশনা চাইলেন নদভী

প্রকাশিত: ৩:৩৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২০

জাতীয় ইসলামী সাংস্কৃতিক সংগঠন কলরব নিয়ে জাতীয় সংসদে কথা বললেন চট্টগ্রামের সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনের এমপি বর্ষীয়ান রাজনীতিবীদ ও আলেম ড. আবু রেজা নদভী এমপি।

গতকাল ১৩ ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার একাদশ জাতীয় সংসদের ৬ষ্ঠ অধিবেশনের প্রশ্ন জিজ্ঞাসা এবং উত্তর পর্ব এবং জরুরী জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয় সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে তিনি কলরব বিষয়ে আলোচনার আবতারণা করেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানের বিভিন্ন আয়োজনের সাথে আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতা এবং ইসলামী সঙ্গীতশিল্পীদের মাধ্যমে কিছু প্রোগ্রাম রাখারও অনুরোধ করেন তিনি।

তিনি কলরব শিল্পীদের সংগীতের প্রশংসা করে বলেন, কলরবের শিল্পীরা বঙ্গবন্ধু ও দেশ নিয়ে হৃদয়াগ্রহী সংগীত পরিবেশনা করতে পারবে। তাদের দেশত্মবোধক সংগীতগুলো শ্রোতাদের হৃদয়ে রেখাপাত করে বলেও বলেন তিনি। তাই বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে তাদের পরিবেশনা এই অনুষ্ঠানকে আরও সুন্দর করে তুলবে বলে মতামত নদভীর।

সংসদের তাঁর নির্ধারিত আলোচনার শুরুতে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করেন এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন (বীর বিক্রম) এর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন।

তিনি তাঁর আলোচনায় কুরআন হাদিস ভিত্তিক বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন। বিশেষ করে বর্তমান সময়ের আলোচিত বিষয় ওয়াজ-মাহফিল নিয়ে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা করেন।

গালী দেওয়া এবং জামায়াত আদর্শের বক্তাদের ব্যাপারে সংসদে আলোচনা নদভীর

আওয়ামীলীগ কখনও ওয়াজ-মাহফিলে বাধা দেয় না উল্যেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে তিন ধরণের বক্তা রয়েছে। ১. একদল যারা ওয়াজ করতে উঠেই অপরপক্ষের বক্তাদের গালী দেন বা বিভিন্নভাবে গালীগালাজ করেন। ২. আর একদল বক্তা আছে যারা ওয়াজ করতে উঠেই বিভিন্নভাবে রাজনৈতিক অপব্যাখ্যা দেন বা জামায়াতের আদর্শ বাস্তবায়নের ওয়াজ করেন। ৩. অপরদল যারা রয়েছেন তারা পবিত্র কুরআন হাদিস এবং সহিহ আকিদা ভিত্তিক বিষয় নিয়ে কথা বলেন। এবং তারা হলেন দেওবন্দী ওলামায়ে কেরাম।

তিনি দাবি জানিয়ে বলেন, এই তিন প্রকার বক্তাদের মধ্যে যারা পবিত্র কুরআন হাদিসভিত্তিক কথা বলেন এবং সহিহ আকিদা ভিত্তিক বয়ান করেন তারা কেবল ওয়াজ মাহফিল করতে পারবেন এমন একটি আইন জারি করতে হবে বাকি দুই ধরণের বক্তাদের আলোচনা বন্ধ করে দেওয়ার আহবান জানান তিনি। কারণ এতে ধর্মীয় ফেৎনা সৃষ্টি হয় বলে তিনি মনে করেন।

তিনি নিজ এলাকার ওয়াজ-মাহফিলওয়াজ-মাহফিলের কথা উল্যেখ করে বলেন, আমার এলাকায় আমি অনেকটাই নিয়ম করে দিয়েছি কোন ফেৎনা সৃষ্টি করা বা পরস্পর গালীগালাজ করা বক্তাদের ওয়াজ মাহফিল নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এসব বিষয়ে কড়া দৃষ্টি রাখারও নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

তাঁর আলোচনার সূত্রে তিনি বর্তমানের আলোচিত বক্তা মিজানুর রহমান আযহারী নিয়েও কথা বলেন। তিনি আযহারী সম্পর্কে বলেন, আযহারী অনেক বছর আগে আমার সাথে একবার দেখা করেছে কিন্তু তাঁর আলোচনায় এ বিষয়টা স্পষ্ট যে তিনি জামায়াতের আদর্শ বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করছেন এবং জামায়াতী আদর্শ নিয়েই বয়ান করছেন। তাছাড়া বিগত শতাব্দীকাল ধরে মিমাংসিত অনেক বিষয় নিয়েও তিনি ভুলভাল বক্তব্য দিচ্ছেন।

তাই, এই ধরণের বক্তা যারা আছে তাদের ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থাসহ একটি নির্দিষ্ট নির্দেশনারও অনুরোধ করেন তিনি। সাথে সাথে তিনি মিজানুর রহমান আযহারীর ব্যাপারে বলেন, তিনি মালয়েশিয়া চলে গেছেন সেখান থেকে আর ফিরে না আসাটাই ভালো হবে।

সর্বশেষ তিনি তার নির্ধারিত আলোচনায় তাঁর নিজ এলাকা লোহাগড়া-সাতকানিয়ায় একটি ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করবো লোহাগাড়া সাতকানিয়া এলাকায় একটি ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠা করার জন্য সাথে সাথে তিনি এই ইকনোমিক জোন প্রতিষ্ঠার জন্য আরব দেশসমূহ থেকে ইনভেস্টার জোগাড় করে দিতে পারবেন বলেও জানান।

আযহারী জামায়াতের প্রোডাক্ট, কোরআন-হাদীসের নামে আজেবাজে কথা বলে’ : ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

আমি কোনও দলের এজেন্ট বা প্রোডাক্ট নই: আজহারী

জনপ্রিয়তা নয় আযহারীর মাসয়ালাগত ভুল বর্ণনাই বিরোধীতার কারণ : মুফতী মিছবাহ

মুহতারাম আযহারী : একটি কেনর উত্তর খুঁজে বের করুন

আমাকে জড়িয়ে কাউকে গালীগালাজ করবেন না : আযহারী

আযহারীর মালয়েশিয়া যেতে বাধ্য হওয়ার দায় জামায়াতকেই নিতে হবে

মন্তব্য করুন