বইমেলায় আসছে রেজাউল করীম আবরারের ‘ওরিয়ান্টালিজম : স্বরূপ সন্ধান’

প্রকাশিত: ৯:২৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২০

প্রতিভাবান লেখক ও মেধাবী তরুণ আলেম মুফতী রেজাউল করীম আবরারের বিশ্লেষণধর্মী বই ‘ওরিয়ান্টিলজম: স্বরূপ সন্ধান’-এর মোড়ক উম্মোচন হবে আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারী রবিবার। বইমেলার ১৫ তম দিন থেকে তাত্বিক বিশ্লেষণধর্মী এই বইটি মেলার ৪২৬ নং স্টলে পাণ্ডুলিপি প্রকাশন-এ পাওয়া যাবে।

বইটি সম্পর্কে লেখক বলেন, প্রাচ্যবিদদের কুরআন এবং হাদিসের প্রামানিকতার উপর কৃত বিভিন্ন আপত্তির দলিলভিত্তিক জবাবের ওপর ভিত্তি করেই বইটি লেখা হয়েছে। বইটিতে প্রমান করে দেখানো হয়েছে যে, প্রাচ্যবিদরা পবিত্র কুরআন ও হাদিসের ওপর যেসব আপত্তি তুলেন তা নিতান্তই ভুল বা অজ্ঞতাবশত তুলে থাকেন। যেসব অভিযোগের স্পষ্টত জবাব এই বইয়ে পাওয়া যাবে।

রেজাউল করীম আবরার একজন তরুণ, মেধাবী আলেম। তিনি এ পর্যন্ত প্রায় ১৪টির বেশি বই লিখেছেন। একজন উদ্যোমী এবং জ্ঞানপিপাসু আলেম হিসেবে তাঁর রয়েছে ব্যপক সুখ্যাতি। ইসলামের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তার লিখিত তাত্বিক বিষয়ের বিভিন্ন বই পাঠকদের মন জয় করতেও সক্ষম হয়েছে। তাঁর লিখিত অন্যান্য বইসমূহ হলো, ১. দাজ্জাল ২. বারো মাসের করণীয় ও বর্জনীয় ৩. অালোর মিনার ৪. আপনি কীভাবে নামাজ পড়বেন? ৫. কালেমার প্রামাণিকতা ৬. ইসলাম ও কুফরের সংঘাত ৭. কুরআন সুন্নাহর আলোকে বেদআত ৮. জান্নাতে যাওয়ার হাজার পথ ৯. হাদীস ও ফিকহের অনন্য ব্যক্তিত্ব ইমাম আযম আবু হানিফা ১০. তারাবীর নামায, একটি তাত্ত্বিক পর্যালোচনা ১১. শামায়েলে তিরমিজি, ১২. প্রাচ্যবিদদের নখরদন্ত ও সর্বশেষ ১৩. ওরিয়ান্টালিজম : স্বরূপ সন্ধান।

তাঁর লিখিত এই বইটির মূল্যায়ন করতে গিয়ে লেখক- সম্পাদক, দার্শনিক আলেমে দীন মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী লিখেছেন,

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করেছেন ১১ হিজরিতে। এরপর সময়ের আবর্তে হয়েছে ১৪ শত বছরের বেশি। বিভিন্ন ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে ইসলাম আজও পৃথিবীতে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। কালের পরিক্রমায় কাফেরদের হাতে মুসলমানরা হয়ত মার খেয়েছে, পরাজিত হয়েছে, কিন্তু ইসলামের মৌলিক আকিদা বিশ্বাসের উপর শত্রুরা কখনো চিড় ধরাতে পারে নি।

ক্রুসেড বললে পৃথিবীর সকল মুসলমানের হৃদয়ে ভেসে উঠে একটি ধর্ম যুদ্ধের কথা। খ্রিস্টানরা মুসলমানদের নাম নিশানা মুছে ফেলার জন্য চেষ্টার কমতি করে নি। কিন্তু কখনো তরবারির যুদ্ধে মুসলমানদের সাথে পেরে ওঠে নি। ‘আইনে জালুত’ এর যুদ্ধের মাধ্যমে তরবারির ক্রুসেডের পরিসমাপ্তি ঘটে। এরপর শুরু হয় বুদ্ধিবৃত্তিক ক্রসেড।

বুদ্ধিবৃত্তিক ক্রুসেডে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে প্রাচ্যবিদরা। ইসলামের দোষ-ত্রুটি বের করার জন্য তার প্রচুর পড়াশুনা করেছে। হাদিস, ফিকহ নিয়ে হাজার হাজার পৃষ্ঠা রচনা করেছে। তাদের মূল টার্গেট ছিল ইসলাম সম্পর্কে মুসলমান তরুণদের মাঝে সংশয় ছড়িয়ে দেওয়া। কারণ, ইসলামের ইসলামের অকাট্য কোন বিধানের ব্যাপারে যদি সুকৌশলে কোন মুসলানের অন্তরে সংশয় তৈরী করা যেতে পারে, তাহলে সে নিজের অজান্তে মুরতাদ হয়ে যাবে।

প্রাচ্যবিদরা ইনিয়ে- বিনিয়ে কুরআনের ব্যাপারে সংশয় তৈরী করার জন্য কিছু অভিযোগ উত্থাপন করেছে। যদিও সে অভিযোগগুলো দিয়ে মুসলমানদের অন্তরে তেমন সন্দেহ তৈরী করতে পারে নি। হাদিসের প্রামাণিকতার ব্যাপারে সংশয় তৈরী করার জন্য তারা প্রাণান্তকর চেষ্টা করেছে। আবু হুরায়ারা রা. সহ অনেক সাহাবীর ব্যাপারে বিভিন্ন ধরণের অভিযোগ তুলে সাহাবাদের অভিযুক্ত করার চেষ্টা করেছে। এ ক্ষেত্রে ড. গুল্ড জেহির এবং আহমদ রিয়্যা উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। গুল্ড জেহির অভিশপ্ত ইয়াহুদি ছিল। ইসলামের লেবাস পরিধান করে সে সাহাবাদের নামে বিভ্রান্তিকর অভিযোগের স্তুপ জমা করেছে।
প্রাচ্যবিদদের নিয়ে আরবি এবং উর্দূ ভাষায় প্রচুর লেখালেলি হয়েছে। ড. আবু শাহাবা, ড. মুসতাফা আস সিবায়ি রাহি. সহ অনেকেই শক্ত হাতে প্রাচ্যবিদদের বিষদাঁত ভেঙ্গে দিয়েছেন। প্রাচ্যবিদদের আরোপিত অভিযোগগুলো এখন নাস্তিকদের কারণে বাংলা ভাষায়ও চর্চিত হচ্ছে। সুখের কথা হলো, বাংলাদেশের অনেক তরুণ এ বিষয়ে কলম ধরতে শুরু করেছেন।

এ বইয়ের লেখক মুফতী রেজাউল কারীম আবরার একজন প্রতিশ্রুতিশীল গবেষক আলেম। ইতিমধ্যে তার বেশ কয়েকটি বই পাঠকমহলে সমাদৃত হয়েছে। বিজ্ঞ উলামা মহলেও এসব বই আলোচিত হচ্ছে। প্রাচ্যবিদদের অভিযোগ নিয়ে তার লিখিত এ বইয়ের অংশবিশেষ দেখে বুঝতে পেরেছি যে, যথেষ্ট পরিশ্রম করে বিশুদ্ধ উৎস থেকে লেখক এ সংকলনটি তৈরী করেছেন। বাংলাভাষী পাঠকসমাজের জন্য এটি খুব উপকারী সাব্যস্ত হবে বলে আমার বিশ্বাস। আমি লেখকের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি। তিনি নানা কারণেই আমার খুব প্রিয়ভাজন একজন প্রতিভাবান নবযুবক। আল্লাহ তাকে দীর্ঘ নেক ও কর্মময় জীবনের অধিকারী করুন।

মন্তব্য করুন